• বুধবার, ১০ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৫৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
স্বাস্থ্যসেবায় অভূতপূর্ব অর্জন বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে: রাষ্ট্রপতি শান্তি আলোচনায় কেএনএফকে বিশ্বাস করেছিলাম, তারা ষড়যন্ত্র করেছে: সেনাপ্রধান বন কর্মকর্তার খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে কাজ করছে মন্ত্রণালয়: পরিবেশমন্ত্রী পুরান ঢাকার রাসায়নিক গুদাম: ১৪ বছর ধরে সরানোর অপেক্ষা ভাসানটেক বস্তিতে ফায়ার হাইড্রেন্ট স্থাপন করা হবে : মেয়র আতিক রুমা উপজেলা সোনালী ব্যাংকের অপহৃত ম্যানেজার উদ্ধারের পর পরিবার কাছে হস্তান্তর সন্ত্রাসী দল কর্মকান্ড পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বান্দরবানে চলছে জমজমাট নাইট মিনিবার স্বাধীনতা কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২৪ সরকারের বাস্তবমুখী পদক্ষেপে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমেছে: প্রধানমন্ত্রী বান্দরবানে সোনালী ব্যাংকে লুটের ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে

থার্টি ফার্স্ট নাইটে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা, গ্রেপ্তার ২৫

Reporter Name / ১০৬ Time View
Update : শুক্রবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের মূলহোতাসহ ২৫ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। র‌্যাব জানায়, আসন্ন থার্টি ফার্স্ট নাইটকে কেন্দ্র করে উৎসবের আমেজ তৈরি হলে সংঘবদ্ধ এ চক্রটি গত কয়েক রাত ধরে ছিনতাইয়ের জন্য তৎপরতা বাড়ায়। এমনকি থার্টি ফার্স্ট নাইটে নাশকতা তৈরির মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ছিনতাই করারও পরিকল্পনা ছিল তাদের। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত র‌্যাব-৩ এর কয়েকটি আভিযানিক দল একযোগে রাজধানীর পল্টন, মতিঝিল, শাহবাগ, মুগদা, ওয়ারী, খিলগাঁও ও শাহজাহানপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করে। আজ শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর টিকাটুলি র‌্যাব-৩ এর নিজ কার‌্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, যে কোনো উৎসবকে কেন্দ্র করে এদের তৎপরতা বাড়ে। আসন্ন থার্টি ফার্স্ট নাইটকে কেন্দ্র করে উৎসবের আমেজ তৈরি হলে এ সংঘবদ্ধ চক্রটি কয়েক রাত ধরে ছিনতাইয়ের জন্য উঠেপড়ে লাগে। এছাড়াও থার্টি ফার্স্ট নাইটে নাশকতা তৈরির মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ছিনতাই করারও পরিকল্পনা ছিল চক্রটির। র‌্যাবের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, সাধারণত লঞ্চঘাট, বাসস্ট্যান্ড, রেল স্টেশন, রেস্টুরেন্টের সামনে এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আশপাশের এলাকায় ছিনতাইকারী এ চক্রটির সদস্যরা ঘুরাফেরা করতে থাকে। চক্রের অন্য সদস্যরা রাজধানীর বিভিন্ন অলিগলিতে ওঁৎ পেতে থাকে। সুযোগ পেলেই পথচারী, রিকশা আরোহী, যানজটে থাকা সিএনজি অটোরিকশার যাত্রীদের ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে সর্বস্ব লুটে নেয়। সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত তুলনামূলক জনশূন্য রাস্তা, লঞ্চঘাট, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন এলাকায় ছিনতাইকারীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তিনি জানান, ছিনতাইকাজে বাধা দিলে নিরীহ পথচারীদের প্রাণঘাতী আঘাত করতেও দ্বিধা বোধ করে না তারা। রাজধানীর খিলগাঁও, মালিবাগ রেইল গেইট, দৈনিক বাংলা মোড়, পীরজঙ্গি মাজার ক্রসিং, কমলাপুর বটতলা, মতিঝিল কালভার্ট রোড, নাসিরের টেক হাতিরঝিল, শাহবাগ, গুলবাগ, রাজউক ক্রসিং, ইউবিএল ক্রসিং, পল্টন মোড়, গোলাপ শাহ মাজার ক্রসিং, হাইকোর্ট ক্রসিং, আবদুল গণি রোড, মানিকনগর স্টেডিয়ামের সামনে, নন্দীপাড়া ব্রিজ, বাসাবো ক্রসিং এলাকায় সন্ধ্যা থেকে ভোর রাত পর্যন্ত ছিনতাইকারীদের তৎপরতা বেশি পরিলক্ষিত হয়। র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক বলেন, ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা যেসব ব্যক্তির কাছ থেকে ছিনতাই করবে তাদের আগে থেকে অনুসরণ করতে থাকে এবং অনুসরণকৃত ব্যক্তির সঙ্গে ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন ধরনের কথা বলে থাকে। একপর্যায়ে কথা বলতে বলতে ভুক্তভোগী ব্যক্তিকে সুবিধামতো কোনো জায়গায় নিয়ে যায় এবং সেখানে ছিনতাইকারী চক্রের অন্য সদস্যরা উপস্থিত হয়। চক্রের একজন সদস্য ওই ব্যক্তির সঙ্গে বিতর্কে জড়ায় ও মারধর শুরু করে। লোকজন এগিয়ে এলে বলে, নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে এ মারামারি। ততক্ষণে ছিনতাইয়ের কাজটি তাদের চক্রের কেউ একজন সেরে ফেলে। এছাড়াও তারা ছিনতাই কাজে বিভিন্ন অভিনব কৌশল অবলম্বন করে থাকে এবং ছিনতাইয়ের কাজে বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে। যখন কোনো রিকশা অথবা সিএনজি আরোহী যাত্রীকে টার্গেট করে তারা তখন অন্য একটি রিকশা অথবা সিএনজি নিয়ে ওই ব্যক্তিকে অনুসরণ করে। সুবিধামতো স্থানে পৌঁছে ওই যাত্রী এবং চালককে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সর্বস্ব লুটে নেয়। লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন বলেন, ছিনতাইকারীরা তাদের ছিনতাইয়ের অর্থ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য সেবন করে এবং কেউ কেউ জীবিকা নির্বাহও করে থাকে। চক্রের সদস্যদের রাজধানীতে বসবাসের জন্য স্থায়ীভাবে কোনো বাসস্থান নেই। তারা সবাই রাজধানীর ভাসমান বাসিন্দা। চক্রের সদস্যদের মধ্যে প্রায় সবার বিরুদ্ধেই মাদক ও ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে। বিভিন্ন অপরাধে এ চক্রের সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে র‌্যাবের সাঁড়াশি অভিযান চলমান রাখা এবং এসব ছিনতাইকারীদের আইনের আওতায় আনার ফলে পথচারীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। রাজধানীবাসী এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজধানীতে আসা যাত্রীরা যেন নিরাপদে দৈনন্দিন কাজকর্ম সম্পন্ন করে নির্বিঘেœ স্বস্তির সঙ্গে বাড়ি ফিরতে পারেন এ লক্ষে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের বিরুদ্ধে র‌্যাবের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ। গ্রেফতাররা হলেন- মো. সুজন ফকির (২০), ইউসুফ ঘরামী (২৪), মো. শুভ (২৬), মো. সবুজ (২০), মো. রাজ্জুল মোল্লা (৩৫), মো. হাবিবুর রহমান (২০), মো. মিলন (৩০), মো. স্বপন (২৮), মো. আল আমিন (২১), মো. সিদ্দিকুর রহমান টুটুল ওরফে কালু (২৮), মো. রফিক (৩৬), মো. জাকির (৩০), মো. রুবেল আলম (২৬), মো. সজল (২৫), মো. নুরা (২২), মো. ইব্রাহীম খলিল (২৫), মো. সেলিম রেজা (২৮), মো. আজিম (২৪), মো. মোজ্জাম্মেল হোসেন (২৬), মো. মানিক হোসেন (২৫), মো. শামীম আলী (৩০), ওমর আলী ওরফে মিলন (৪০), মো. রনি(৩৩), মো. রুবেল (৩২) ও মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩৮)। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে সুইচ গিয়ার, চাকু, এন্টিকাটার, কাঁচি, ব্লেড, মোবাইল ফোন এবং নগদ টাকাসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category