• রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন
  • ই-পেপার
সর্বশেষ
যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নে কমলেও নতুন বাজারে পোশাক রপ্তানি বাড়ছে স্বাধীনতাবিরোধীরা কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত: আইনমন্ত্রী বেনজীরের স্ত্রীর ঘের থেকে মাছ চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ সচেতনতার অভাবে অনেক মানুষ বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত: প্রধান বিচারপতি আইনশৃঙ্খলা লঙ্ঘনের কর্মকা- বরদাশত করা হবে না: ডিএমপি কমিশনার মিয়ানমারের শতাধিক সেনা-সীমান্তরক্ষী ফের পালিয়ে এলো বাংলাদেশে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি, গ্রেপ্তার ৫ ঢাকায় ছয় ঘণ্টায় রেকর্ড ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা নবম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়নে জাপানের সহায়তা চাওয়া হয়েছে: পরিকল্পনামন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে চায় চীন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বন্যাদুর্গত এলাকায় টেলিসেবা: বিটিআরসির ১১৪৬ টাওয়ার সচল

Reporter Name / ৮৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২১ জুন, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক :
দেশের বন্যাদুর্গত এলাকায় টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত দুর্গত অঞ্চলে সংস্থাটির ১ হাজার ১৪৬ টাওয়ার সচল রয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে বিটিআরসির উপপরিচালক মো. জাকির হোসেন খান এ তথ্য জানান। প্রবল ভারী বর্ষণ ও অতি বৃষ্টির কারণে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ এবং মৌলভীবাজার জেলা বন্যাপ্লাবিত হয়। এতে জেলাসমূহের অধিবাসীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এসব এলাকায় চার মোবাইল অপারেটরের মোট ৩ হাজার ৬১৭ সাইট (টাওয়ার) রয়েছে। বন্যাপ্লাবিত এলাকায় অবস্থিত অনেক সাইট বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন হয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রাপ্তিতে প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়। মোবাইল অপারেটরদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও প্রচেষ্টায় গত সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট ১ হাজার ১৪৬টি সাইট পুনরায় সচল করা হয়। বর্তমানে সকল অপারেটরদের মোট ৯৭৬টি সাইট বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন হয়ে নেটওয়ার্কের আওতাবহির্ভূত রয়েছে। সাইটসমূহ সচল করতে জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন জাকির হোসেন। সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনাসহ সিলেট বিভাগের অন্যান্য এলাকায় চলমান বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় সেখানে অবস্থিত আইএসপি অপারেটরদের নেটওয়ার্ক অপারেশন্স সেন্টার, পয়েন্ট অব প্রেজেন্স (পপ) স্থাপনাসমূহ প্লাবিত ও বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। যেসকল পপ সমূহে প্রবেশ করা যাচ্ছে সেসকল পপ-এ পোর্টেবল জেনারেটর দিয়ে পরিষেবা প্রদান করা হচ্ছে। জেলাগুলোর কিছু সংখ্যক পপ’এ বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত জেনারেটরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সুনামগঞ্জসহ অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোয় আইএসপি অপারেটরসমূহ তাদের টিম পৌঁছানো ও নেটওয়ার্ক সচল রাখতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনাসহ সিলেট বিভাগের অন্যান্য এলাকাসমূহে ১৫টি আইআইজি অপারেটরের মোট ৪৮টি পয়েন্ট অব প্রেজেন্স আছে যার অধিকাংশই সচল রয়েছে। তবে বন্যাপ্লাবিত এলাকায় অবস্থিত অনেক সাইটে বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন হয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওই এলাকাসমূহে ইন্টারনেট সংযোগ প্রাপ্তিতে সাময়িকভাবে প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়। সিলেট জেলায় অবস্থিত কয়েকটি আইআইজি’র পপ’এ ডিজেল জেনারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার জন্যে একটি অস্থায়ী প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। ওই জেলার কিছু সংখ্যক পপ’এ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অতিরিক্ত ডিজেল চালিত জেনারেটর এবং পোর্টেবল জেনারেটর ভাড়া করা হয়েছে। এনটিটিএন অপারেটরদের মধ্যে সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেডের মোট ২৬২টি পয়েন্ট অব প্রেজেন্স রয়েছে, যার ১৩৭টি অ্যাকটিভ এবং ১২৫টি ইন্যাকটিভ রয়েছে। বাহন লিমিটেডের ২৯টি পিওআই’র মধ্যে সবগুলোই অ্যাকটিভ রয়েছে। ফাইবার অ্যাট হোম লিমিটেডের সবগুলো পিওআই এ্যাকটিভ রয়েছে। শুধুমাত্র ছাতকের (সুনামগঞ্জ) পিওআইটি ইন্যাকটিভ। বন্যাপ্লাবিত এলাকায় অবস্থিত অনেক সাইটে বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন হয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এসব এলাকায় এনটিটিএন সংযোগ প্রাপ্তিতে সাময়িকভাবে প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়। বর্তমানে সবগুলো এনটিটিএনই নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ চালু আছে।
বিটিসিএলের লাইন দুদিন পর সচল: ১৯ জুন জেনারেটর রুমের পানি পাম্প দিয়ে সেচে বের করে টেলিটকের জেনারেটর ব্যবহারের জন্য বিকল্প পাওয়ার ক্যাবল সংস্থাপন করা হয়। দুইদিন সার্বক্ষণিক কাজ এবং নিরলস প্রচেষ্টার ফলে ১৯ জুন দুপুর ২টায় সিলেটের সঙ্গে ঢাকার টেলিকমিউনিকেশন ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়। বর্তমানে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় বিদ্যুৎ না থাকায় টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ আছে। জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলায় বন্যার জন্য অপটিক্যাল ফাইবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় টেলিকমিউনিকেশন বন্ধ আছে। যদিও জকিগঞ্জ উপজেলায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলায় বিটিসিএল’র নেটওয়ার্ক ডাউন রয়েছে। এছাড়া সিলেটের অন্যান্য উপজেলায় বিটিসিএল’র টেলিকমিউনিকেশন চালু আছে। মৌলভীবাজার জেলার জুড়ি উপজেলা ছাড়া সবকটি উপজেলায় এবং হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলা ছাড়া সবকটি উপজেলায় টেলিকমিউনিকেশন ব্যবস্থা চালু আছে। বিটিসিএলের ছাতক উপজেলার টেলিকমিউনিকেশন যন্ত্রপাতি বন্যার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জকিগঞ্জ, কানাইঘাট, গোয়াইনঘাটের অপটিক্যাল ফাইবারের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিটিসিএল অতি অল্প সময়ে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে টেলিকমিউনিকেশন ব্যবস্থা চালু করতে সক্ষম হয়েছে। সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় বিটিসিএল’র একটি টিম পোর্টেবল জেনারেটর নিয়ে সুনামগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। এ টিম সফলভাবে কাজ করতে সক্ষম হলে সকাল নাগাদ সুনামগঞ্জে বিটিসিএলের নেটওয়ার্ক সচল করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। বিটিসিএল সংশ্লিষ্ট দপ্তর বর্ণিত এলাকাসমূহে নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে এবং নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গত শনিবার ১২টি ভিস্যাট সুনামগঞ্জে সেনাবাহিনীর কাছে পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে হাই-টেক পার্ক ক্যাম্পে একটি, সুনামগঞ্জ ডিসি কার্যালয় একটি এবং সার্কিট হাউজে একটি করে চালু করা হয়েছে। সিলেট স্থানীয় প্রশাসনের কাছে ২৩টি ভিস্যাট গত রোববার পাঠানো হয়েছে। সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে একটি ভিস্যাট স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও দুটি স্যাট স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
গ্রামীনফোন-রবির বিশেষ প্যাকেজ: সিলেট বিভাগের বন্যাকবলিত এলাকায় গ্রামীনফোন তাদের গ্রাহকদের জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য ফ্রি ১০ মিনিট টক টাইম চালু করেছে। রবি দিচ্ছে ফ্রি ১০ মিনিট ও ১০০ এমবি ইন্টারনেট। জাকির হোসেন জানান, ইতোমধ্যে বিটিআরসি থেকে বন্যাকবলিত স্থানসমূহের টেলিযোগাযোগ সেবা ব্যবস্থার সার্বিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের উদ্দেশ্যে একটি সেল গঠন করা হয়েছে। এ মনিটরিং সেল দুর্যোগ কবলিত স্থানে নেটওয়ার্ক পুনরায় সচলের জন্য সকল অপারেটরদের সঙ্গে সার্বিক সমন্বয়ের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ইতোপূর্বে গৃহীত কার্যক্রমের মধ্যে বিটিআরসি থেকে চারটি অপারেটরের মোট ১৬টি টোল ফ্রি নম্বরের অনুমোদন প্রদান করে সে সকল নম্বর সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। যা সেনাবাহিনীর বিভিন্ন উদ্ধার-তৎপরতা ও ত্রাণ বিতরণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিটিআরসি জানায়, এই দুর্যোগ মোকাবেলায় সেনাবাহিনী তাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিভিন্ন অপারেটরদের নেটওয়ার্ক পুনরায় সচল করতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সেনাবাহিনীর প্রদত্ত সড়ক ও নৌপথে পরিবহন ব্যবস্থা ব্যবহার করে বিভিন্ন মোবাইল অপারেটর, বিটিসিএল ইত্যাদি অপারেটররা তাদের সাইট দ্রুত সময়ে সচল করতে পেরেছে। পরিবহন ব্যবস্থা ছাড়াও দুর্গম এলাকায় পোর্টেবল জেনারেটর বহনের ন্যায় কার্যক্রম সেনাবাহিনী পরিচালনা করেছে যার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অপারেটররা উপকৃত হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category