• শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন
  • ই-পেপার
সর্বশেষ
সর্বোচ্চ আদালতকে পাশ কাটিয়ে সরকার কিছুই করবে না: আইনমন্ত্রী নাইজেরিয়ান চক্রের মাধ্যমে চট্টগ্রামে কোকেন পাচার কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের অপেক্ষা করতে বললেন ব্যারিস্টার সুমন পদ্মা সেতুর সুরক্ষায় নদী শাসনে ব্যয় বাড়ছে পিএসসির উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীরসহ ৬ জনের রিমান্ড শুনানি পিছিয়েছে শৃঙ্খলা ভঙ্গের চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার রপ্তানিতে বাংলাদেশ ব্যবহার করছে না রেল ট্রানজিট রাজাকারের পক্ষে স্লোগান সরকারবিরোধী নয়, রাষ্ট্রবিরোধী: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ইউনূসসহ ১৪ জনের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়নি বঙ্গোপসাগরের জীববৈচিত্র্য নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র-আলোকচিত্র প্রদর্শনী

চায়ের উৎপাদন বেড়েছে আশাজাগানিয়া হারে

Reporter Name / ৩৪১ Time View
Update : শনিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক :
চা বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও ক্রমাগত নগরায়নের ফলে ও জনতার শহরমুখিতার কারণে চায়ের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। এ ছাড়া সামজিক উন্নয়নের ফলেও চায়ের অভ্যন্তরীণ চাহিদা বেড়েছে। বিগত তিন দশক ধরে চায়ের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ফলে চায়ের রপ্তানি হঠাৎ করেই কমে গেছে। তারপরও জাতীয় অর্থনীতিতে চা শিল্পের গুরুত্ব অপরিসীম এবং সুদূরপ্রসারী। জিডিপিতে চা খাতের অবদান ০ দশমিক ৮১ শতাংশ। বাংলাদেশের ১৬২টি বাগানের ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে এখন প্রতি বছর আনুমানিক ১ দশমিক ৩ মিলিয়ন কেজি চা বিদেশে রপ্তানি হয়। কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, পাকিস্তান, ভারত, পোল্যান্ড, রাশিয়া, ইরান, যুক্তরাজ্য, আফগানিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, বেলজিয়াম, ফ্রান্স, কুয়েত, ওমান, সুদান, সুইজারল্যান্ডসহ অনেকগুলো দেশে রপ্তানি হয় বাংলাদেশের চা। গত দশ বছরে পৃথিবীতে চায়ের চাহিদা দ্বিগুণ বেড়েছে। এই চাহিদার সাথে সমন্বয় রেখে বাংলাদেশ, কেনিয়া ও শ্রীলঙ্কা পৃথিবীর প্রায় ৫২ ভাগ চায়ের চাহিদা পূরণ করছে। প্রথম চা গাছ রোপণ থেকে ধরলে বাংলাদেশে চা শিল্পের বয়স ১৭৮ বছর। সুদীর্ঘ এ সময়ে দেশের মানচিত্র বদলেছে দু’বার। তবে চা শিল্পের অগ্রযাত্রা থামেনি। অমিত সম্ভাবনার অনুপাতে অনেকটা অর্জিত না হলেও এই শিল্পের অর্জনও কিন্তু কম নয়। পরিমিত বৃষ্টি না হওয়ার পরও গত বছরের তুলনায় এ বছর চায়ের উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৫ মিলিয়ন কেজি। আর পরিমিত বৃষ্টি হলে চলমান বছরে চায়ের চমকপদ রেকর্ড হতো বলে মনে করেন চা বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ চা বোর্ডের শ্রীমঙ্গলস্থ প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিটের পরিচালক ড. এ কে এম রফিকুল হক জানান, প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও চলমান মৌসুমে এ পর্যন্ত চায়ের উৎপাদন হয়েছে ৩৮.৩১ মিলিয়ন কেজি। যা ২০২০ সালের একই সময়ে ছিলো ৩৩.৯৯ মিলিয়ন কেজি। তিনি আরও জানান, গত মৌসুমের উৎপাদনের চেয়ে চলমান মৌসুমে ৪.৩২ মিলিয়ন কেজি চা বেশি উৎপাদন হয়েছে। এ উৎপাদনের ধারা অব্যাহত থাকলে এবং পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত পেলে এবছর উৎপাদনে রেকর্ড হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল জেরিন চা বাগানের ব্যবস্থাপক সেলিম রেজা চৌধুরী জানান, গত বছরের তুলনায় এখন পর্যন্ত তাদের বাগানে প্রায় ৩% চা বেশি উৎপাদন হয়েছে। তিনি জানান, এ বছর চায়ের জন্য প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত হয়নি। গত বছরের তুলনায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত কম হয়েছে। তিনি জানান, চায়ের জন্য বছরে ৮০ থেকে ১০০ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত প্রয়োজন। অন্যদিকে মৌসুমের শুরুর দিকে চা শিল্প খড়ার মুখে পড়ে। যদি পরিমিত বৃষ্টিপাত পাওয়া যেতো তাহলে এ বছর চায়ের উৎপাদন শত মিলিয়ন কেজি ছাড়িয়ে যেতো বলে জানান তিনি। এদিকে চলমান বছরে বৃষ্টির মৌসুম প্রায় শেষ। আর খুব বেশি বৃষ্টি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর শ্রীমঙ্গলে এত কম বৃষ্টিপাত হয়েছে যা বিগত কয়েক বছরের মধ্যে কম বৃষ্টিপাতের রেকর্ড বছর হতে পারে। শ্রীমঙ্গলের সর্বাধিক চা বাগান কোম্পানি ফিনলে টির সিইও তাসিন আহমদ চৌধুরী জানান, বছরের শুরুর দিকে তাদেরকে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে পড়তে হয়েছে। কৃত্রিম পানি দিয়ে চা গাছকে বাঁচিয়ে রাখতে হয়। গত দুই মাস ধরে ভালো বৃষ্টিপাত পাওয়ায় উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন পর্যন্ত তাদের বাগানগুলোতে গত বছরের তুলনায় প্রায় ২০% চা বেশি উৎপাদন হয়েছে। এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিসের সহকারী পর্যবেক্ষক মুজিবুর রহমান জানান, এ বছর শ্রীমঙ্গলসহ মৌলভীবাজার জেলায় বৃষ্টি কম হয়েছে। অন্যদিকে প্রখর রোদের পরিমাণও কম ছিলো। বাংলাদেশ চা গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ড. মোহাম্মদ আলী বলেন, বিরূপ আবহাওয়ার কারণে বছরের শুরুর দিকে উৎপাদন অনেক কম হয়েছে। তবে বর্তমান আবহাওয়া চায়ের জন্য পুরোপুরি অনকূলে। পোকামাকরের উপদ্রবও কম। এ আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে এ বছরের লক্ষমাত্রা ৭৫ মিলিয়ন কেজি ছাড়িয়ে ৯০ মিলিয়নের কাছাকাছি যাবে বলে আশাবাদী তিনি। তবে, চা শিল্প বিনিয়োগের অভাবে তীব্র আর্থিক সংকটের সম্মুখীনও হচ্ছে। বিদ্যমান ব্যাংক ঋণের সুদের হার এত বেশি যে বিনিয়োগের জন্য ঋণের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করা উৎপাদনকারীদের পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। চা চাষাধীন জমির মধ্যে প্রায় ১৬ শতাংশ অতিবয়স্ক, অলাভজনক চা এলাকা রয়েছে যার হেক্টর প্রতি বার্ষিক গড় উৎপাদন মাত্র ৪৮২ কেজি। এই অতিবয়স্ক চা এলাকার কারণেই হেক্টর প্রতি জাতীয় গড় উৎপাদন বৃদ্ধি করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। তাছাড়া চা বাগানের জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ, চা কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ ও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা এ শিল্পের উন্নয়নের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে চা শিল্পকে প্রতি বছরই খরার মোকাবেলা করতে হচ্ছে। ফলে অসংখ্য গাছ মরে যাচ্ছে। এ কারণেও চায়ের উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। চা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য সরকারি হস্তক্ষেপ অপরিহার্য বলে মনে করছেন চা বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, চায়ের মাঠ ও কারখানা উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য নিম্ন সুদে, সহজ শর্তে পর্যাপ্ত তহবিল প্রয়োজন। চা সেক্টরে বিনিয়োগের ৫-৭ বছর পর থেকে কাঙ্খিত হারে উৎপাদন শুরু হয়। এ কারণে ঋণ প্রদানের বছর থেকেই সুদ আরোপ করা উচিত নয়। এ ছাড়া চা শিল্পকে রক্ষা করার জন্য বিদেশ থেকে চায়ের আমদানি যথাসম্ভব নিরুৎসাহিত করা প্রয়োজন। উল্লেখ্য, গ্লোবাল টি ডাইজেস্টের প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি বছরের এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ১৩৬ কোটি কেজি চা উৎপাদন হয়েছে। গত বছরের একই সময় উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১২৩ কোটি কেজি। চা উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ চার দেশ চীন, ভারত, শ্রীলংকা ও কেনিয়া। এর মধ্যে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বড় ধরনের সংকটের মধ্যে রয়েছে কেনিয়ার চা শিল্প। রয়টার্সের তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথমার্ধে উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ শতাংশ কমে যায়। উৎপাদনে নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত আছে। কেনিয়ায় বড় ধরনের ঘাটতি সত্ত্বেও চায়ের বৈশ্বিক উৎপাদনে মন্দা কাটছে। এর প্রধান কারণ চা উৎপাদনে ভারতের লক্ষণীয় সাফল্য।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category