ময়মনসিংহে গণহত্যা: শেখ হাসিনাসহ ৫০০ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

- আপডেট সময়ঃ ১০:২১:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অগাস্ট ২০২৪
- / ৮২ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে হত্যা ও গণহত্যার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অজ্ঞাত অস্ত্রধারী দলীয় নেতাকর্মী ও পুলিশ সদস্যসহ প্রায় ৫০০ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় গণহত্যার অভিযোগ করা হয়েছে। আজ বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে শেখ শাহরিয়ার বিন মতিনের নিহতের ঘটনায় তার পিতা মো. আবদুল মতিন এ অভিযোগ দায়ের করেন। তার আইনজীবী মো. আসাদ উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আসামীরা হলেন- ১. শেখ হাসিনা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ; ২. রাশেদ খান মেনন, সাবেক মন্ত্রী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং সভাপতি, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি ও কেন্দ্রীয় নেতা ১৪ দলীয় মহাজোট; ৩. হাসানুল হক ইনু, সাবেক মন্ত্রী, তথ্য মন্ত্রণালয় এবং সভাপতি, জাতীয় সমাজতান্তিক দল (জাসদ) ও কেন্দ্রীয় নেতা ১৪ দলীয় মহাজোট; ৪. আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, সাবেক মন্ত্রী, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (জেপি) ও কেন্দ্রীয় নেতা; ১৪ দলীয় মহাজোট; ৫. ওবায়দুল কাদের, সাবেক মন্ত্রী, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ; ৬. আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়; ৭. আনিসুল হক, সাবেক মন্ত্রী, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়; ৮. সালমান এফ রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা; ৯. শেখ ফজলুল করিম সেলিম, প্রেসিডিয়াম সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ; ১০. মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়; ১১. আ. ক. ম মোজাম্মেল হক, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী; ১২. মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাবেক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী; ১৩. অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী; ১৪. জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়; ১৫. জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়; ১৬. মোহাম্মদ আলী আরাফাত, সাবেক প্রতিমন্ত্রী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়; ১৭. কামাল আহমেদ মজুমদার, সাবেক প্রতিমন্ত্রী, শিল্প মন্ত্রণালয়; ১৮. শামসুল হক টুকু, সাবেক ডেপুটি স্পিকার, জাতীয় সংসদ। এছাড়া আসামিদের মধ্যে আরও রয়েছেন- ১৯. ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা, সাবেক সংসদ সদস্য, ঢাকা ১৬; ২০. সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন; ২১. চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক আইজিপি, বাংলাদেশ পুলিশ; ২২. মো. হারুন অর রশিদ সাবেক মহাপরিচালক, র?্যাব; ২৩. হাবিবুর রহমান, সাবেক কমিশনার, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ; ২৪. হারুন অর রশীদ, সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিবি প্রধান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ; ২৫. বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক যুগ্ম কমিশনার, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ; ২৬. জসীম উদ্দিন মোল্লা, ডিসি, মিরপুর জোন; ২৭. মুন্সী সাব্বির, সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, মিরপুর মডেল থানা: ২৮. মাইনুল ইসলাম নিখিল, সেক্রেটারি, বাংলাদেশ যুবলীগ ও সাবেক সংসদ সদস্য; ২৯. গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু, সভাপতি, বাংলাদেশ সেচ্ছাসেবক লীগ; ৩০. বজলুর রহমান, সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ অজ্ঞাতনামা অস্ত্রধারী আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী এবং পুলিশের কর্মকর্তা ও সদস্যসহ আনুমানিক ৫০০ জন। তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩ এর ৩(২) ও ৪(১) (২) ধারা অনুযায়ী, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ করা হয়েছে। গত ১ থেকে ২৯ নম্বর আসামিদের নির্দেশে ও পরিকল্পনায় অন্যান্য আসামিরা কর্তৃক দেশি ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী সাধারণ নিরস্ত্র ছাত্রজনতাকে হত্যা করে তাদের সমূলে বা আংশিক নির্মূল করার উদ্দেশ্যে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠিত হয়েছে বলে অভিযোগে জানানো হয়েছে।