• শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪, ০৬:৩৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ

প্রাইম ব্যাংকের টাকা লুট, হোতা ব্যাংকেরই পাসওয়ার্ডধারী কর্মকর্তা

Reporter Name / ৩৪৬ Time View
Update : রবিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক :
রংপুরের প্রাইম ব্যাংকের গোপন পাসওয়ার্ডধারী এক কর্মকর্তার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা লোপাট হয়েছে। করোনা মহামারি ও নিজের বদলি আদেশকে কাজে লাগিয়ে অভিনব কায়দায় এটিএম বুথের ভল্ট থেকে এসব টাকা লুট করেছেন আবু রায়হান নামের ওই কর্মকর্তা। এ ঘটনায় গত শনিবার রাতে রংপুর নগরীর ডিসির মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আজ রোববার এক প্রেস বার্তায় এতথ্য জানিয়েছে পিবিআই রংপুর। পিবিআই রংপুরের জেলা পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন জানান, গত বছরের ৬ অক্টোবর প্রাইম ব্যাংক রংপুর শাখার অ্যাসিসট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট পীষুয কুমার রায় বিষয়টি লিখিতভাবে জানান। তিনি উল্লেখ করেন রংপুর মেট্রোপলিটন এলাকার কোতোয়ালি থানার প্রেসক্লাবের বিপরীত পাশে রংপুর ভবনের নিচতলায় অবস্থিত প্রাইম ব্যাংকের এটিএম বুথ। সেখান থেকে ৯ লাখ ৬৩ হাজার টাকা অজ্ঞাত হ্যাকার/চোর ই-ট্রানজেকশন, ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে চুরি করেছে। এ ঘটনায় থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় রংপুর পিবিআই। তদন্ত করেন উপপরিদর্শক (এসআই) ওয়াহেদুজ্জামান। বিশেষজ্ঞ দুই প্রকৌশলীর বরাত দিয়ে প্রেস বার্তায় বলা হয়, কোনো অস্বাভাবিক আঘাত কিংবা কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই ভোল্টের লোহার পার্ট থেকে দুটি ক্যাসেট সরানো হয়েছে। এটিএম বুথে কোনো প্রকার আঘাত কিংবা কোনো ক্ষতের এমনকি বাইরে থেকে কোনো প্রকার বল প্রয়োগ ছাড়াই ভল্ট থেকে টাকার ক্যাসেট সরানো হয়েছে। এটি শুধু পাসওয়ার্ড ও সেফডোর কি (চাবি) অপব্যবহারের ফলে সংঘটিত হয়েছে। তদন্তে জানা যায়, এটিএম বুথটিতে টাকা লোড দেওয়ার সময় ব্যাংক থেকে নির্ধারিত দুজন পাসওয়ার্ডধারী কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। এদের একজন ছিলেন কাস্টমার সার্ভিস কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজ, অপরজন আবু রায়হান। প্রাইম ব্যাংক লিমিটেডের রংপুর শাখা থেকেই তারাই নির্ধারিত গোপন পাসওয়ার্ডধারী কর্মকর্তা এবং তারাই দীর্ঘদিন ধরে ভল্টে টাকা লোড দিয়ে আসছেন। তদন্তে আরও জানা যায়, আবু রায়হান বগুড়ায় বদলি হওয়ার পরও গত বছরের ২০ আগস্ট তারিখ পর্যন্ত প্রাইম ব্যাংক রংপুর শাখায় কর্মরত ছিলেন। এ ছাড়া ওই এটিএম বুথে গত বছরের ১৭ জুন বিকল হওয়ার আগ পর্যন্ত মোট তিনবার ভল্টে টাকা লোড দেওয়া হয়। এরমধ্যে প্রথমদিন টাকা লোড দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন পাসওয়ার্ডধারী কর্মকর্তা মো. ফরহাদ ও আবু রায়হান। দ্বিতীয়বার উপস্থিত ছিলেন আবু রায়হান ও ব্যাংকের ফ্যাসিলিটিজ স্টাফ মিলন মিয়া। তিনি এটিএম বুথে উপস্থিত হয়ে মিলন মিয়ার মোবাইল ফোন থেকে সিনিয়র কর্মকর্তা ফরহাদের সঙ্গে কথা বলে ফরহাদের কাছে রক্ষিত পাসওয়ার্ডটি নেন এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ভল্টের দরজা খুলে টাকা লোড দেন। সর্বশেষ তৃতীয়বার ওই বছরের ৩ জুন ভল্টে টাকা লোড করার আগে কর্মকর্তা আবু রায়হান ব্যাংকের ভেতরে সিনিয়র কর্মকর্তা ফরহাদের কাছ থেকে চিরকুটে পাসওয়ার্ড লিখে নেন। পরে তিনি ৩০ লাখ টাকা বুথে নিয়ে যান এবং ভল্ট লোড দেন। পুলিশ সুপার জাকির হোসেন বলেন, গোপন দুই পাসওয়ার্ডই কর্মকর্তা আবু রায়হান জানতেন। মহামারি করোনা এবং নিজ বদলি আদেশের সুযোগ নিয়ে তিনি তার কাছে থাকা দুই গোপন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে কৌশলে বুথের ভল্টে থাকা মোট ৯ লাখ ৬৩ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যান। এ ঘটনায় জড়িত আরও ব্যক্তি ও টাকা উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category