তেল চুরি ঠেকাতে ট্যাঙ্কলরিতে লাগানো হচ্ছে ট্র্যাকিং সিস্টেম ও ডিজিটাল লক

- আপডেট সময়ঃ ০৭:৩৩:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অগাস্ট ২০২৪
- / ৮২ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) আওতাভুক্ত তেল বিপণন কোম্পানিগুলোতে বছরের পর বছর ধরে চলছে তেল চুরির উৎসব। নানা উদ্যোগ নিয়েও চুরি ঠেকানো যায়নি। সাগরে থাকা মাদার ভেসেল থেকে বিপণন কোম্পানির রিজার্ভ ট্যাংকারে তেল পরিবহনের সময় তেল চুরি হয়। এমনকি রিজার্ভ ট্যাংক থেকে দেশের বিভিন্ন ডিপোতে তেল পৌঁছানোর সময় এবং ডিপো থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে তেল পৌঁছানোর সময়ও চলে তেল চুরি। এমন পরিস্থিতিতে জ¦ালানি তেল পরিবহনে চুরি ও ভেজাল ঠেকাতে ট্যাঙ্কলরিগুলোতে স্মার্ট ফুয়েল ডিস্ট্রিবিউশন মনিটরিং সিস্টেম (এসএফডিএমএস) প্রযুক্তি বসানো হচ্ছে। দেশে জ¦ালানি তেল পরিবহনে নিবন্ধিত দুই হাজার ৮০০টি ট্যাংক লরি রয়েছে। এরইমধ্যে প্রায় দুই হাজার ৫০০টি ট্যাংক লরিতে এ যন্ত্র বসানো হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের ১০০টির মতো ট্যাংকারেও বসানো হবে ডিজিটাল লক। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিপিসি হচ্ছে দেশে জ¦ালানি তেল আমদানি ও বিপণন করার একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান। সংস্থাটির নিজস্ব প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল কম্পানি লিমিটেড, মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড ও যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের মাধ্যমে সারা দেশে জ¦ালানি তেল সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে বছরে জ¦ালানি তেলের চাহিদা প্রায় ৭৫ লাখ টন। মোট জ¦ালানি চাহিদার প্রায় ৭৫ শতাংশই ডিজেল দিয়ে পূরণ হয়। বাকি ২৫ শতাংশ পূরণ হয় পেট্রল, অকটেন, কেরোসিন, জেট ফুয়েল, ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ¦ালানি তেলে। ডিজেল সাধারণত সেচ, পরিবহন ও জেনারেটরে ব্যবহার করা হয়। জ¦ালানি তেল পরিবহনের সময় ব্যাপক হারে চুরির ঘটনা সামাল দিতে ট্যাঙ্কলরিগুলোতে বসানো হচ্ছে ট্র্যাকিং সিস্টেম যন্ত্র। এ যন্ত্র বসানো না থাকলে কোনো ডিপো থেকে তেল নিতে পারবে না জ¦ালানি তেল বহন করা গাড়িগুলো। ধারণা করা হচ্ছে জ¦ালানি তেলবাহী গাড়িগুলোতে ট্র্যাকিং সিস্টেম যন্ত্র এবং ট্যাংকারগুলোতে ডিজিটাল লক স্থাপন কার্যক্রম সম্পন্ন হলে তেল চুরি ও ভেজাল রোধ অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে। কারণ ট্র্যাকিং সিস্টেম ও ডিজিটাল লক বসানো হলে কেউ ইচ্ছে করলেই ট্যাংক লরি থেকে তেল চুরি করতে পারবে না। লক খুললেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে দায়িত্বরত ব্যক্তির কাছে সংকেত পৌঁছে যাবে। এ ছাড়া সহজেই জানা যাবে ট্যাংক লরিটির অবস্থান। এদিকে এ বিষয়ে বিপিসি চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান জানান, জ¦ালানি তেল পরিবহনের জন্য নিবন্ধিত দুই হাজার ৮০০ ট্যাংক লরির মধ্যে প্রায় দুই হাজার ৫০০ ট্যাংক লরি ট্র্যাকিং সিস্টেমের আওতায় চলে এসেছে। আশা করা যায় শিগগির বাকিগুলোও ট্র্যাকিং সিস্টেমের আওতায় আনা সম্ভব হবে। এটি সরকারের খুবই ভালো একটি উদ্যোগ। এর মাধ্যমে জ¦ালানি তেল পরিবহনে নিয়োজিত ট্যাংক লরিগুলোকে সার্বক্ষণিকভাবে মনিটর করা সম্ভব হবে। এটি তেল চুরি ও ভেজাল ঠেকাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। জ¦ালানি তেল পরিবহনসহ সব ক্ষেত্রেই বিপিসি অটোমেশনে (আধুনিক স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা) যাচ্ছে। অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ট্যাংক লরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল জানান, জ¦ালানি তেল পরিবহনের সময় ড্রাইভারদের বিরুদ্ধে তেল চুরির অভিযোগটি দীর্ঘদিনের। এই ট্র্যাকিং সিস্টেমের মাধ্যমে ট্যাংক লরি যে সড়ক দিয়ে চলবে তার অবস্থান জানা যাবে। কোথাও থেমে তেল চুরির চেষ্টা করলে দায়িত্বরত ব্যক্তির কাছে সংকেত চলে যাবে। এই ডিভাইসটি প্রতি গাড়িতে বসাতে সাড়ে তিন হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে আমাদের। তবে ট্র্যাকিং সিস্টেমটি নিয়ন্ত্রণ করতে যে পরিমাণ জনবলের প্রয়োজন, তা এই মুহূর্তে বিপিসির নেই। সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের জন্য আলাদা বিভাগের ব্যবস্থা না করলে এই যন্ত্র বসানোর সুফল পাওয়া যাবে না।