• শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪, ০৭:০৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ

বিপুল বিনিয়োগ সত্ত্বেও নদী ভাঙনে প্রতিবছর নিঃস্ব হচ্ছে অসংখ্য মানুষ

Reporter Name / ৪১২ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক :
নদী ভাঙন রোধে সরকার বিপুল বিনিয়োগ সত্ত্বেও প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ নিঃস্ব হচ্ছে। তলিয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি, জায়গা-জমি, হাট-বাজার শিক্ষা, ধর্ম ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠান। নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদী পাড়ের বাসিন্দাদের কাছে আতঙ্কের নাম ভাঙন। প্রতিবছরই নদীভাঙনের শিকার হচ্ছে দেশে বিস্তীর্ণ এলাকা। আর সব হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে হাজার হাজার পরিবার। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের এক জরিপের তথ্যানুযায়ী ভাঙনে প্রতিবছর প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়। বর্ষায় এদেশে নদীভাঙন স্বাভাবিক হলেও এ বছর তা ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। চলতি বছরের জুন মাস থেকেই অনেকগুলো জেলায় নদীভাঙন শুরু হয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের প্রবেশমুখ কুড়িগ্রাম থেকে শুরু করে গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ ও রাজবাড়ী পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে তীব্র নদীভাঙন চলছে। তাছাড়া রাজবাড়ী থেকে শুরু হয়ে মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ঢাকা ও চাঁদপুর পর্যন্ত পদ্মার দুই পাড়ের বাসিন্দারাও নদীভাঙনে নিঃস্ব হচ্ছে। আর চাঁদপুর থেকে বঙ্গোপসাগরে যাওয়া পর্যন্ত মেঘনা এবং তার শাখা নদীগুলোও ভেঙে নিচ্ছে ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলের মাঠ। পানি বিশেষজ্ঞ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সরকারের পানি উন্নয়ন বোর্ডের ট্রাস্টি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) এ বছর দেশের ১৩টি জেলার ২৮ বর্গকিলোমিটার এলাকা ভাঙতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। সিইজিআইএসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, তীব্র ভাঙনের মুখে পড়তে পারে কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, পাবনা, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, রাজশাহী, ফরিদপুর ও মাদারীপুর। তবে নদী বিশেষজ্ঞদের মতে, সিইজিআইএসের পূর্বাভাসের তালিকায় না থাকলেও শরীয়তপুর, চাঁদপুর ও মুন্সিগঞ্জ জেলায় গত দুই বছর তীব্র ভাঙন দেখা যায়। এবারও ওই তিন জেলায় নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দিচ্ছে। সিইজিআইএস গত বছর থেকে দেশের ১৩টি জেলায় ২৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা ভাঙনের মুখে পড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে ভেঙেছে ৩৮ বর্গকিলোমিটার। সিইজিআইএসের সমীক্ষা অনুযায়ী ১৯৭৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দেশের ১ হাজার ৭০০ বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকা নদীতে বিলীন হয়েছে। তাতে বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় ১৭ লাখ ১৫ হাজার মানুষ।
সূত্র জানায়, মূলত নদীর গতি রোখার চেষ্টার কারণেই নদীভাঙন ঘটে। নদীতে বাঁধ দেয়া, অপরিকল্পিতভাবে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের চেষ্টা নদী ভাঙনের অন্যতম কারণ। নদীর পাড়ের ঘাস, কাশবনসহ অন্যান্য বন উজাড় করে ফেললে মাটি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং পানির তোড়ে ভাঙন সৃষ্টি হয়। তাছাড়া অপরিকল্পিতভাবে নদী খনন বা ড্রেজিংয়ের কারণেও নদী ক্ষতির শিকার হয়। তাছাড়া নদীভাঙন রোধে নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। দেখা যায় যে প্রক্রিয়ায় এবং যে ধরনের দ্রব্য ব্যবহার করে নদীর পাড় মজবুত করতে বলা হয়, দুর্নীতি কারণে তা করা সম্ভব হয় না। ফলে সরকারি উদ্যোগ থাকলেও বাস্তবে তা তেমন সহায়ক হচ্ছে না।
এদিকে এ বিষয়ে বিশিষ্ট পানি বিশেষজ্ঞ ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত জানান, নদীভাঙন রোধে সরকার প্রচুর বিনিয়োগ করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মাধ্যমে নদীর তীর রক্ষায় ও বাঁধ নির্মাণে প্রচুর অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু বিনিয়োগ অনুপাতে সুফল পাওয়া যায়নি। মূলত সমন্বিত পরিকল্পনার অভাব এবং অনিয়ম-দুর্নীতির ফলে নদী রক্ষায় যেসব বাঁধ নির্মাণ করা হয় সেগুলো মজবুত হয় না। ফলে প্রতি বছরই বাঁধ ভাঙে এবং আবার তা মেরামত করা হয়। তাতে প্রচুর অর্থ খরচ হলেও নদীভাঙন রোধে খুব একটা কার্যকর ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category