• বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ০২:৪৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
এএসপি আনিস হত্যা মামলায় বাবার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই: শেখ হাসিনা আগামী বাজেটে মূল্যস্ফীতি রোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে: অর্থ প্রতিমন্ত্রী অ্যামাজন-শেভরন-বোয়িং বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী অবৈধ সম্পদ অর্জন: স্ত্রীসহ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবেলা আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বেনজীর-আজিজকে সরকার প্রটেকশন দেবে না: সালমান এফ রহমান ভিকারুননিসায় যমজ বোনকে ভর্তির নির্দেশ হাইকোর্টের এবারও ধরাছোঁয়ার বাইরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি পটুয়াখালীর দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় লোকসানের শঙ্কায় বিপিসি

Reporter Name / ৮৬ Time View
Update : শনিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক :
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম গত ৭ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে। আর রুশ-ইউক্রেন সংঘাতে জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আরো ব্যাপক অস্থিতিশীল হয়ে ওঠছে। তেলের বাজারের ওই অস্থিতিশীলতা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কারণ বাংলাদেশ জ্বালানি পণ্যের আমদানির ওপর নির্ভরশীল। আর জ্বালানি পণ্যের আমদানিকারক সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এমনিতেই নিয়মিত লোকসানে থাকে। বর্তমান পরিস্থিতি সংস্থাটিকে আরো বড় ধরনের আর্থিক বিপত্তিতে ঠেলে দেয়ার পাশাপাশি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকেও হুমকিতে ঠেলে দিয়েছে। জ্বালানি বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, আমদানির মাধ্যমে দেশে জ্বালানি তেলের ৯২ শতাংশই পূরণ করতে হয়। ওই আমদানিকৃত জ্বালানি পণ্য দিয়ে দেশের পরিবহন, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রেল ও বিমানের জ্বালানি চাহিদা পূরণ করা হয়। একই সঙ্গে সেচ মৌসুমেও জ্বালানি তেলের বড় একটা চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে দেশে সেচ মৌসুম চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে সেচ মৌসুমে জ্বালানি তেলের সংকট থাকবে না বলা হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির মূল্যে অস্থিরতা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট দেশের জ্বালানি তেলের গতিপথ পরিবর্তন করে দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জি-টু-জি চুক্তির ভিত্তিতে বিপিসির আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের ৫০ শতাংশ আসে। বাকি অর্ধেক খোলাবাজার থেকে আসে। বিভিন্ন দেশের ৭টি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ওই জ্বালানি তেল সরবরাহ করে। ইস্টার্ন রিফাইনারির পরিশোধনাগারে আমদানিকৃত ওই তেল পরিশোধন করা হয়। তারপর তা রাষ্ট্রায়ত্ত ৩টি বিপণন কোম্পানির মাধ্যমে সারা দেশে সরবরাহ করা হয়। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে জ্বালানি তেল বিক্রিতে বর্তমানে বিপিসির লিটারপ্রতি গড়ে ১১ টাকার মতো লোকসান হচ্ছে। বিশেষ করে ডিজেল বিক্রিতে ওই লোকসানের পরিমাণ বেশি। দেশের বাজারে দৈনিক যে পরিমাণ জ্বালানি তেল বিক্রি হয় তাতে বিপিসির ১৫ কোটি টাকারও বেশি লোকসান হচ্ছে। আর এখন যুদ্ধাবস্থায় জ্বালানি তেলের বাজার আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এমন অবস্থা বাংলাদেশের জ্বালানি খাতেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা রয়েছে। কারণ তার আগে জ্বালানি তেলের মূল্য ব্যারেলপ্রতি ৮৫ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় গত বছরের নভেম্বরে জ্বালানি বিভাগ দেশের বাজারে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বাড়ায়। জ্বালানি তেলে লোকসান কমাতে লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়িয়ে ৮০ টাকা করা হয়। তার মধ্যে বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বিপিসির জন্য অশনিসংকেত হয়ে দেখা দিয়েছে। কারণ তেলের বাড়তি আমদানি মূল্য সংস্থাটির লোকসানের বোঝাকে আরো ভারী করে তুলতে যাচ্ছে।
সূত্র জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের বাজার অস্থির হলে মূল্যে প্রভাব পড়লেও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি তৈরি হবে না। কারণ বাংলাদেশ যেসব দেশ থেকে তেল আমদানি করে ওসব দেশে যুদ্ধের তেমন প্রভাব নেই। জ্বালানি তেলের বাজারে দরপতনের কারণে ইতিপূর্বে একসময় বিপিসি ভালোই মুনাফা করেছে। তবে উদ্বৃত্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থাটি আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে। চলতি অর্থবছরে সরকার বিপিসির কাছে ৫ হাজার কোটি টাকা চেয়েছে। ইতিমধ্যে ১ হাজার কোটি টাকা বিপিসি অর্থ বিভাগে জমাও দিয়েছে। আরো ৪ হাজার কোটি টাকা চলতি অর্থবছরের বাকি চার মাসের মধ্যে দিতে হবে। ওসব টাকা বিপিসির পরিচালন ব্যয়ের উদ্বৃত্ত অর্থ থেকে দিতে হবে।
সূত্র আরো জানায়, গত বছরের জুনে ডিজেল ও কেরোসিনে বিপিসির লিটারপ্রতি ২ টাকা ৯৭ পয়সা লোকসান হয়েছিল। পরের ৩ মাসে সংস্থাটির লিটারপ্রতি লোকসান হয় যথাক্রমে ৩ টাকা ৭ পয়সা, ১ টাকা ৫৮ পয়সা ও ৫ টাকা ৬২ পয়সা করে। অক্টোবরে ডিজেল ও কেরোসিনে বিপিসির লোকসান প্রতি লিটারে বেড়ে দাঁড়ায় ১৩ টাকা ১ পয়সায়। তারপর জ্বালানি তেলের মূল্য কিছুটা কমে গেলে বিপিসি পুনরায় লাভের ধারায় ফেরে। গত বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে জ্বালানি তেল বিক্রিতে লিটারপ্রতি যথাক্রমে ১ টাকা ৫ পয়সা ও ২ টাকা লাভ করে বিপিসি। তবে জানুয়ারিতে সংস্থাটি আবার লোকসানে ফিরে যায়। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে জানুয়ারিতে বিপিসি লিটারপ্রতি ৫-৬ টাকা লোকসান করেছিল। চলতি মাসে ডিজেলে লিটারপ্রতি ১১ টাকা লোকসান হচ্ছে। জ্বালানি তেলের দাম আরো বাড়লে সংস্থাটির লোকসান চলতি মাসেই ১৫ টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
এদিকে এ বিষয়ে বিপিসির চেয়ারম্যান এবিএম আজাদ জানান, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দর যেভাবে বাড়ছে, তাতে পণ্যটি বিক্রি করে বিপিসির লোকসান বাড়ছে। একই সঙ্গে আর্থিকভাবে চাপও তৈরি হচ্ছে। পরিস্থিতি সম্পর্কে বিপিসির পক্ষ থেকে জ্বালানি বিভাগকে নিয়মিত অবহিত করা হচ্ছে। মূল্যবৃদ্ধির কারণে জ্বালানি তেলবাহী কার্গো কিনতে বিপিসির প্রচুর অর্থ ব্যয় হচ্ছে। বিপিসির আর্থিক সামর্থ্যে কতোটুকু কুলাবে তাই এখন চ্যালেঞ্জের বিষয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category