ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আজাদ
- আপডেট সময়ঃ ০২:৫৯:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
- / ৬৩ বার পড়া হয়েছে
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রথম দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আবুল কালাম আজাদ অবশেষে আত্মসমর্পণ করেছেন।
বুধবার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে তিনি এই আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণের পরপরই তাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ যুদ্ধাপরাধের আটটি অভিযোগের মধ্যে সাতটিতে দোষী সাব্যস্ত করে আবুল কালাম আজাদকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। তবে মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পাকিস্তানে পালিয়ে যান বলে তৎকালীন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় তিনি পলাতক ছিলেন।
সাজা স্থগিত ও আইনি প্রক্রিয়া গত বছর ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী আবুল কালাম আজাদ সাজা স্থগিতের আবেদন করলে সরকার ২০২২ সালের ২২ অক্টোবর তার মৃত্যুদণ্ড এক বছরের জন্য স্থগিত করে। এই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার আইনি সুযোগ গ্রহণের পূর্বশর্ত হিসেবে তাকে ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় আজ তিনি আদালতে হাজির হন।
প্রমাণিত অপরাধসমূহ মুক্তিযুদ্ধকালে আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে মোট ১৪ জনকে হত্যা, তিন নারীকে ধর্ষণ, ৯ জনকে অপহরণ ও ১০ জনকে অবৈধভাবে আটকে রাখার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়। এ ছাড়া পাঁচটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং ১৫টি বাড়িতে লুণ্ঠনের দায়েও তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। ট্রাইব্যুনালের রায়ে তিনটি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছিল।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব এটি ছিল বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ঘোষিত প্রথম রায়। দীর্ঘ ১৩ বছর পর পলাতক এই আসামির আত্মসমর্পণের মাধ্যমে বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এক নতুন মোড় তৈরি হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

























