• রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ০৩:১০ পূর্বাহ্ন
  • ই-পেপার
সর্বশেষ
সর্বোচ্চ আদালতকে পাশ কাটিয়ে সরকার কিছুই করবে না: আইনমন্ত্রী নাইজেরিয়ান চক্রের মাধ্যমে চট্টগ্রামে কোকেন পাচার কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের অপেক্ষা করতে বললেন ব্যারিস্টার সুমন পদ্মা সেতুর সুরক্ষায় নদী শাসনে ব্যয় বাড়ছে পিএসসির উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীরসহ ৬ জনের রিমান্ড শুনানি পিছিয়েছে শৃঙ্খলা ভঙ্গের চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার রপ্তানিতে বাংলাদেশ ব্যবহার করছে না রেল ট্রানজিট রাজাকারের পক্ষে স্লোগান সরকারবিরোধী নয়, রাষ্ট্রবিরোধী: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ইউনূসসহ ১৪ জনের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়নি বঙ্গোপসাগরের জীববৈচিত্র্য নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র-আলোকচিত্র প্রদর্শনী

বাবুলের সন্তানেরা জিজ্ঞাসাবাদে যেন মানসিক চাপে না পড়ে: হাইকোর্ট

Reporter Name / ৯৬ Time View
Update : বুধবার, ৮ জুন, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক :
সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাদের দুই শিশু সন্তান যেন কোনোভাবেই মানসিক চাপে না পড়ে, সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আজ বুধবার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি সাহেদ নুর উদদীনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এদিন বাবুল-মিতু দম্পতির দুই সন্তানকে পিবিআই কার্যালয়ে নয়, মাগুরায় তাদের অভিভাবক দাদা ও সমাজসেবা কর্মকর্তার উপস্থিতিতে শিশু আইন মেনে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন আদালত। জিজ্ঞাসাবাদের দিনে দুই শিশুর দাদা ও মাগুরার জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে উপস্থিত করার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গড়িমসি বা টালবাহানা করা যাবে না বলে আদেশে জানান হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় শুধুমাত্র অভিভাবক হিসেবে শিশুদের দাদা উপস্থিত থাকতে পারবেন। এ ছাড়া একজন নারী পুলিশ ও সমাজসেবা কর্মকর্তা থাকতে পারবেন। কোনোভাবেই শিশুরা যেন মানসিক চাপে না পড়ে, সেদিকে সবাইকে দৃষ্টি রাখতে হবে। আলোচিত এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে কোনো ধরনের বিলম্ব ছাড়া দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। গত মঙ্গলবার শিশু আইন অনুসরণ করে সমাজসেবা কর্মকর্তার সামনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নির্দেশনা চেয়ে করা আবেদনের ওপর রাষ্ট্র ও আবেদনকারী উভয়ের শুনানি শেষ হয়। পরে এ বিষয়ে আদেশ দেওয়ার জন্যে গতকাল বুধবার দিন ঠিক করেন হাইকোর্ট। এদিন আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শিশির মনির। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারোয়ার হোসেন বাপ্পী। এর আগে, মায়ের হত্যার বিষয়ে এসপি বাবুলের দুই সন্তানকে শিশু আইন মেনে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশনা দিতে আবেদন করেন অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শিশির মনির। গত রোববার দুই শিশুর দাদা ও চাচার পক্ষে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদনটি করেন শিশির মনির। ওই আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয় গতকাল বুধবার। এরপর এ বিষয়ে আদেশ দেওয়ার জন্য দিন ঠিক করেন আদালত। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বাবুলের দুই শিশু সন্তানকে ১৫ দিনের মধ্যে পিবিআই চট্টগ্রাম কার্যালয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে নিয়ে যাওয়ার আদেশ দেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট। তবে পিবিআই কার্যালয়ে কথা বলার আদেশ বাতিল চেয়ে একই আদালতে আবেদন করেন বাবুলের ভাই হাবিবুর রহমান। ওই আবেদনে বলা হয়, দুই শিশুর সঙ্গে মাগুরা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতির উপস্থিতিতে কথা বলা হোক। সেখানে জেলা প্রবেশন অফিসারের উপস্থিতিও নিশ্চিত করতে হবে। অথবা এ দুজনের উপস্থিতিতে জেলা প্রবেশন অফিসারের কক্ষে শিশুদের সঙ্গে তদন্তকারী কর্মকর্তা কথা বলুক। পরে ১৬ মার্চ এক আদেশে মহানগর দায়রা জজ বলেন, আবেদনটি (রিভিশন) নামঞ্জুরক্রমে সাক্ষী শিশুদের জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে শিশু আইন-২০১৩ এর ৫৩ ও ৫৪ ধারার বিধান কঠোরভাবে অনুসরণপূর্বক জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হলো। ওই দিন শিশু আইন মেনে সতর্কতার সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নির্দেশ দেয় চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানের আদালত। আদালতের এ আদেশের পরে শিশু দুটিকে তাদের অফিসে হাজির করতে নোটিশ দেয় পিবিআই। কিন্তু শিশু আইন অনুযায়ী তারা এটা করতে পারেন না। এ কারণে শিশু আইন অনুসারে যাতে শিশু দুটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যায় তার নির্দেশনা চেয়ে গত ৩০ মার্চ হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত গতকাল বুধবার আদেশের জন্য দিন ঠিক করেন। ২০১৬ সালের ৫ জুন ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে নগরের জিইসি মোড় এলাকায় খুন হন মাহমুদা খানম। এ ঘটনায় বাবুল বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন। গত বছরের ১২ মে পিবিআই এ মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। একই দিন বাবুলের শ্বশুর বাদী হয়ে বাবুলকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে এ মামলায় পিবিআই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিলে আদালত সেটি গ্রহণ করেন। বাবুল আক্তারের দুই শিশু সন্তান বর্তমানে দাদা আবদুল ওয়াদুদ ও বাবুলের বর্তমান স্ত্রী ইশমত জাহানের তত্ত্বাবধানে মাগুরার বাসায় বসবাস করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category