• মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
আইনের অবস্থান থেকে সরকারের আর কিছু করার নেই: আইনমন্ত্রী তীব্র শিক্ষক সঙ্কট নিয়েই চলছে সরকারি মেডিকেল কলেজগুলো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতা চেয়েছেন স্পিকার একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিসহ ৮ দাবি প্রাথমিকের শিক্ষকদের স্বামীর স্থায়ী ঠিকানায় বদলির আদেশ বহাল দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার রোধে প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর রোয়াংছড়ি উপজেলার কুকি চীন সন্ত্রাসী বাহিনীরা রাস্তার ক্ষয়ক্ষতির গ্রস্তে সেনা পরিদর্শন করেন ১৬ আন্তঃনগর ট্রেনে যুক্ত হলো পণ্যবাহী নতুন লাগেজ ভ্যান জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্বনেতাদের যৌথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান মির্জা ফখরুলকে আর ঢাকায় ঢুকতে দেওয়া হবে না: মেয়র তাপস

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রফতানি বাণিজ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে নৌপথ

Reporter Name / ৭৮ Time View
Update : শনিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রফতানি বাণিজ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে নৌপথ। দুই দেশের মধ্যে প্রতি বছরই নৌপথে বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়ছে। আর বাংলাদেশী জাহাজ ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে ওই পণ্য পরিবহন ব্যবসা। বিগত ২০২০-২১ অর্থবছরে দুই দেশের মধ্যে নৌপথে পণ্য আনা-নেয়ার ক্ষেত্রে ৯২ শতাংশই বাংলাদেশী জাহাজের ব্যবহার হয়েছে। বাকি মাত্র ৮ শতাংশ পণ্য ভারতীয় জাহাজের মাধ্যমে পরিবহন হয়েছে। আগে নৌপথে শুধু সিমেন্ট খাতের কাঁচামাল আমদানি হতো। এখন চাল, গম, ভুট্টা, পাথরসহ অন্যান্য পণ্যও আমদানি হচ্ছে। ওই কারণে পণ্য পরিবহনের পরিমাণ বেড়েছে। অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে বিগত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আমদানি-রফতানির পরিমাণ ছিল ২৬ লাখ ২৪ হাজার টনেরও বেশি। ওসব পণ্য আনা-নেয়ায় বাংলাদেশের ৩ হাজার ১১টি জাহাজের বিপরীতে ভারতের মাত্র ২৯টি জাহাজের ব্যবহার হয়। ওই বছর পণ্য পরিবহনের ৯৯ শতাংশই বাংলাদেশী জাহাজে হয়েছে। আর ২০১৭-১৮ সালে আমদানি-রফতানির পরিমাণ ছিল ২৭ লাখ টনেরও বেশি। ওসব পণ্য পরিবহনে বাংলাদেশের জাহাজ ব্যবহার হয়েছে ৩ হাজার ৩০০টি। পাশাপাশি ভারতের ৮৬টি জাহাজ ব্যবহার হয়েছে। ওই বছরও পণ্য পরিবহন কাজে ব্যবহূত জাহাজের ৯৮ শতাংশই বাংলাদেশী ছিল। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২৪ লাখ টনের বেশি পণ্য আমদানি-রফতানিতে বাংলাদেশের জাহাজ ব্যবহার হয়েছে ৯৫ শতাংশ বা ২ হাজার ৬৮৫টি। বিপরীতে ভারতের জাহাজ ব্যবহার হয়েছে ৫৯টি। তার পরের অর্থবছরে আমদানি-রফতানির পরিমাণ ছিল ২৭ লাখ ৮০ হাজার টনেরও বেশি। ওই বছরও ৯৬ শতাংশ অর্থাৎ বাংলাদেশের ৩ হাজার ১৯২টি জাহাজে পণ্য পরিবহন করা হয়। বিপরীতে ভারতের জাহাজ ব্যবহৃত হয়েছে ৭০টি। সর্বশেষ ২০২০-২১ অর্থবছরে নৌপথে দুই দেশের আমদানি-রফতানির পরিমাণ ছিল ৩৯ লাখ ৫৯ হাজার টনের বেশি, যা আনা-নেয়ার কাজে বাংলাদেশের জাহাজ ব্যবহার হয়েছে ৩ হাজার ৯১৩টি, শতাংশের হিসেবে যা ৯২। বিপরীতে ভারতের জাহাজ ব্যবহার হয়েছে ২২৬টি।
সূত্র জানায়, নৌপথে বাণিজ্যের জন্য ১৯৭২ সাল থেকেই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেড (পিআইডবিউটিটি) চলমান রয়েছে। তবে ২০০০ সালের আগ পর্যন্ত শুধু ভারতীয় জাহাজের মাধ্যমে পণ্য আনা-নেয়া করা যেতো। ২০০০ সালের পর ওই কাজে বাংলাদেশের জাহাজও সম্পৃক্ত হয়। প্রটোকল অনুযায়ী যদিও আমদানি-রফতানিতে দুই দেশের সমানসংখ্যক জাহাজ ব্যবহার হওয়ার কথা। কিন্তু ২০০১-০২ অর্থবছরে নৌবাণিজ্যে ভারতের জাহাজের ৫৫ শতাংশ পরিবহনের বিপরীতে বাংলাদেশের জাহাজ ব্যবহারের হার ছিল ৪৫ শতাংশ। তার পরের কয়েক বছরও ভারতীয় জাহাজ দিয়েই বেশির ভাগ পণ্য পরিবহন করা হতো। তবে ২০০৫ সালের পর থেকে বাংলাদেশের জাহাজের পণ্য পরিবহনের পরিমাণ বাড়তে থাকে। কারণ গত কয়েক বছরে দেশে উন্নয়ন কর্মকা- উলেখযোগ্য হারে বেড়েছে। নৌপথেরও উন্নয়ন হয়েছে। নিয়মিত ড্রেজিংয়ের কারণে নদীর নাব্যতা বেড়েছে। ফলে বেশির ভাগ নদীতেই এখন মাঝারি বা বড় আকারের পণ্যবাহী নৌযান যাতায়াত করতে পারে। তাছাড়া বাংলাদেশের জাহাজ শিল্পও অনেক এগিয়েছে। ওই শিল্পে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটেছে এবং বিনিয়োগ বেড়েছে। ওসব কারণে নৌপথে পণ্য আমদানি-রফতানি বেড়েছে। তাছাড়া নৌপথে পণ্য পরিবহনে সময় ও খরচও তুলনামূলক কম। ফলে বাণিজ্য বাড়ছে।
সূত্র আরো জানায়, একসময় নৌপথে ভারত থেকে শুধু সিমেন্টের কাঁচামাল ফ্লাই অ্যাশ আমদানি হতো। এখন তার পাশাপাশি চাল, গম, ভুট্টার মতো শস্য, স্টিলের উপকরণ ইত্যাদিও নৌপথের মাধ্যমে আমদানি হয়। তাছাড়া ট্রান্সশিপমেন্টের মাধ্যমে আমদানি-রফতানি বেড়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের ১০টি সুনির্দিষ্ট নৌপথ দিয়ে ওসব জাহাজ চলাচল করে। দুই দেশের মধ্যে উপকূলীয় নৌচলাচল শুরু হওয়ায় পণ্য পরিবহনের সময় ৭ থেকে ১০ দিনে নেমে এসেছে। তাতে পরিবহন ব্যয় সাশ্রয় হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি ভারতের আগ্রহের কারণে পুরনো বেশকিছু নৌপথ চালুরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ওসব নৌপথে ড্রেজিং করে সারা বছর নদীর নাব্যতা ধরে রাখার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। তাছাড়া ত্রিপুরা, আসামসহ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে সড়ক, রেলপথের পাশাপাশি নৌপথকেও সমান গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। আমদানি-রফতানির জন্য নৌযানে পরিবাহিত পণ্য পরে সড়কপথে পরিবহনের সুবিধার জন্য সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়নও করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ওসব উদ্যোগের মধ্যে আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত সড়কটি চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। আবার আখাউড়া থেকে আগরতলা পর্যন্ত সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপন করতে ১১ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণের কাজও চলছে। তাছাড়া চট্টগ্রামের বারইয়ারহাট থেকে রামগড় সীমান্ত পর্যন্ত সড়কটি প্রশস্ত করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে বা বাংলাদেশ থেকে ভারতে পণ্য পরিবহনের জন্য নৌপথটিই ব্যবসায়ীদের কাছে সুবিধাজনক মনে হওয়ায় ওই পথে প্রতি বছরই বাড়ছে পরিবাহিত পণ্যের পরিমাণ। আবার বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নের কারণে জাহাজ চলাচল খাতটি উন্নত হওয়ায় পণ্য আমদানিতে ওই খাতের সম্পৃক্ততাও অনেক বেড়েছে। যার কারণে ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের অনেক বেশি জাহাজ এ পথে পণ্য আনা-নেয়ার কাজ করছে।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিট্রা বিভাগের পরিচালক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, আগে সড়কপথে ভারত থেকে পণ্য আমদানি হতো বেশি। কিন্তু এখন ব্যবসায়ীরা নৌপথ ব্যবহারেও আগ্রহী হয়ে উঠেছে। সেজন্য ওই পথে বাণিজ্যের পরিমাণ বেড়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category