• সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন
  • ই-পেপার
সর্বশেষ
ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া আদায় করলে ব্যবস্থা বেনজীরের অঢেল সম্পদে হতবাক হাইকোর্ট তারেকসহ পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী দুয়েক সময় আমাদের ট্রলার-টহল বোটে মিয়ানমারের গুলি লেগেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যবসায়িদের প্রতি নিয়ম-নীতি মেনে কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান রাষ্ট্রপতির সহকর্মীকে হত্যাকারী কনস্টেবল মানসিক ভারসাম্যহীন দাবি পরিবারের বিনামূল্যে সরকারি বাড়ি গৃহহীনদের আত্মমর্যাদা এনে দিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী চেকিংয়ের জন্য গাড়ি থামানো চাঁদাবাজির অংশ নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সারা দেশে ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা কতজন জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট বান্দরবান থেকে কেএনএফের ৩১ জনকে পাঠানো হলো চট্টগ্রাম কারাগারে

কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের বিরোধে শাহাদাতকে হত্যা: র‌্যাব

Reporter Name / ১২৩ Time View
Update : রবিবার, ২১ আগস্ট, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক :
কুমিল্লার ধর্মসাগরপাড়ের নগর উদ্যানের পাশে কিশোর রবিউল হাসান শাহাদাতকে (১৫) কুপিয়ে হত্যায় জড়িত ছয় জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। আজ রোববার রাতে কুমিল্লার দেবিদ্বার ও কোতোয়ালি থানার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাং ‘রতন গ্রুপের’ প্রধান রতনসহ ছয় জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের দেখানো জায়গা থেকে দুটি সুইচ গিয়ার, চারটি বড় ছোরা ও একটি এন্টি কাটার উদ্ধার করা হয়। বেলা ১১টায় সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত র‌্যাব-১১ এর উপ-পরিচালক মেজর মো. সাকিব হোসেন। গ্রেফতারকৃতরা হলোÑফৌজদারী মফিজাবাদ কলোনীর আবুল কাশেমের ছেলে গ্যাং লিডার রতন (২০), জহির মিয়ার ছেলে আকাশ হোসেন (২০), শাহ আলমের ছেলে সিয়াম হোসেন (২০), ভাটপাড়া এলাকার মনিরুল ইসলামের ছেলে মো. তানজীদ (১৯), কালিয়াজুড়ি এলাকার মৃত মো. ফয়েজের ছেলে ইয়াসিন আরাফাত রাসেল (২১) ও বাঘমারা এলাকার মোহন মিয়ার ছেলে আসিফ হোসেন রিফাত (১৯)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানায়, নিহত শাহাদাত হোসেন ‘ঈগল গ্রুপের’ এর সদস্য। এই কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্যরা গত ৬ জুলাই রতন গ্রুপের একজনকে মারধর করে। এর জের ধরে উভয় গ্রুপের মধ্যে শত্রুতা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। রতন গ্রুপের সদস্যরা নগরীর দুই নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এবং ঈগল গ্রুপের সদস্যরা নগরীর ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় অবস্থান করে। ২, ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝে ধর্মসাগর পার্ক অবস্থিত, যা ১০ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে যখনই রতন গ্রুপের সদস্যরা ওই পার্কে যায় তখনই ঈগল গ্রুপের সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে। একইভাবে ঈগল গ্রুপের সদস্যরা পার্কে গেলে রতন গ্রুপের সদস্যরা তাদের ধাওয়া দেয়। হত্যাকা-ের দিন বিকাল ৪টায় ঈগল গ্রুপের সদস্যরা রতন গ্রুপের সদস্য তানজীদের পরিচিত এক ছোট ভাইকে মারধর করে। এই শুনে রতন গ্রুপের সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেয়, ঈগল গ্রুপের সদস্যদের যেখানেই পাবে সেখানেই প্রতিহত করবে। এমন সময় তানজীদ এসে উপস্থিত অন্য সদস্যদের ঈগল গ্রুপের সদস্যরা পার্কে অবস্থান করছে বলে জানান। পপে রতনের নেতৃত্বে অন্যরা ফৌজদারি মফিজাবাদ কলোনি মাঠে একত্র হয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ ঈগল গ্রুপের সদস্যদের আওয়ার লেডি অব ফাতেমা স্কুলের সামনে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে শাহাদাত দৌড়ে পালাতে না পারলে রাব্বি তাকে ধরে ফেলে। গ্রুপের অন্য সদস্যরা তাকে কিল, ঘুষি, লাথি ও এলোপাতা ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। র‌্যাব জানায়, আসামিদের দেওয়া তথ্য ও প্রাপ্ত সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, রতন গ্রুপের সদস্য রাব্বি শাহাদাতকে ধরে থাকা অবস্থায় তানজীদ সুইচ গিয়ার দিয়ে প্রথমে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। গ্রুপের অন্য সদস্য রানা কিল-ঘুষি মারতে থাকা অবস্থায় আকাশ সুইচ গিয়ার দিয়ে শাহাদাতের পেটের বাম পাশে কয়েক বার আঘাত করে। অন্য সদস্য রতন, হাসিব, রিয়াজ, সানি, সাব্বির ও আরও কয়েকজন লাথি ও ঘুষি মারতে থাকে এবং রাসেল, সিয়াম, আসিফ বড় ছুরি নিয়ে শাহাদাতকে চারপাশ থেকে ঘেরাও করে রাখে। নবী পিঠে বড় ছুরি দিয়ে আঘাত করলে শাহাদাত মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এরপর তারা পালিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। গ্রেফতারকৃত আসামিদের কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলছে। উল্লেখ, শুক্রবার (১৯ আগস্ট) বিকালে কাস্টমস অফিস ও আওয়ার লেডি অব ফাতেমা গার্লস হাই স্কুলের সামনে শাহাদাতকে হত্যা করা হয়। শাহাদাত নগরীর পুরাতন চৌধুরী পাড়ার বশু মিয়ার বাড়ির প্রাইভেটকার চালক শাহ আলম ভূইয়ার ছেলে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category