• রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ০৫:১৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
এমপি আজীমকে আগেও তিনবার হত্যার পরিকল্পনা হয়: হারুন ঢাকাবাসীকে সুন্দর জীবন উপহার দিতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের শিখরে পৌঁছাতে সংসদীয় সরকারের বিকল্প নেই: ডেপুটি স্পিকার হিরো আলমকে গাড়ি দেওয়া শিক্ষকের অ্যাকাউন্টে প্রবাসীদের কোটি টাকা আশুলিয়ায় জামায়াতের গোপন বৈঠক, পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার ২২ এমপি আজীমের হত্যাকারীরা প্রায় চিহ্নিত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পত্রিকার প্রচার সংখ্যা জানতে নতুন ফর্মুলা নিয়ে কাজ করছি: তথ্য প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রাম বন্দরে কোকেন উদ্ধারের মামলার বিচার শেষ হয়নি ৯ বছরও বিচারপতি অপসারণের রিভিউ শুনানি ১১ জুলাই দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে ইউসেফ কাজ করছে: স্পিকার

কারিগরির সনদ বাণিজ্য: জিজ্ঞাসাবাদে দায় এড়ানোর চেষ্টা সাবেক চেয়ারম্যানের

Reporter Name / ১৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক :
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সনদ জালিয়াতির ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদে নিজের দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান আলী আকবর খান। তবে ডিবি পুলিশ তাকে দুদিনের সময় দিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন, এরমধ্যে অভিযোগ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেয়ার সুযোগ পাবেন তিনি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি অভিযোগের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা না দেন এবং সনদ জালিয়াতিতে তার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায় তবে আলী আকবরের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। আজ মঙ্গলবার কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সনদ জালিয়াতির ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান আলী আকবর খানকে ডিবি কার্যালয়ে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদের পর সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি। হারুন অর রশীদ বলেন, আগারগাঁও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সিস্টেম অ্যানালিস্ট শামসুজ্জামানের বাসায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। সেখানে কারখানা তৈরি করে সনদ বানানো হচ্ছিল। তিনি কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে কি করে হাজার হাজার কাগজ এনে জালিয়াতি করতেন। এই সনদ জালিয়াতির ঘটনায় আমরা ৬ জন গ্রেপ্তার করেছি, এরমধ্যে পাঁচজন সব দোষ স্বীকার করেছে। এর সঙ্গে আর কারা কারা জড়িত ও দায় রয়েছে সে সম্পর্কে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। সদ্য ওএসডি হওয়া বোর্ডের চেয়ারম্যানের স্ত্রীকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তিনি জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন যে, তিনি সিস্টেম অ্যানালিস্ট শামসুজ্জামানের কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন। শামসুজ্জামান ও কারিগরির চেয়ারম্যানের স্ত্রী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আমরা কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সদ্য ওএসডি হওয়া চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে আমরা ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। আমরা জানতে চেয়েছি, ওয়েবসাইটের পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে আপলোড করা সনদ অনিয়ম করা হয়েছে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস! কীভাবে? তিনি একজন চেয়ারম্যান। তিনি নির্দেশনা নেতৃত্ব দেন। সেই প্রতিষ্ঠান থেকে কাগজ নিয়ে যাচ্ছে, সিসিটিভি আছে, তারা দেখছেন। এই জালিয়াতি হলো! আবার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সার্টিফিকেটগুলোয় স্বাক্ষর করে গেছেন মাসের পর মাস। কলেজগুলোর পরীক্ষার সঙ্গে মিলিয়ে দেখে সার্টিফিকেটে স্বাক্ষর করা, তিনি সেটি করেননি। হারুন বলেন, এই ঘটনাগুলো কি অবহেলায়, চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক করেছেন? নাকি স্বপ্রনোদিতভাবে করেছেন কিনা জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। কেন জেনেও আপনানা ব্যবস্থা নিলেন না? তখন চেয়ারম্যান ডিবিকে বলেছেন, তাদের লোকবল কম ছিল, তাই নজরদারি সম্ভব হয়নি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সার্টিফিকেট কেনাবেচা হচ্ছে, সার্টিফিকেট বানানোর পর কারিগরি দর ওয়েবসাইটে আপলোড হচ্ছে। মানুষ সার্টিফিকেট কিনছে। জানার পরও এসব বলে দায় এড়াতে পারেন কি না? তখন চেয়ারম্যান বলেন, সেই দায় ইচ্ছাকৃত নাকি অনিচ্ছাকৃত? অবহেলা নাকি বায়াস্ট? স্ত্রীর বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। জানতেন না বলে দাবি করেছেন। ডিবি প্রধান বলেন, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের নজিরবিহীন জাল-জালিয়াতির ঘটনা ইতিহাসে শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য কলঙ্কিত ও কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত করার মতো ঘটনা। আমি মনে করে, কারিগরির চেয়ারম্যান দায় এড়াতে পারেন না। আমরা এখন দেখবো, তিনি আসলে আসল সনদ বিক্রির বিষয়টি জানতেন কি না? তিনি তো আসল সার্টিফিকেট বিক্রির মাধ্যমে শিক্ষা ও জাতির মেরুদ- ভেঙে দিয়েছেন। একটা মানুষ কতো পরিশ্রম করে ভালো রেজাল্ট করতে পারছে না, সেখানে পড়াশোনা না করেই টাকা দিয়ে আসল সার্টিফিকেট কিনে নিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সনদ জালিয়াতির ঘটনায় তার দায় সম্পর্কে সঠিক ব্যাখ্যা দিতে হবে। প্রয়োজনে তাকে এক-দুদিনের সময় দিবো। তিনি যদি সঠিক ব্যাখ্যা দিতে না পারেন আর আমরা যদি তার সংশ্লিষ্টতা বা অনৈতিক যোগসাজশের তথ্য-প্রমাণ পাই তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। জড়িত প্রত্যেককে আমরা একে একে আইনের আওতায় নিয়ে আসবো। কাউকে ছাড় দেব না। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা আরেকটু তদন্ত করবো। জানার পরও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হলো না? ইচ্ছেকৃত, অবজ্ঞা নাকি অনিচ্ছায় জেনেও ব্যবস্থা নেননি তা জানার চেষ্টা করবো। দায় এড়ানোর তো সুযোগই নাই। তিনি তো ইতোমধ্যে ওএসডি হয়েছেন। সার্টিফিকেটগুলো কারা কিনেছেন, কোথায় কোথায় বিক্রি হয়েছে। সেটা দেখা হবে। বুয়েটের একটা পরীক্ষক দল আসবেন। বিশ্লেষণ করে দেখা হবে আসলে কি পরিমাণ সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছিল। কি পরিমাণ টাকা লেনদেন করা হয়েছে। তদন্ত আরও চলবে। কারা টাকা দিয়েছে, কারা সনদ নিয়েছে। তারা কখন কাকে কি পরিমাণ টাকা দিয়েছেন! আর্থিকভাবে চেয়ারম্যান জড়িত তা খুঁজে বের করা হবে। সব কিছু তদন্ত করা হবে। তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও ডিবির নজরদারিতে থাকবেন কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ওএসডি চেয়ারম্যান আলী আকবর খান।
স্ত্রী কারাগারে: এদিকে জালিয়াতির মাধ্যমে সনদ বাণিজ্যের অভিযোগে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আলী আকবর খানের স্ত্রী মোছা. সেহেলা পারভীনকে (৫৪) দুই দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতাউল্লাহ তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে ২১ এপ্রিল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন অপর একটি আদালত। সেই রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লালবাগ গোয়েন্দা বিভাগের পরিদর্শক মো আমিরুল ইসলাম। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এ মামলায় বোর্ডের পরিদর্শন শাখা থেকে কম্পিউটার সেলের সিস্টেম এনালিস্ট এ কে এম শামসুজ্জামান আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে ঘটনার বিস্তারিত উঠে আসে। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সিস্টেম এনালিস্ট এ কে এম শামসুজ্জামানকে পরিদর্শন শাখা থেকে কম্পিউটার সেলের সিস্টেম এনালিস্ট হিসেবে পোস্টিংয়ের জন্য সেহেলা পারভীনকে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ নেন। পরবর্তীতে জাল সার্টিফিকেট তৈরিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করতে আরও তিন লাখ টাকা দেন। পরবর্তীতে ২০ এপ্রিল সেহেলা পারভীনকে উল্লিখিত ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি শামসুজ্জামানের কাছে থেকে তিন লাখ টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। স্বামী মো. আলী আকবর খান কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হওয়ায় তার স্বামীর দ্বারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিন লাখ টাকা গ্রহণের কথা স্বীকার করেন। তবে পাঁচ লাখ টাকা গ্রহণের কথা এড়িয়ে যান। সেই সুযোগে আসামি শামসুজ্জামান নির্ভয়ে জাল সার্টিফিকেট তৈরি করে দেশব্যাপী বিভিন্ন সার্টিফিকেট প্রত্যাশিতদের কাছে বিক্রি করে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে আপলোড করে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category