• বৃহস্পতিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৪, ১১:২৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
স্বাস্থ্যসেবায় অভূতপূর্ব অর্জন বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে: রাষ্ট্রপতি শান্তি আলোচনায় কেএনএফকে বিশ্বাস করেছিলাম, তারা ষড়যন্ত্র করেছে: সেনাপ্রধান বন কর্মকর্তার খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে কাজ করছে মন্ত্রণালয়: পরিবেশমন্ত্রী পুরান ঢাকার রাসায়নিক গুদাম: ১৪ বছর ধরে সরানোর অপেক্ষা ভাসানটেক বস্তিতে ফায়ার হাইড্রেন্ট স্থাপন করা হবে : মেয়র আতিক রুমা উপজেলা সোনালী ব্যাংকের অপহৃত ম্যানেজার উদ্ধারের পর পরিবার কাছে হস্তান্তর সন্ত্রাসী দল কর্মকান্ড পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বান্দরবানে চলছে জমজমাট নাইট মিনিবার স্বাধীনতা কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২৪ সরকারের বাস্তবমুখী পদক্ষেপে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমেছে: প্রধানমন্ত্রী বান্দরবানে সোনালী ব্যাংকে লুটের ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে

বাজেটে সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি সাংস্কৃতিক জোটের

Reporter Name / ৭৮ Time View
Update : বুধবার, ১১ মে, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক :
দেশের সংস্কৃতি খাতের উন্নয়নে আগামী অর্থবছরে জাতীয় বাজেটের কমপক্ষে এক শতাংশ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। আগামী অর্থবছরকে সামনে রেখে আজ বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে সংস্কৃতি খাতে বাজেট বাড়ানোর দাবিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় সংগঠনটি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস। এ সময় তিনি সংস্কৃতি খাতের উন্নয়নের জন্য সারাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ে অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রস্তাবনা তুলে ধরে বলেন, সংস্কৃতিকর্মীদেরও এ খাতে আর কোনো অনুদান নয়। বরং বাজেট দিতে হবে। অনুদানের ভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে সংস্কৃতি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে হবে। লিখিত বক্তব্যে তিনি বেশকিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। প্রস্তাবনাগুলো হলো:
১. জাতীয় বাজেটের কমপক্ষে এক শতাংশ সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দ করতে হবে। এ বরাদ্দের বড় একটি অংশ অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, সংগঠনের অনুদান, শিল্পীদের সম্মানি এবং বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে।
২। প্রত্যেক উপজেলায় ৫০০ আসনের আধুনিক মিলনায়তন নির্মাণ ও এর সঙ্গে মহড়া, প্রশিক্ষণের সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত কয়েকটি কক্ষ নির্মাণ করতে হবে। উপজেলা সদরে একটি উন্মুক্ত মঞ্চ নির্মাণ করতে হবে। একটি বিশেষ প্রকল্প নিয়ে প্রতি বছর অন্তত ১০০টি উপজেলায় এ নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হলে আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের সবকয়টি উপজেলায় সংস্কৃতি চর্চার নেটওয়ার্ক তৈরি হবে।
৩। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ স্মরণে রেখে প্রত্যেক জেলায় ‘বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ স্মৃতিভবন নির্মাণ করা। এ ভবনে ৭০০ আসনের আধুনিক মিলনায়তন, মহড়া ও কর্মশালার কক্ষ, সেমিনার হল, পাঠাগার, ক্যান্টিন ও ৫ থেকে ১০ জন থাকার মতো কক্ষের ব্যবস্থা। এ ভবনটি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি রক্ষার পাশাপাশি ওই জেলার শিল্পী-সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীদের মিলনকেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠবে। যত দ্রুত সম্ভব এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে।
৪। ঢাকা মহানগরীসহ অন্যান্য মহানগরীর বিস্তীর্ণ এলাকায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন কোনো মিলনায়তন নেই। মহানগরীগুলোর প্রতি ৫ লাখ নাগরিকের জন্য একটি করে আধুনিক মিলনায়তন নির্মাণ করা অত্যাবশ্যক।
৫। স্বাধীনতার ৫০ বছরেও আমাদের দেশে সরকারি উদ্যোগে একটি যাত্রাপালার প্যান্ডেল নির্মিত হয়নি। রাজধানীসহ প্রত্যেক জেলায় একটি করে স্থায়ী যাত্রাপালার প্যান্ডেল নির্মিত হলে অশ্লীলতার প্রবণতা থেকেও মুক্ত হওয়া যাবে।
৬। প্রত্যেক জেলায় চারুকলা প্রদর্শনীর জন্য আর্ট গ্যালারি এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর জন্য মিনি অডিটরিয়াম নির্মাণ করতে হবে।
৭। সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে প্রকৃত শিল্পীরা পুরোটা জীবন সংস্কৃতি চর্চায় নিজেদের নিবেদন করে আসছেন। বয়সকালে এসব শিল্পীদের অসচ্ছল বিবেচনায় যে ভাতা দেওয়া হয় তা এতই নগণ্য যে, একেবারে নিরুপায় না হলে কেউ আবেদনই করেন না। ২০২১-২২ অর্থবছরে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৪ হাজার ১১৬ জন শিল্পীকে মোট ৬ কোটি ৭২ লাখ ৬২ হাজার টাকা অনুদান দেয়। এরমধ্যে অধিকাংশ শিল্পীর অনুদানই মাসিক ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। জাতীয় পর্যায়ের কয়েকজন শিল্পী সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা পেয়ে থাকেন। আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, অসচ্ছল শিল্পীদের মাসিক অনুদানের পরিমাণ বাস্তবতার নিরিখে ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হোক। এ ক্ষেত্রে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলে আরও অধিকসংখ্যক শিল্পীকে অনুদানের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে।
৮। ২০২১-২০২২ অর্থবছরে দেশের ১ হাজার ৪৫০টি সাংস্কৃতিক সংগঠনকে মোট ৭ কোটি ৪ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়। সংগঠনের দেওয়া অনুদানের আর্থিক পরিমাণ ৩০ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। ক্রিয়াশীল প্রতিটি সংগঠনের বার্ষিক ব্যয় প্রতিবছর কয়েক লাখ টাকা। আমরা মনে করি, অনুদান দেওয়ার সর্বনিম্ন পরিমাণ হওয়া উচিত সংগঠন প্রতি অন্তত এক লাখ টাকা। সারাদেশে আনুমানিক দশ সহ¯্রাধিক সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে। যাচাই-বাছাই করে অন্তত পাঁচ হাজার সংগঠনকে অনুদানের আওতায় আনা হোক।
৯। জাতীয়ভিত্তিক সাংস্কৃতিক ফেডারেশনগুরোর সারা বছরের কর্মকা- পরিচালনা ও জাতীয় পর্যায়ে অবাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎসব আয়োজনকারী মূলধারার সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজন অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা দেওয়া। আমাদের প্রত্যাশা উপরের দুই খাতে অন্তত ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হোক।
১০। দেশের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় শিগগির সম্ভব ‘সম্প্রীতির জন্য সংস্কৃতি’ মূল প্রতিপাদ্য নিয়ে। দেশব্যাপী ব্যাপক সাংস্কৃতিক জাগরণ গড়ে তুলতে হবে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য জাতীয়ভিত্তিক সাংস্কৃতিক ফেডারেশনগুলোকে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচির ভিত্তিতে বিশেষ আর্থিক বরাদ্দ দিতে হবে। কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য এ খাতে চলতি অর্থবছরে ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানাই।
১১। উপজেলা পর্যায়ে অবিলম্বে একজন করে শিল্পকলা অফিসার নিয়োগ দেওয়া অত্যাবশ্যক। সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিল্পীদের প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য প্রত্যেক জেলা ও উপজেলায় সঙ্গীত, নাটক, নৃত্য, আবৃত্তি ও চারুকলার স্থায়ী প্রশিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে।
১২। বেতার-টেলিভিশনসহ সব সরকারি প্রতিষ্ঠান ও অনুষ্ঠানে শিল্পী, যন্ত্রী ও কারিগরীকর্মীদের যুগপোযোগী আর্থিক সন্মানি দেওয়া বাঞ্ছনীয়।
১৩। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটসহ জাতীয়ভিত্তিক সাংস্কৃতিক ফেডারেশনগুলোর স্থায়ী দপ্তর নির্মাণের জন্য মতিঝিলের ক্রীড়া পল্লির অনুরূপ জায়গা বরাদ্দ দিতে হবে।
১৪। বহুমুখী শিক্ষার পরিবর্তে একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু অত্যাবশ্যক। মুক্তিযুদ্ধ ও মানবসভ্যতার ইতিহাস, অসাম্প্রদায়িক বিজ্ঞানমনস্ক আধুনিক চিন্তা সম্বলিত লেখা পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। শিক্ষাকার্যক্রমে সংস্কৃতিকে অন্তর্ভুক্ত করে প্রতি বছর সাংস্কৃতিক উৎসব ও প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করতে হবে।
১৫। সরকারের বড় বড় সাংস্কৃতিক আয়োজনে জাতীয়ভিত্তিক সাংস্কৃতিক ফেডারেশনগুলোকে সম্পৃক্ত করে শিল্পকলা একাডেমির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করাই বাঞ্ছনীয়। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উৎসব বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের প্রতিষ্ঠান নীতি-আদর্শ এবং সৃজনশীলতা চাইতে বাণিজ্যকেই প্রধান করে দেবে। লড়াই-সংগ্রামের ঐতিহ্যে লালিত শিল্পী এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনকে এড়িয়ে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন মূলধারার সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে নিঃসন্দেহে। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী বর্তমান সরকারের আমলে এ ধরনের কার্যক্রম কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।
১৬। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারিভাবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনার সঙ্গে স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে যুক্ত করতে হবে। আমলাতন্ত্রের সংস্কৃতিচর্চা ও আয়োজন নিশ্চিত করতে হবে।
১৭। সংস্কৃতিকর্মীদের আবাসনের জন্য ‘সংস্কৃতিপল্লি’ নির্মাণ করতে হবে। আমাদের প্রত্যাশা হলো সংস্কৃতি, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়গুলো আমাদের বক্তব্যের গুরুত্ব ও যৌক্তিকতা অনুভব করে যথাযথ ব্যবস্থা ও উদ্যোগ নেবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জোটের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আহকাম উল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতিম-লীর সদস্য অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ। এ ছাড়া জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য ও শিল্পরা উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category