• রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন
  • ই-পেপার
সর্বশেষ
যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নে কমলেও নতুন বাজারে পোশাক রপ্তানি বাড়ছে স্বাধীনতাবিরোধীরা কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত: আইনমন্ত্রী বেনজীরের স্ত্রীর ঘের থেকে মাছ চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ সচেতনতার অভাবে অনেক মানুষ বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত: প্রধান বিচারপতি আইনশৃঙ্খলা লঙ্ঘনের কর্মকা- বরদাশত করা হবে না: ডিএমপি কমিশনার মিয়ানমারের শতাধিক সেনা-সীমান্তরক্ষী ফের পালিয়ে এলো বাংলাদেশে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি, গ্রেপ্তার ৫ ঢাকায় ছয় ঘণ্টায় রেকর্ড ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা নবম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়নে জাপানের সহায়তা চাওয়া হয়েছে: পরিকল্পনামন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে চায় চীন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় নতুন সেচ প্রকল্পে জোর দিচ্ছে সরকার

Reporter Name / ৮৭ Time View
Update : শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক :
হ্রাস পাচ্ছে দেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ। কিন্তু দেশের প্রধান খাদ্যশস্য ধানের কিছু জাতের ফলন বৃষ্টিপাতের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। বৃষ্টির পরিমাণ কমে যাওয়ায় দেশের ধান উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বাধ্য হয়ে কৃষককে অতিরিক্ত পানি সেচ দিতে হচ্ছে। তাছাড়া আবহাওয়ার বিমাতাসুলভ আচরণে খাদ্য সঙ্কট দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। বিগত ৪ দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এই বছরের জুলাইয়ে দেশে সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। এবার অর্ধেকেরও কম গড় বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর দেরিতে বৃষ্টি হওয়ায় ফসলের কিছু ক্ষতি হচ্ছে। ফলে উৎপাদনও কিছুটা কমবে।
এমন পরিস্থিতিতে নতুন সেচ প্রকল্প গ্রহণ করছে সরকার। ওই লক্ষ্যে বরেন্দ্র এলাকায় খালে পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে সেচ সম্প্রসারণ প্রকল্প-২য় পর্যায় নামের নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটিতে ব২৪৯ কোটি টাকা ব্যয় হবে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ওই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। আগামী ২০২৭ সালের মার্চ মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সেচ কাজে পানির সঙ্কট বাড়ায় সরকারকে আরো কয়েকটি প্রকল্প নিতে হয়েছে। তার মধ্যে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নাটোর জেলায় ১৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। বৃহত্তর রংপুর জেলায়ও ২৫০ কোটি এবং বৃহত্তর দিনাজপুর ও জয়পুরহাট জেলায় ২৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তাছাড়াও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ তার আগেও সেচ সংক্রান্ত ১৫টি প্রকল্প সমাপ্ত করেছে। আর এভাবে প্রকল্পের সংখ্যা বাড়ায় বেড়ে যাচ্ছে কৃষি উৎপাদন ব্যয়ও। সেচ কার্যক্রম বাড়তে থাকায় সরকার ৪টি ভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে ৩০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তার মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ৩টি প্রকল্পে ব্যয় হবে ৩ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা। বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের ৬টি প্রকল্পে ব্যয় হবে এক হাজার ১২৮ কোটি টাকা, কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের ৯টি প্রকল্পে বরাদ্দ আছে ১৯শ’ ২১ কোটি টাকা এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১২ প্রকল্পের ব্যয় ৬ হাজার ৬২৫ কোটি টাকা।
সূত্র জানায়, সেচের জন্য ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার ১০-১২ শতাংশ বৃদ্ধি করাই সেচ সম্প্রসারণ প্রকল্প-২য় পর্যায়ের উদ্দেশ্য। তার মাধ্যমে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা বাড়ানো হবে। তাছাড়া খাল ও পুকুরপাড়ে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ উন্নয়ন করা হবে। মূলত দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলায় আবহাওয়া শুষ্ক। তাপমাত্রা বেশি এবং বৃষ্টিও কম হয়। ফলে ভূ-উপরিস্থ পানির স্বল্পতা রয়েছে। তবে বর্ষাকালে আশপাশের নদীতে প্রচুর পানি থাকে। ওসব পানি সংরক্ষণ করে সেচের কাজে ব্যবহার করা যাবে। প্রথম পর্যায়ের প্রকল্পের মাধ্যমে ৩ হাজার ৭৮০ হেক্টর জমিতে সেচকাজ নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় পদ্মা, মহানন্দা, পুনর্ভবা, রানী, আত্রাই ও বারই নদীর পানি খালে উত্তোলন করে সংরক্ষণ করা হবে। প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে প্রায় ১৮ লাখ ঘন মিটার খাল, বিল ও পুকুর পুনর্খনন। তাতে ব্যয় হবে মোট প্রকল্প ব্যয়ের ১০ শতাংশ বা প্রায় ২৫ কোটি টাকা। সাড়ে ৩৩ কোটি টাকায় সেচের জন্য ১৩২ সেট সোলার প্যানেল ক্রয়ে ব্যয় হবে। ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২২০ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন করা হবে। তাছাড়া ২ কিলোমিটারের বেশি রাস্তা পুননির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি নওগাঁর মহাদেবপুরে, রাজশাহীর বাগমারা ও গোদাগাড়ী উপজেলায় বাস্তবায়ন করা হবে। তাছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ৫টি উপজেলায়।
এদিকে সেচ প্রকল্পের বিষয়ে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোঃ আবদুর রশীদ জানান, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় ভূ-উপরিস্থ পানির মাধ্যমে সেচ কার্যক্রমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাতে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে। আর প্রথম পর্যায়ের প্রকল্পটি সফল হয়েছে। পরবর্তীতে সরকারের একমাত্র মূল্যায়নকারী সংস্থা বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) পরিদর্শন ও সুপারিশের ভিত্তিতে দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category