• বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ০৬:১৯ অপরাহ্ন
  • ই-পেপার
সর্বশেষ
ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া আদায় করলে ব্যবস্থা বেনজীরের অঢেল সম্পদে হতবাক হাইকোর্ট তারেকসহ পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী দুয়েক সময় আমাদের ট্রলার-টহল বোটে মিয়ানমারের গুলি লেগেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যবসায়িদের প্রতি নিয়ম-নীতি মেনে কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান রাষ্ট্রপতির সহকর্মীকে হত্যাকারী কনস্টেবল মানসিক ভারসাম্যহীন দাবি পরিবারের বিনামূল্যে সরকারি বাড়ি গৃহহীনদের আত্মমর্যাদা এনে দিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী চেকিংয়ের জন্য গাড়ি থামানো চাঁদাবাজির অংশ নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সারা দেশে ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা কতজন জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট বান্দরবান থেকে কেএনএফের ৩১ জনকে পাঠানো হলো চট্টগ্রাম কারাগারে

দেশ থেকে রফতানি বাড়লেও টেকসই হওয়া নিয়ে শঙ্কা

Reporter Name / ৯৪ Time View
Update : বুধবার, ১৩ জুলাই, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলাদেশ থেকে রফতানি বাড়ছে। গত অর্থবছরে এক বছরের ব্যবধানে রফতানি বেড়েছে ৩৪ শতাংশেরও বেশি। কিন্তু খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, রফতানির বর্তমান প্রবৃদ্ধি নিয়ে উচ্ছ্বসিত হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ পশ্চিমা বিশ্বই হচ্ছে মূলত বাংলাদেশে তৈরি পণ্যগুলো রফতানির প্রধান গন্তব্য। মহামারীর ধাক্কা কাটিয়ে দেশগুলোর বাজার চাঙ্গা হচ্ছিল। বেড়ে গিয়েছিল অনেক দিন নিষ্ক্রিয় বিক্রয় কেন্দ্রগুলোর চাহিদা। ফলে বাংলাদেশ মোট রফতানিতে বড় প্রবৃদ্ধি দেখতে পেয়েছে। কিন্তু ওই রফতানি প্রবৃদ্ধি টেকসই হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। বর্তমানে করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে পশ্চিমা বাজারগুলোর চাহিদায় ভাঁটা পড়ার শঙ্কা রয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং রফতানি খাত সংশ্লিষ্টদের সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সদ্যসমাপ্ত ২০২১-২২ অর্থবছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ ৫২ বিলিয়নের বেশি বা ৫ হাজার ২০৮ কোটি ২৬ লাখ ৬০ হাজার ডলারের পণ্য রফতানি করেছে। তার আগের অর্থবছরের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে রফতানি বেড়েছে ৩৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ। কেবল জুনেই পণ্য রফতানিতে ৩৭ দশমিক ১৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। অর্থমূল্য বিবেচনায় বাংলাদেশ থেকে রফতানি হওয়া শীর্ষ ৫টি পণ্য হলো পোশাক, হোমটেক্সটাইল, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং কৃষিপণ্য। ওই ৫টি পণ্যই দেশের মোট রফতানির ৯১ দশমিক ৭১ শতাংশজুড়ে ছিল। গত অর্থবছর শেষে পোশাকের রফতানি বেড়েছে ৩৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ, হোমটেক্সটাইল রফতানি বেড়েছে ৪৩ দশমিক ২৮ শতাংশ। তাছাড়া চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি বেড়েছে ৩২ দশমিক ২৩ শতাংশ এবং কৃষিপণ্য রফতানি বেড়েছে ১৩ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। তবে পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি কমেছে ২ দশমিক ৯১ শতাংশ।
সূত্র জানায়, সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে মোট রফতানির ৮১ দশমিক ৮১ শতাংশই ছিল তৈরি পোশাক। পোশাক রফতানির অর্থমূল্য ছিল ৪ হাজার ২৬১ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার ডলার। তার আগের অর্থবছরে রফতানি হয়েছিল ৩ হাজার ১৪৫ কোটি ৬৭ লাখ ৩০ হাজার ডলারের পোশাক পণ্য। ওই হিসেবে এক অর্থবছরের ব্যবধানে রফতানি বেড়েছে ৩৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ। আর অর্থবছরে ১৬২ কোটি ১৯ লাখ ৩০ হাজার ডলারের হোমটেক্সটাইল পণ্য রফতানি হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে তা ১১৩ কোটি ২০ লাখ ৩০ হাজার ডলারের ছিল। ওই হিসেবে হোমটেক্সটাইল পণ্যের রফতানি বেড়েছে ৪৩ দশমিক ২৮ শতাংশ। বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি হয়েছে ১২৪ কোটি ৫১ লাখ ৮০ হাজার ডলার। তার আগের অর্থবছরে রফতানি হয়েছিল ৯৪ কোটি ১৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার। ওই হিসেবে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রফতানি বেড়েছে ৩২ দশমিক ২৩ শতাংশ। ২০২০-২১ অর্থবছরে ১০২ কোটি ৮১ লাখ ৪০ হাজার ডলারের কৃষিপণ্যের রফতানি হয়। ২০২১-২২ অর্থবছরে এসে তা ১১৬ কোটি ২২ লাখ ৫০ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ ওই খাতে কৃষিপণ্য রফতানি বেড়েছে ১৩ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। তবে কমেছে বাংলাদেশের সোনালি আঁশখ্যাত পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি। ওই পণ্যের গত অর্থবছরের রফতানি ১১২ কোটি ৭৬ লাখ ৩০ হাজার ডলারের ছিল। তার আগের অর্থবছরে রফতানি হয়েছিল ১১৬ কোটি ১৪ লাখ ৮০ হাজার ডলারের পণ্য। ওই হিসেবে পণ্যটি রফতানি কমেছে ২ দশমিক ৯১ শতাংশ।
এদিকে এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসানের মতে, রফতানিতে ৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়া অনেক বড় অর্জন। আর বাংলাদেশের পোশাক খাতের ওপর ভর করেই রফতানি বেড়েছেএ শিল্পকে টেকসই করতে প্রতিনিয়ত কাজ করা হচ্ছে। বিজিএমইএ পোশাক শিল্পের টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে নতুন রূপকল্প প্রণয়ন করতে যাচ্ছে। শিগগিরই এটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
অন্যদিকে রফতানিকারকদের সংগঠন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী এমপি জানান, ক্রেতাদের কভিড-১৯ মহামারীকালে বাংলাদেশের পণ্য প্রস্তুত ও রফতানিকারকদের প্রতি আস্থা অনেক বেড়েছে। কারণ কাঁচামালের দাম, পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পরও এদেশ থেকে ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু এখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ভোগাচ্ছে। কারণ বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এখন রফতানি বাড়ছে, প্রবৃদ্ধিও হচ্ছে। দেশের অর্থনীতির পথচলা মসৃণ হলেও আগামী দিনে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। ওই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য বাংলাদেশ প্রস্তুত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category