• রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন
  • ই-পেপার
সর্বশেষ
সর্বোচ্চ আদালতকে পাশ কাটিয়ে সরকার কিছুই করবে না: আইনমন্ত্রী নাইজেরিয়ান চক্রের মাধ্যমে চট্টগ্রামে কোকেন পাচার কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের অপেক্ষা করতে বললেন ব্যারিস্টার সুমন পদ্মা সেতুর সুরক্ষায় নদী শাসনে ব্যয় বাড়ছে পিএসসির উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীরসহ ৬ জনের রিমান্ড শুনানি পিছিয়েছে শৃঙ্খলা ভঙ্গের চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার রপ্তানিতে বাংলাদেশ ব্যবহার করছে না রেল ট্রানজিট রাজাকারের পক্ষে স্লোগান সরকারবিরোধী নয়, রাষ্ট্রবিরোধী: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ইউনূসসহ ১৪ জনের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়নি বঙ্গোপসাগরের জীববৈচিত্র্য নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র-আলোকচিত্র প্রদর্শনী

বাজেট পুনর্বিবেচনা না করলে ক্ষতির মুখে পড়বে নির্মাণশিল্প: রিহ্যাব

Reporter Name / ৮২ Time View
Update : শনিবার, ১৮ জুন, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক :
অর্থমন্ত্রী ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য যে বাজেট উপস্থাপন করেছেন, তাতে দেশের নির্মাণ তথা আবাসন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে জানিয়েছে আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। গতকাল শনিবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘ঘোষিত জাতীয় বাজেট ২০২২-২৩ সম্পর্কিত রিহ্যাবের প্রতিক্রিয়া’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান সংগঠনটির সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন কাজল। তিনি বলেন, এ বছর নির্মাণসামগ্রীর মূল্য কী পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে? আমরা, রড, সিমেন্ট, বালু, ইট ও পাথরসহ ১০-১১টি নির্মাণসামগ্রীর ওপর স্টাডি করে দেখেছি কয়েক মাসের মূল্যবৃদ্ধিতে নতুন ও নির্মাণাধীন প্রকল্পসমূহে প্রতি বর্গফুটের নির্মাণব্যয় প্রায় ৫০০ টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে। কাজল বলেন, নির্মাণ ব্যয় ৫০০ টাকা বৃদ্ধি পেলে প্রতি বর্গফুটের জন্য গ্রাহককে বাড়তি বহন করতে হবে প্রায় ১,০০০ টাকা। কারণ আমরা ডেভেলপাররা অধিকাংশ জমিগ্রহণ করি ৫০:৫০ রেশিওতে (অনুপাতে)। বাড়তি এই দাম ‘সবার জন্য আবাসন’ এই শ্লোগানকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে এবং অনেকের আবাসনের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে। এ সময় রিহ্যাব সভাপতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগের সুযোগ অব্যাহত রাখার দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করে বলেন, প্রস্তাবিত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে লিফটের কর ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ছাড়া আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ, মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ১৫ শতাংশ, অগ্রিম আয়কর (এআইটি) ৫ শতাংশ ও অগ্রিম কর (এটি) ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে লিফট আমদানিতে শুল্ক কর ১১ থেকে এক লাফে ১৯ শতাংশ বেড়ে ৩০ শতাংশে উঠেছে। হঠাৎ করে এই মূল্যবৃদ্ধি ফ্ল্যাটের দাম আরও বাড়িয়ে দেবে বলেও জানান তারা। রিহ্যাব জানায়, আবাসন খাতের অন্যতম প্রধান উপকরণ এমএস (নরম ইস্পাতের) রড। গত কয়েক মাস ধরে দফায় দফায় এই রডের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। রডের দাম এখন আকাশ ছোঁয়া। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আমরা চেয়েছিলাম ইস্পাতের কাঁচামালের ওপর শুল্ক কর কমানো হোক। সেটি না করে উল্টো বিক্রয় পর্যায়ে প্রতি টন বিলেট (রড-ইস্পাত উৎপাদনের কাঁচামাল) ও রডের ওপর ২০০ টাকা করে মূসক বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে রডের দাম আরও বাড়বে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের তারের বিদ্যমান শুল্ক ৫ শতাংশ হতে বৃদ্ধি করে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আবার বিভিন্ন ধরনের পাইপের ক্ষেত্রে শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, জিআই ফিটিংসের বিপরীতে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে, টিউবসহ একই জাতীয় অন্যান্য পণ্যের ওপর শুল্ক ১০ শতাংশ হতে বৃদ্ধি করে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল পণ্যটির ওপর সম্পূরক শুল্ক আরোপিত ছিল না। কিন্তু ঘোষিত বাজেটে এর ওপরও ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। রিহ্যাব নেতারা বলেন, ঘোষিত বাজেটের বাড়তি চাপ আমাদের সংকটকে আরও বৃদ্ধি করবে এবং এই সেক্টর আরও ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে যাবে। এর ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত দুই কোটি মানুষের আয়ের এ খাতটি আরও মুখ থুবড়ে পড়তে পারে। দেশের উন্নয়ন ও মানুষের মৌলিক অধিকার পূরণের স্বার্থে আমরা আবাসন খাতকে গতিশীল করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাই। তারা বলেন, মানুষ নিরাপদে থাকার জন্য, মাথা গোজার জন্য একটা আবাসন চায়। সবার জন্য আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য জাতীয় বাজেট ২০২২-২৩ পাশ করার আগে রিহ্যাবের দাবি ও প্রস্তাবনাসমূহ বিবেচনা করার জন্য আপনাদের মাধ্যমে আবারও প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানসহ বাজেটসংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি। অন্যদিকে ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগের সুযোগ অব্যাহত রাখার দাবি জানায় রিহ্যাব। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ‘হাউজিং লোন’ নামে ২০ হাজার কোটি টাকার রিফাইন্যান্সিং তহবিল গঠনসহ নির্মাণসামগ্রীর মূল্য কমানোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাব সভাপতি বলেন, আমাদের দাবিসমূহ সম্পৃক্ত করা হলে এই খাত সরকারের রাজস্ব আয়ে ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে এবং সাড়ে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন ঝুঁকি মুক্ত হবে। কারণ নতুন সম্পদ সৃষ্টি প্রবৃদ্ধিকে সরাসরি ধনাত্মক করে। অন্যথায় এ খাতের সঙ্গে যুক্ত সব ব্যবসায়ী মারাত্মক সমস্যার মুখোমুখি হবেন। সর্বোপরি দেশ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এরআগে আবাসন শিল্পের সব সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাশে থেকেছেন, নির্দেশনা ও পরামর্শ দিয়েছেন। এই শিল্পের বর্তমান সংকটেও সঙ্গে থাকবেন এমনটাই প্রত্যাশা এই খাতের বিনিয়োগকারীদের। শামসুল আলামিন বলেন, রিহ্যাবের বাজেট প্রস্তাবনায় আমরা সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছিলাম স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনাপ্রশ্নে বিনিয়োগের সুযোগ অব্যাহত রাখা। ২০২০-২১ অর্থবছরে বিনাপ্রশ্নে বিনিয়োগের সুযোগ থাকায় ২০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা অর্থনীতির মূল ধারায় এসেছে। সরকার দুই হাজার কোটি টাকার ওপরে রাজস্ব পেয়েছে। এই টাকা দেশে বিনিয়োগ না হলে তার গন্তব্য কোথায় তা আপনারা নিশ্চয়ই জানেন। তিনি বলেন, বর্তমানে ডলারের সংকট কেন তৈরি হয়েছে সেটাও আপনারা জানেন। গত বাজেট অনুমোদনের পর অপ্রদর্শিত অর্থের বিনিয়োগ সম্পর্কে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যার অভাবে বিনিয়োগ কম হয়েছে। স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনাপ্রশ্নে বিনিয়োগের সুযোগ অব্যাহত থাকলে অর্থনীতিতে একটা ভালো সুফল আসবে। নানা কারণে বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনীতি টালমাটাল। আগামীতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আরও বড় ধাক্কা লাগতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন। সেটির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়বে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মানি ট্রাফিকিং রোধ করার চেষ্টা করছে। স্ব-স্ব দেশ বৈদেশিক মুদ্রা কীভাবে দেশের ভেতরে রাখা যায় তার ব্যবস্থা করছে। কাজেই আমরা এই অবস্থায় যদি অপ্রদর্শিত অর্থ পাচারের সুযোগ না রেখে মূল ধারার অর্থনীতিতে নিয়ে আসতে পারি তবে সরকারের রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং আসন্ন সঙ্কট মোকাকিলা করা সহজ হবে। রিহ্যাব সভাপতি বলেন, অর্থমন্ত্রী গত ১৫ জুন সরকারি অর্থনৈতিক ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রীসভার বৈঠক শেষে বলেছেন, অপ্রদর্শিত অর্থ উৎপাদনের জন্য বিদ্যমান ব্যবস্থাটাই দায়ী’। হঠাৎ করে বা রাতারাতি সিস্টেম পরিবর্তন করা সম্ভব না। আমাদের বক্তব্য হচ্ছে নিবন্ধন ব্যয় ১২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ থেকে ৩ শতাংশে নিয়ে এসে ধীরে ধীরে সিস্টেম পরিবর্তন করলে তবেই সঠিক মূল্যে রেজিস্ট্রেশন হবে এবং সার্বিক অর্থনীতিতে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ বলে গণ্য করা যাবে। ঘোষিত বাজেটে পাচারকৃত টাকা দেশে আনার বিষয়ে আইন করা হয়েছে, এটি সাহসী পদক্ষেপ। কিন্তু দেশ থেকে যাতে টাকা পাচার না হয়, সেদিকেই আমাদের বিশেষ নজর দেওয়া উচিত। বিনা প্রশ্নে উত্তম বিনিয়োগের সুযোগ ২০২০-২১ অর্থ বছরের বাজেটে নির্দেশিত নির্দেশনার আদলে এখন বাস্তব সম্মত ও সময় উপযোগী বলে মন্তব্য করেন শামসুল আলামিন। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- রিহ্যাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইন্তেখাবুল হামিদ, সহ-সভাপতি (প্রথম) কামাল মাহমুদ, সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম দুলাল, লায়ন শরীফ আলী খান, প্রকৌশলী মোহাম্মদ সোহেল রানা প্রমুখ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category