• রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ০১:১৮ পূর্বাহ্ন
  • ই-পেপার
সর্বশেষ
সর্বোচ্চ আদালতকে পাশ কাটিয়ে সরকার কিছুই করবে না: আইনমন্ত্রী নাইজেরিয়ান চক্রের মাধ্যমে চট্টগ্রামে কোকেন পাচার কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের অপেক্ষা করতে বললেন ব্যারিস্টার সুমন পদ্মা সেতুর সুরক্ষায় নদী শাসনে ব্যয় বাড়ছে পিএসসির উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীরসহ ৬ জনের রিমান্ড শুনানি পিছিয়েছে শৃঙ্খলা ভঙ্গের চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার রপ্তানিতে বাংলাদেশ ব্যবহার করছে না রেল ট্রানজিট রাজাকারের পক্ষে স্লোগান সরকারবিরোধী নয়, রাষ্ট্রবিরোধী: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ইউনূসসহ ১৪ জনের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়নি বঙ্গোপসাগরের জীববৈচিত্র্য নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র-আলোকচিত্র প্রদর্শনী

খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ল

Reporter Name / ৩৯৭ Time View
Update : রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক :
‘বিদেশে যাওয়া যাবে না এবং বাড়িতে বসে চিকিৎসা নিতে হবে’- আগের মতো এই দুটি শর্তে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দ- স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ আরও ছয়মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া শর্তসাপেক্ষে যে জামিন পেয়েছেন, চিকিৎসা করাচ্ছেন সেই সময়টা বর্ধিত করার জন্য তার পরিবার মানে তার ছোট ভাই একটি আবেদন করেছিলেন। আমরা সেই আবেদন যথাযথ প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে অনুমোদন দিয়েছি। একই শর্তে তার সাজা স্থগিত রেখে মুক্তির মেয়াদ চতুর্থ দফায় বাড়ানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, তিনি নিজ বাসায় থেকে, যেভাবে চিকিৎসা নিতে চান, সেভাবে চিকিৎসা নেবেন। তবে তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। এর সঙ্গে আগে যেসব শর্ত ছিল, সেসব শর্ত বহাল থাকবে। খালেদা জিয়ার নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা রয়েছে। এর মধ্যে গত এপ্রিলে তিনি করোনাভাইরাসে আক্রাক্ত হন। হাসপাতালে চিকিৎসাও নেন তিনি। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তার দ- স্থগিতের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এই অবস্থায় খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য মুক্তি চেয়ে চলতি মাসের শুরুর দিকে তার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মতামতের জন্য আবেদনটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। গত ৭ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আবেদনের বিষয়ে মতামত জানিয়ে দেয় আইন মন্ত্রণালয়। দুটি মামলায় দ-প্রাপ্ত খালেদা জিয়া কারাবন্দি ছিলেন। নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়ার দ- স্থগিত রয়েছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদ- দেন বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ আদালত। রায় ঘোষণার পর খালেদাকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রাখা হয়। এরপর ৩০ অক্টোবর এই মামলায় আপিলে তার আরও পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেন হাইকোর্ট। একই বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সশ্রম কারাদ-ের আদেশ দেন একই আদালত। রায়ে সাত বছরের কারাদ- ছাড়াও খালেদা জিয়াকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদ-ের আদেশ দেন। গত বছরের মার্চে করোনা মহামারি শুরু হলে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাহী আদেশে দ- স্থগিত করে কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে শর্তসাপেক্ষে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেয় সরকার। প্রথম দফা মুক্তির মেয়ার শেষ হয়ে আসলে গত বছরের ২৫ আগস্ট বেগম জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে স্থায়ী মুক্তি চেয়ে আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার দ্বিতীয় দফায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ছয় মাসের জন্য তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ায়। সর্বশেষ গত ২৫ মার্চ থেকে মুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়।
এদিকে ই-কমার্সে যারা প্রতারণা করবেন তাদের খুঁজে বের করে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বিনিয়োগকারীদের ই-কমার্স কোম্পানির লোভনীয় অফার দেখে বিনিয়োগের আগে ঝুঁকি কতখানি তা ভেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ই-বিজনেস বলুন আর যেটাই বলুন, কতগুলো প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়েছে; ইভ্যালি, ধামাকা, ই-অরেঞ্জ এর মধ্যে কীভাবে যেন আমাদের বেশ কয়েকজনের নামও জড়িত করে ফেলেছে। একজনের নাম তো বলতেই হয়- প্রখ্যাত নিউরো সার্জন এম আলী। তিনি তো আমার কাছে এসে কেঁদে কেঁদে বলেছেন, তিনি কিছুই জানতেন না। আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, তিনি একজন প্রখ্যাত ডাক্তার। টেলিমেডিসিন কীভাবে প্রসার করা যায়, সে বিষয়ে ধামাকার সঙ্গে তার আলাপ হয়েছিল। এখন তার নামটি ধামাকায় দিয়ে…সেই বেচারা বিপদেই পড়েছেন আমরা দেখছি। মন্ত্রী বলেন, ইভ্যালি একটা, আরও কয়েকটা; মানুষের কাছ থেকে অনেক টাকা নিয়েছে। কীভাবে তারা তাদের কমিটমেন্ট পূরণ করবে এটা আমার এখন জানা নেই। আমরা মনে করি, তারা যে কমিটমেন্ট জনগণকে দিয়েছে তা যদি পূরণ না করে তবে আইন অনুযায়ী আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং করতেই হবে। আমি আপনাদের মাধ্যমে আবেদন করছি, যারা এ ব্যাপারে লগ্নি করেন, ইনভেস্ট করেন তার আগে বুঝে-শুনে করবেন। আপনারা প্রতারিত যাতে না হন। আপনারা নিজে চিন্তা করবেন, এই যে প্রলোভন আপনাদের দেখাচ্ছে এটা বাস্তবসম্মত কি-না, প্রতারিত হওয়ায় সম্ভাবনা কি রকম সেটাও তারা যেন যাচাই করে ইনভেস্ট করে। আমি এই মেসেজটা দিতে চাই, যারা প্রতারণা করবেন তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী খুঁজে বের করবে, তাদের শাস্তির ব্যবস্থা আমরা করবো। কেউ যদি প্রতারণার উদ্দেশ্যে করেন। আমাদের কাছে খবর আসছে, এগুলো তদন্তে কমিটি কাজ করছে। ই-অরেঞ্জের সঙ্গে একজন পুলিশ সদস্য জড়িত। তার বিরুদ্ধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং তাকে ভারত থেকে দেশে ফিরে আনার বিষয়ে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, সেগুলো সিস্টেম অনুযায়ী চলে আসবেই। আমি যেটা বলতে চাচ্ছি, যারা লোভনীয় মুনাফার কথা বলছেন, যে গাড়ির দাম ১০০ টাকা বলছে ৫০ টাকায় দেবে এগুলো বাস্তবসম্মত কি না, সেগুলো দেখে-শুনে আমরা ইনভেস্ট করার জন্য অনুরোধ করছি যেন কেউ প্রতারিত না হয়। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ই-কমার্সের অনুমোদন যারা দিচ্ছে তাদের কোনো দুর্বলতা আছে কি না, উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে এটা জিজ্ঞেস করতে পারেন। আমার কথা হলো, যদি কেউ প্রতারণা করেন আইন অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। যারা প্রতারিত হচ্ছেন, প্রতারণার শিকার হওয়ার আগেই বারবার চিন্তা করে ইনভেস্ট করবেন, এটা হলো আমাদের রিকোয়েস্ট।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category