• বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ০৪:২৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
এএসপি আনিস হত্যা মামলায় বাবার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই: শেখ হাসিনা আগামী বাজেটে মূল্যস্ফীতি রোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে: অর্থ প্রতিমন্ত্রী অ্যামাজন-শেভরন-বোয়িং বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী অবৈধ সম্পদ অর্জন: স্ত্রীসহ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবেলা আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বেনজীর-আজিজকে সরকার প্রটেকশন দেবে না: সালমান এফ রহমান ভিকারুননিসায় যমজ বোনকে ভর্তির নির্দেশ হাইকোর্টের এবারও ধরাছোঁয়ার বাইরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি পটুয়াখালীর দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

নবজাতকদের জীবন নিয়ে টাকার খেলায় মেতে উঠেছে সোনাইমুড়ী শিশু হসপিটাল

Reporter Name / ৪১৪ Time View
Update : বুধবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২১

মোঃ ইসমাইল হোসেন :
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী চৌরাস্তায় চলছে শিশু হসপিটালের নামে সাধারণ মানুষ কে সর্বশান্ত করার এক ভয়ানক ব্যবসা। সোনাইমুড়ী চৌরাস্তায় অবস্থিত সোনাইমুড়ী শিশু হসপিটাল। নামে শিশু হসপিটাল হলেও কাজে ঠিক তার উল্টো। হসপিটালের ভিতরে নানান অব্যবস্থাপনা আর ময়লা আবর্জনা দেখে চেনার উপায় নেই এটা শিশু হসপিটাল নাকি কোনো বাসা বাড়ি । সোনাইমুড়ী শিশু হসপিটাল টি যদিও নামে মানুষকে আকৃষ্ট করেছে কিন্তু কাজের বেলায় প্রতিটি পদে পদে সেবা নিতে আসা মানুষকে করছে হয়রানি। চিকিৎসা নিতে আসা নবজাতকদের যে কোনো শারীরিক পরিক্ষা নিরিক্ষার জন্য নেই কোনো ধরনের যন্ত্রপাতি। পরিক্ষা নিরিক্ষার প্রয়োজন হলেই অসুস্থ শিশুর স্বজনের কাছে দাবী করা হয় মোটা অংকের টাকা। পরবর্তীতে সেই পরিক্ষা নিরিক্ষাও নাম মাত্র কিছু টাকা দিয়ে করিয়ে আনা হয় অন্য হসপিটাল গুলো থেকে। হসপিটাল টির ভিতরে দুইটি স্ক্যানো মেশিন ছাড়া শিশুদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য আর কোনো ধরনের যন্ত্রপাতিই দেখা যায় নি। সরেজমিনে হসপিটালের ভিতরে গিয়ে দেখা যায়,নবজাতক শিশুদের চিকিৎসা সেবায় হসপিটালে নেই কোনো প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিশু ডাক্তার,নেই কোনো নূন্যতম ডিপ্লোমা ধারী নার্স, তবে হসপিটালের ভিতরে প্রবেশ করেই পাওয়া যায় পনেরো থেকে সতেরো বছরের একজন নার্স নামি যুবতীকে। নিয়মিত ২৪ ঘন্টা শিশু ডাক্তারের কথা বলা হলেও ঠিক মতো ৫ ঘন্টাও ডাক্তার উপস্থিতি থাকে না। কোনো রকম অভিজ্ঞ ডাক্তার ও নার্স ছাড়াই চলছে এই হসপিটাল টি। সপ্তাহে একবারের বেশি দেখা মিলে না কোনো ধরনের প্রফেসর অথবা এসোসিয়েট প্রফেসরের। এদিকে হসপিটাল টি জেলা সিভিল সার্জনের কাছে সরকারি অনুমতির জন্য আবেদন করলেও, তাদের সেই আবেদন টি এখনো পেন্ডিং অবস্থায় রেখেছে নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন। তবে সরকারি ভাবে অনুমতি পাওয়ার জন্য আবেদন করার পর সরেজমিনে হসপিটাল টি একবার পরিদর্শনও করেছে সিভিল সার্জন। সোনাইমুড়ী শিশু হসপিটাল টি চিকিৎসা সেবার নামে শিশুদের নিয়ে রীতিমতো ব্যবসা শুরু করে দিয়েছে। অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা যায়, সোনাইমুড়ী শিশু হসপিটাল টি ২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি চালু হওয়ার পর থেকেই চিকিৎসা সেবার নামে, চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে করছে আর্থিক হয়রানি এবং অনেক বেশি আশংকা জনক শিশু রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় অথবা আশে পাশের জেলার উন্নত মানের হসপিটাল গুলোতে না পাঠিয়ে নিজেরাই চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দেন এবং দুই-চার দিন শিশু রোগী টিকে হসপিটালে ভর্তি রেখে তাদের কাছ থেকে দাবী করেন মোটা অংকের বিল। হসপিটালে নিয়োগ কৃত কর্মচারীদেরও নিয়মিত বেতন ভাতা পরিশোধ না করায় এই হসপিটাল টিতে কোনো কর্মচারিই দুই থেকে তিন মাসের বেশি কাজ করতে পারে না। আর এসব অপকর্মের জন্য নাম সর্বস্ব সোনাইমুড়ী শিশু হসপিটাল টি রীতিমতো সোনাইমুড়ী বাসীর কাছে গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে । সোনাইমুড়ী শিশু হসপিটাল টিতে চিকিৎসা নিতে যাওয়া ভুক্তভোগীদের একজন জানান,আমি আমার ভাগনিকে চিকিৎসা করানোর জন্য সোনাইমুড়ী শিশু হসপিটালে ভর্তি করাই । ভর্তি করানোর পর থেকেই তারা পরিপূর্ণ চিকিৎসা না দিয়ে আমাদের কাছে অগ্রিম টাকা দাবি করছে এবং চিকিৎসা শেষ হওয়ার আগে আমি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায়, সোনাইমুড়ী শিশু হসপিটাল কর্তৃপক্ষ আমার ভাগনির চিকিৎসা বন্ধ করে দেয় এবং চিকিৎসা কেনো বন্ধ করা হয়েছে, এই বিষয়ে আমি তাদের থেকে জানতে চাইলে তারা (সোনাইমুড়ী শিশু হসপিটাল) আমাকে জানায়, টাকা পরিশোধ করার আগে আমরা আপনার রোগীর আর কোনো চিকিৎসা করবো না এবং রোগীর চিকিৎসা শুরু করার আগে অগ্রিম টাকা পরিশোধ না করলে তারা কোনো রোগীরই চিকিৎসা করেন না বলে জানান অথবা যেসব শিশু রোগীর স্বজনরা টাকার বিষয়ে হসপিটাল কর্তৃপক্ষকে আশ্বস্ত করতে পারেন,কেবল মাত্র তারাই অগ্রিম টাকা না দিয়ে চিকিৎসা নিতে পারেন। সোনাইমুড়ী উপজেলার মানুষের কাছে গলার কাঁটা হয়ে ওঠা এই সোনাইমুড়ী শিশু হসপিটাল টি সরকারি ভাবে ৮ বেডের অনুমতি নিলেও তারা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ১৫ বেড নিয়ে হসপিটাল টি পরিচালনা করছে। হসপিটাল টির নিজস্ব ফার্মেসিতে গিয়ে দেখা যায়, ফার্মেসির দায়িত্বে যিনি আছেন, তিনিও কোনো ফার্মাসিস্ট নন।
সোনাইমুড়ী শিশু হসপিটালের বিরুদ্ধে উঠে আসা এমন অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনার বিষয়ে হসপিটাল কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে, তাদের মধ্যে হাসেম নামের একজন রীতিমতো অকথ্য ভাষায় কথা বলেন। অকথ্য ভাষায় কথা বলা ব্যক্তিটির পরিচয় জানতে চাইলে তিনি উত্তর দেন,আমি সোনাইমুড়ীর অমুক সাংবাদিকের ভগ্নিপতি। তুইও সাংবাদিক আর আমার স্ত্রীর ভাইও সাংবাদিক । তোদের কে গনার সময় আমার নাই। তোর সাথে আমার কোনো কথা নাই । যদিও আমরা অকথ্য ভাষায় কথা বলা ব্যক্তিটির নাম হাসেম বলে জানতে পেরেছি।
সোনাইমুড়ী শিশু হসপিটালের এমন অনিয়ম,অব্যবস্থাপনা ও শিশু রোগীদের জীবন নিয়ে রীতিমতো ভয়ানক ব্যবসায় মেতে উঠার বিষয়ে নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মাসুম ইফতেখারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা হসপিটাল টি একবার পরিদর্শন করেছি । বর্তমানে সোনাইমুড়ী শিশু হসপিটাল টির কী অবস্থা, সেটি আমার ঠিক জানা নেই । তবে সোনাইমুড়ী শিশু হসপিটাল টির বিরুদ্ধে উঠে আসা অভিযোগ গুলো আমরা অবশ্যই দায়িত্ব সহকারে খতিয়ে দেখে তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের প্রেক্ষিতে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। সোনাইমুড়ী শিশু হসপিটালের মতো এমন প্রতিষ্ঠান গুলো সেবার কথা বলে নবজাতকদের নিয়ে এমন ঘৃণ্য ভয়ানক রমরমা ব্যবসা বন্ধ ও এদের সরকারি লাইসেন্স আছে কী না, তা খতিয়ে দেখে তাদের লাইসেন্স বাতিল পূর্বক, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাদেরকে কঠিন শাস্তির আওতায় আনার জোর দাবী জানান সমাজের সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category