• বুধবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
আইনের অবস্থান থেকে সরকারের আর কিছু করার নেই: আইনমন্ত্রী তীব্র শিক্ষক সঙ্কট নিয়েই চলছে সরকারি মেডিকেল কলেজগুলো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতা চেয়েছেন স্পিকার একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিসহ ৮ দাবি প্রাথমিকের শিক্ষকদের স্বামীর স্থায়ী ঠিকানায় বদলির আদেশ বহাল দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার রোধে প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর রোয়াংছড়ি উপজেলার কুকি চীন সন্ত্রাসী বাহিনীরা রাস্তার ক্ষয়ক্ষতির গ্রস্তে সেনা পরিদর্শন করেন ১৬ আন্তঃনগর ট্রেনে যুক্ত হলো পণ্যবাহী নতুন লাগেজ ভ্যান জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্বনেতাদের যৌথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান মির্জা ফখরুলকে আর ঢাকায় ঢুকতে দেওয়া হবে না: মেয়র তাপস

বেবিচকের মাত্রাতিরিক্ত সারচার্জ পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে অনেক এয়ারলাইনস

Reporter Name / ৩৪৮ Time View
Update : বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১


নিজস্ব প্রতিবেদক :
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) উড়োজাহাজের ল্যান্ডিং, পার্কিং, রুট নেভিগেশনসহ বিভিন্ন খাতে কার্যক্রম পরিচালনাকারী সব এয়ারলাইনসই মাশুল (চার্জ) দেয়। তবে বেবিচকের ধার্য করা ওসব মাশুল নির্দিষ্ট সময়ে দিতে ব্যর্থ হলে এয়ারলাইনসগুলোকে প্রতি বছর অতিরিক্ত ৭২ শতাংশ সারচার্জ দিতে হয়। কিন্তু বেবিচকের সারচার্জের হার অতিরিক্ত হওয়ায় এয়ারলাইনসগুলো একবার বকেয়ার চক্রে পড়ে গেলে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকে না। এমন অবস্থায় দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করা এয়ারলাইনসগুলোর সংগঠন এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি) সারচার্জ কমিয়ে যৌক্তিক পর্যায়ে আনার দাবি জানিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় বরাবর চিঠি দিয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং এওএবি সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দর ও আকাশে উড্ডয়নের সময় রাডার ও নেভিগেশন সেবা, বিমানবন্দর ব্যবহার, বিমানবন্দরে পার্কিং ও হ্যাঙ্গার, উড়োজাহাজের নিরাপত্তা বিধানসহ এয়ারলাইনসগুলোকে বিভিন্ন সেবা দিয়ে থাকে বেবিচক। ওই ধরনের অ্যারোনটিক্যাল ও নন-অ্যারোনটিক্যাল সেবার জন্য এয়ারলাইনসগুলো নির্দিষ্ট হারে মাশুল দিয়ে থাকে। বর্তমানে সারচার্জসহ দেশীয় ৪ এয়ারলাইনসের কাছে বেবিচকের পাওনা রয়েছে ৫ হাজার ৩২২ কোটি টাকা। তার মধ্যে মূল পাওনা হচ্ছে ১ হাজার ১৭০ কোটি টাকা। আর মূলের ওপর আরোপিত সারচার্জ বাবদ বাকি ৪ হাজার ১৫২ কোটি টাকা। এমন অবস্থায় এয়ারলাইনসগুলোকে টিকিয়ে রাখতে বার্ষিক সারচার্জ ৭২ শতাংশ থেকে কমিয়ে এওএবি ১২ শতাংশ নির্ধারণ করার অনুরোধ জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, বেবিচক তার বিভিন্ন বকেয়া পাওনার ওপর মাসিক ৬ শতাংশ অর্থাৎ বার্ষিক ৭২ শতাংশ সারচার্জ চক্রবৃদ্ধি হারে আদায় করে। বর্তমানে চালু ও বন্ধ হয়ে যাওয়া ৪টি এয়ারলাইনসের কাছে সারচার্জসহ বেবিচকের বকেয়া পাওনা প্রায় ৫ হাজার ৩২২ কোটি ১৪ লাখ টাকা। তার মধ্যে মূল পাওনা হচ্ছে ১ হাজার ১৭০ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং মূলের ওপর সারচার্জ বাবদ পাওনা ৪ হাজার ১৫১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। মূলত মাত্রাতিরিক্ত সারচার্জ আরোপের কারণে অনেক এয়ারলাইনস তাদের পাওনা পরিশোধ করতে পারছে না। পাশাপাশি বিরাট দেনার চাপে পড়ে অনেক এয়ারলাইন্সই দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম। বন্ধ হয়ে যাওয়া জিএমজি এয়ারলাইনসের কাছে বেবিচকের পাওনা ৩৬৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা। তার মধ্যে মূল পাওনার পরিমাণ হচ্ছে ৫৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, বাকি ৩১১ কোটি ৩০ লাখ টাকাই হচ্ছে সারচার্জ ও অন্যান্য। ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের কাছে বেবিচকের পাওনা ৩৫৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। তার মধ্যে মূল পাওনার পরিমাণ হচ্ছে ৫৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, বাকি ২৯৮ কোটি ৪৯ লাখ টাকাই হচ্ছে সারচার্জ ও অন্যান্য এবং রিজেন্ট এয়ারের কাছে বেবিচকের পাওনা ২৮৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। তার মধ্যে মূল পাওনার পরিমাণ হচ্ছে ১৩৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা, বাকি ১৪৭ কোটি ২০ লাখ টাকাই হচ্ছে সারচার্জ ও অন্যান্য। সূত্র আরো জানায়, বিশ্বের যে কোনো অর্থনৈতিক বিপর্যয়, যুদ্ধ জ¦ালানি মূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বা মহামারীর কারণে প্রথমেই বিরাট ঝুঁকিতে পড়ে এভিয়েশন ব্যবসা। চলমান কভিড-১৯ মহামারীতে এমন অবস্থা আরো ঘনীভূত হচ্ছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতও অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় রয়েছে। এয়ারলাইনসগুলো তাদের পাওনা সময়মতো পরিশোধ করতে পারছে না। তার ওপর অতিরিক্ত সারচার্জ পরিস্থিতি আরো সংকটপূর্ণ করে তুলছে। সময়মতো পাওনা পরিশোধ না করতে পারলে সারচার্জ দিয়ে পাওনা পরিশোধের নিয়ম অনেক দেশেই রয়েছে। তবে ওই সারচার্জের তুলনায় বেবিচকের হার বহুগুণ বেশি। বাংলাদেশের সারচার্জ হচ্ছে বার্ষিক ৭২ শতাংশ, ভারতের ১২ থেকে ১৮ শতাংশ, সিঙ্গাপুরের ৮ শতাংশ, ওমানের ১০ শতাংশ ও পাকিস্তানে ২ শতাংশ। ওই হিসেবে ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের সারচার্জ ৮৩ শতাংশ বেশি। ফলে এয়ারলইনসগুলো একবার বকেয়া সারচার্জের ঝুঁকিতে পড়ে গেলে সেখান থেকে ফিরে আসার আর উপায় থাকে না। পাশাপাশি দেনা পরিশোধ করতেও ব্যর্থ হয়। তার জ¦লন্ত উদাহরণ জিএমজি, ইউনাইটেড ও রিজেন্ট এয়ার। বেসরকারি ওই এয়ারলাইনসগুলো এমন অবস্থা থেকে বের হয়ে পুনরায় আর চালু করতে পারেনি। অবশ্যই কোনো এয়ারলাইনস সময়মতো বিল পরিশোধ করতে না পারলে বকেয়া বিলের ওপর সারচার্জ দিতে হবে। তবে ওই সারচার্জ হার যৌক্তিক ও পরিশোধযোগ্য হওয়া প্রয়োজন। দেশের অর্থনীতিকে আরো গতিময় করতে বাংলাদেশ ব্যাংক সুদহার ৯ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ২০১৩ সালের বেবিচকের এ-সংক্রান্ত এসআরও সংশোধন করে একই তারিখ থেকে মাসিক ১ শতাংশ অর্থাৎ বার্ষিক ১২ শতাংশ হারে নির্ধারণ করে একটি যৌক্তিক ও সন্তোষজনক সারচার্জ আরোপ করার ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন।
এদিকে এ প্রসঙ্গে এওএবি মহাসচিব ও নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান জানান, সারচার্জ সংক্রান্ত এসআরওটি বেবিচক সর্বশেষ ২০১৩ সালে জারি করে। তখন থেকেই এয়ারলাইন্সগুলোর পক্ষ থেকে বেবিচকের কাছে সারচার্জ কমানোর কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। সেজন্য এবার প্রতিমন্ত্রীর কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে। আশা করা যায় তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এভিয়েশন খাতের উন্নয়নের কথা বিবেচনায় নিয়ে এক যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। কারণ বর্তমান হারে সারচার্জ অব্যাহত থাকলে এভিয়েশন খাতে উন্নয়ন সম্ভব নয়।
অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী জানান, এওএবি থেকে একটি চিঠি পাওয়া গেছে। তাদের প্রস্তাবগুলো ইতিবাচকভাবে দেখা হবে। কারণ এভিয়েশন খাত যাতে বড় হয় তার জন্য যত ধরনের সুবিধা দেয়া যায় সেগুলো বিবেচনায় রাখা হবে। তবে এ কাজটা শুধু বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একার নয়। এসব ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়েরও অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। সবার সঙ্গে কথা বলেই যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category