• রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন
  • ই-পেপার
সর্বশেষ
সর্বোচ্চ আদালতকে পাশ কাটিয়ে সরকার কিছুই করবে না: আইনমন্ত্রী নাইজেরিয়ান চক্রের মাধ্যমে চট্টগ্রামে কোকেন পাচার কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের অপেক্ষা করতে বললেন ব্যারিস্টার সুমন পদ্মা সেতুর সুরক্ষায় নদী শাসনে ব্যয় বাড়ছে পিএসসির উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীরসহ ৬ জনের রিমান্ড শুনানি পিছিয়েছে শৃঙ্খলা ভঙ্গের চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার রপ্তানিতে বাংলাদেশ ব্যবহার করছে না রেল ট্রানজিট রাজাকারের পক্ষে স্লোগান সরকারবিরোধী নয়, রাষ্ট্রবিরোধী: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ইউনূসসহ ১৪ জনের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়নি বঙ্গোপসাগরের জীববৈচিত্র্য নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র-আলোকচিত্র প্রদর্শনী

গৃহবধূকে হত্যায় মৃত্যুদণ্ডদেশ পাওয়ার ১৭ বছর পর দম্পতি গ্রেপ্তার

Reporter Name / ৭৮ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৩ আগস্ট, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক :
যৌতুকের টাকা না পেয়ে ঢাকার ধামরাইয়ে সামিনা নামে এক গৃহবধূকে নির্যাতন ও পুড়িয়ে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৪। গ্রেপ্তাররা হলেন- সামিনার স্বামীর বড় বোন রোকেয়া বেগম (৫০) ও দুলাভাই আবদুর রহিম (৬৪)। গত সোমবার রাতে র‌্যাব-৪ এর একটি দল চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ থানার নারায়ণপুর গ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে। র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার আবদুর রহিম আদালতের রায়ের পর থেকে ঢাকা জেলার বিভিন্ন এলাকায় পেশা পরিবর্তন করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। রোকেয়া আত্মগোপনে থেকে গার্মেন্টসে চাকরি করে আসছিল। তবে একই গার্মেন্টেসে তিনি বেশি দিন চাকরি করতেন না। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক ডিআইজি মোজাম্মেল হক এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ ও ঘটনার বিবরণ থেকে জানতে পারি, ২০০৩ সালে সাভারের কাউন্দিয়া নিবাসী সামিনার সঙ্গে বক্তারপুরের জাফরের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে কন্যাপক্ষ সাধ্য অনুযায়ী নগদ টাকা, আসবাসপত্র এবং ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী দেয়। কিন্তু স্বামী জাফর বিয়ের পর থেকেই যৌতুক হিসেবে আরও টাকার জন্য স্ত্রী সামিনার ওপর শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকেন। একসময় জাফর সামিনাকে বাবার বাড়ি থেকে ১৬ হাজার টাকার আনার জন্য চাপ দিতে থাকেন। পরে সামিনার দরিদ্র বাবা জুরা মিয়া ছয় হাজার টাকা দেন। বাকি টাকার জন্য জাফর, জাফরের বোন রোকেয়া ও তার স্বামী আবদুর রহিমসহ অন্য আসামি সামিনাকে শারীরিকভাবে নির্যাতনসহ মেরে ফেলার হুমকি দিতে থাকেন। টাকা এনে দেওয়ার জন্য সামিনার মুখে সিগারেটের আগুন দিয়েও নির্যাতন করেন জাফর। এর মধ্যে জাফর তার বোনকে ১০ হাজার টাকা দিতে চেয়েছিলেন। ঘটনার দিন ২০০৫ সালের ৭ জুন পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সামিনাকে ফুসলিয়ে রোকেয়া-রহিম দম্পতির ধামরাই থানাধীন সৈয়দপুরের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জাফর যৌতুকের বাকি টাকা দাবি করলে সামিনা জানান, তার বাবা আর টাকা দিতে পারবেন না। এ কথা শুনেই জাফর সবার সামনে সামিনাকে শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন। মারধরের একপর্যায়ে দাহ্য পদার্থ ঢেলে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে বেরিয়ে যান। সামিনার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে নয়ারহাট গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে নেন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ জুন তার মৃত্যু হয়। তবে মৃত্যুর আগে এ ঘটনায় জড়িত সবার নামসহ ঘটনার জবানবন্দি নেয় পুলিশ। নিহতের মৃত্যুকালীন জবানবন্দি অনুযায়ী পরে তার মা নাজমা বেগম জাফরকে মূল অভিযুক্ত করে জাফরের বড় ভাই জাহাঙ্গীর, সালেক, জাফরের বড় বোন রোকেয়া ও তার স্বামী আবদুর রহিম এবং জাফরের মামা ফেলানিয়াসহ মোট ৬ জনকে আসামি করে ধামরাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাশাপাশি বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পক্ষে ভিকটিমের পরিবারকে আদালতে এ মামলা পরিচালনা সহায়তা দেওয়া হয়। ২০০৫ সালের ৩১ আগস্ট তদন্ত শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সব আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ২০১৮ সালের ৫ জুলাই ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নং-৯ এর বিচারক জাফর, জাহাঙ্গীর, সালেক, রোকেয়া, আবদুর রহিম ও ফেলানিয়াকে মৃত্যুদ-ের আদেশ দেন। এ ছাড়া প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদ-েরও আদেশ দেন। ঘটনার পর জাহাঙ্গীর ছাড়া এ মামলার সব আসামি গ্রেপ্তার হয়। মামলায় মৃত্যুদ-প্রাপ্ত জাফর আগে থেকে জেলহাজতে রয়েছেন। সালেক ও জাফরের মামা ফেলানিয়া মামলা চলাকালীন গ্রেপ্তার হয়ে এক বছর কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান। বর্তমানে তারা পলাতক। গ্রেপ্তার আবদুর রহিম ১১ মাস ও রোকেয়া ১৭ মাস কারাভোগের পর ২০০৬ সালের শেষের দিকে জামিনে মুক্তি পেয়ে আত্মগোপনে চলে যান। রায়ের সময় শুধুমাত্র জাফর আদালতে হাজির ছিলেন, বাকি আসামিরা পলাতক ছিলেন। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গত সোমবার রাতে রোকেয়া ও রহিমকে গ্রেপ্তার হয়। তবে এখনো মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আরও ৩ আসামি পলাতক রয়েছেন বলে জানান এই র‌্যাব কর্মকর্তা। গ্রেপ্তার আবদুর রহিম রায়ের পর থেকে ঢাকা জেলার বিভিন্ন এলাকায় পেশা পরিবর্তন করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। কখনো তিনি তালা মেরামত, কখনো বাবুর্চির হেলপার আবার কখনো শরবত বিক্রি করতেন। এমনকি বিভিন্ন মাজারের কর্মী হিসেবে আত্মগোপনে থেকে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন তিনি। তিনি কখনই এক জায়গায় দীর্ঘদিন বসবাস করতেন না। গ্রেপ্তার হওয়ার আগ পর্যন্ত আর কখনই নিজ বাড়িতে ফিরে যাননি। রোকেয়া মূলত গার্মেন্টস কর্মী। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে থেকে গার্মেন্টসে চাকরি করে আসছিরেন। তবে একই গার্মেন্টেসে তিনি বেশি দিন চাকরি করতেন না। ২০১৭ সালে বয়স কমিয়ে, অবিবাহিত দেখিয়ে নতুন এনআইডি কার্ড করেন। গৃহকর্মী হিসেবে কৌশলে সৌদি আরব পাড়ি জমান। গত ৫ বছর দেশের বাইরে ছিলেন। গত জুনের প্রথমদিকে দেশে ফেরেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category