চুরি হওয়া সন্তান ফিরে পেতে রিট, হাইকোর্টে নথি তলব

- আপডেট সময়ঃ ০৮:২৬:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২২
- / ১৮২ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক :
নয় বছর আগে জন্মের দিন বগুড়ার আইভি ক্লিনিক থেকে চুরি হয়ে যাওয়া শিশুসন্তান ফিরে পেতে এক মায়ের রিটের পরিপ্রেক্ষিতে এ-সংক্রান্ত মামলার নথি তলব করেছেন হাইকোর্ট। বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে বুধবার মামলার নথি নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। গত সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম ও অ্যাডভোকেট সৈয়দা নাসরিন। এর আগে গত সোমবার নয় বছর আগে জন্মের দিন বগুড়ার আইভি ক্লিনিক থেকে চুরি হয়ে যাওয়া শিশু সন্তান ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন এক মা। রিটে নয় বছরের শিশুকে তার জন্মদাত্রী মা বগুড়ার গাবতলী থানার তাজমিনা আক্তারের জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র সচিব, বগুড়ার জেলা প্রশাসক, বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক, আইভি ক্লিনিকের মালিক, বগুড়ার গাবতলী উপজেলার খলিলুর রহমান, তার স্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে। ‘চুরি হওয়া সন্তান ফিরে পেতে নয় বছরের চেষ্টা এক অসহায় মায়ের’ এ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন সংযুক্ত করে রিট আবেদন করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘নিজের চুরি হওয়া সন্তান ফিরে পেতে দীর্ঘ নয় বছর ধরে নানা ধরনের চেষ্টা ও আদালতের শরণাপন্ন হয়েও সন্তান ফিরে না পেয়ে এক দুঃখিনী মা বগুড়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। বগুড়ার গাবতলী উপজেলার শালকু গাড়ী গ্রামের হেলাল উদ্দিনের স্ত্রী তাজমিনা গত ৪ অক্টোবর এ সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ২০১৩ সালের ২৮ জুলাই নাজমিনা আক্তার সন্তান প্রসবের জন্য বগুড়া শহরের নূরানী মোডের আইভি ক্লিনিকে ভর্তি হন। সেখানে সিজারের মাধ্যমে তার জমজ একটি ছেলে ও একটি মেয়ে সন্তান জন্ম হয়, যা তিনি মেডিকেল চেকআপের মাধ্যমে আগেই নিশ্চিত হন। এমনকি অপারেশন থিয়েটারে তিনি অজ্ঞান অবস্থায় থাকলেও দুই সন্তানের কান্নার আওয়াজ শুনতে পান। পরে তার জ্ঞান ফিরলে শুধু মেয়ে সন্তানকে দেখতে পান। তার আহাজারি ও কান্না শুনে তার মাসহ আত্মীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গাবতলী উপজেলার মৃত দুদু সরদারের ছেলে আনোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রী চায়না বেগম চিকিৎসক-নার্সদের সঙ্গে যোগসাজশে টাকার বিনিময়ে তার ছেলেকে চুরি করে। সন্তান চুরির তিন মাস পর তারা তাদের বাড়িতে আসে এবং দাবি করে তারা সন্তানটি ঢাকা থেকে কিনে এনেছেন, আবার বলেন দত্তক নিয়েছেন। তাদের কথায় সন্দেহ হলে ২০১৮ সালের ২০ জুলাই গাবতলীর নেপালতলী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সহকারী চঞ্চল কুমরাকে নিয়ে তাদের বাড়িতে গেলে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন। পরে তিনি নেপাতলী ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। চেয়ারম্যান বিষয়টি নিয়ে মীমংসা করতে ব্যর্থ হলে পরে তিনি সাতজনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত চেয়ারম্যানকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দিলে তিনি প্রতিবেদন জমা দেন। এরপর আদালত সাতজনের নামে সমন জারি করেন। আসামিরা জামিন পেয়ে ডিএনএ পরীক্ষার কথা বলেন। ডিএনএ পরীক্ষায় রিপোর্ট নেগেটিভ এলে তিনি তাতে নারাজি হয়ে আবারও পরীক্ষার জন্য ঢাকায় গিয়ে দেখতে পান তার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। নাজমিনা আক্তার দাবি করেন, তিন বছর আগে তার ডিএনএ রিপোর্ট পজিটিভ হওয়া সত্ত্বেও তার হারানো সন্তানকে তার কাছে ফেরত দেওয়া হয়নি। তিনি তার হারানো সন্তান ফিরিয়ে দেওয়ার আকুতি জানান। অ্যাডভোকেট সৈয়দা নাসরিন বলেন, জমজ সন্তানের মধ্যে মেয়ে তাসনিয়া আক্তার তার প্রকৃত বাবা-মা বগুড়ার গাবতলী উপজেলার শালকু গাড়ী গ্রামের হেলাল উদ্দিন ও তাজমিনা আক্তারের কাছে থাকলেও অপর সন্তান আহসান হাবিব এখন বগুড়ার একই উপজেলার খলিলুর রহমান ও তার স্ত্রীর তত্বাবধানে রয়েছেন।