• শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
স্বাস্থ্যসেবায় অভূতপূর্ব অর্জন বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে: রাষ্ট্রপতি শান্তি আলোচনায় কেএনএফকে বিশ্বাস করেছিলাম, তারা ষড়যন্ত্র করেছে: সেনাপ্রধান বন কর্মকর্তার খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে কাজ করছে মন্ত্রণালয়: পরিবেশমন্ত্রী পুরান ঢাকার রাসায়নিক গুদাম: ১৪ বছর ধরে সরানোর অপেক্ষা ভাসানটেক বস্তিতে ফায়ার হাইড্রেন্ট স্থাপন করা হবে : মেয়র আতিক রুমা উপজেলা সোনালী ব্যাংকের অপহৃত ম্যানেজার উদ্ধারের পর পরিবার কাছে হস্তান্তর সন্ত্রাসী দল কর্মকান্ড পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বান্দরবানে চলছে জমজমাট নাইট মিনিবার স্বাধীনতা কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২৪ সরকারের বাস্তবমুখী পদক্ষেপে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমেছে: প্রধানমন্ত্রী বান্দরবানে সোনালী ব্যাংকে লুটের ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে

মশক নিধন কার্যক্রম শুরু করেছে ডিএসসিসি

Reporter Name / ১৬৪ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১০ মে, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঢাকায় প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে মশার উপদ্রব বাড়ে। গেলো কয়েকবছর ধরে মশার উপদ্রবে ডেঙ্গুর প্রকোপও ছিল আলোচনায়। আগাম সতর্কতা হিসেবে এবছর বর্ষা শুরুর আগেই মশার লার্ভা নিধনে ‘চিরুনি অভিযান’ শুরু করেছে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) সেন্ট্রাল লাইব্রেরি এলাকায় ‘লার্ভিসাইডিং’ কার্যক্রম চালানো হয়। এসময় সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ বলেন, সকলের সমন্বয় ছাড়া মশক নিধন সম্ভব নয়। আমরা সকলের সহযোগিতা চাচ্ছি, সেজন্য এবছর আমরা আগেই কার্যক্রম শুরু করেছি। এ কার্যক্রম চালানোর সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফজলে শামসুল কবির, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা-১ মেরিনা নাজনীন ও স্থানীয় (২১নং ওয়ার্ড) কাউন্সিলর আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমুখ। এসময় ফরিদ আহাম্মদ আরও বলেন, ডেঙ্গু এবং কিউলেক্স দুইটা মশার সিজনকে কেন্দ্র করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বছরব্যাপী কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। তারই অংশ হিসেবে আমরা দুটো কাজ করছি- কিউলেক্স ও এডিস মশা সিজনকে আলাদা করে আমরা আলাদাভাবে কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। এরমধ্যে আমাদের কার্যক্রমের পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও আমাদের সহযোগিতা করে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এডিস মশার সিজন শুরু হওয়ার আগে তিনটি (প্রি-মুনসুন, মুনসুন ও আফটার-মুনসুন) সার্ভে করে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রি-মুনসুন সার্ভেতে তারা ঢাকা দক্ষিণ সিটির সাতটি ওয়ার্ডকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। আমরাও নতুন এন্টোমলজিস্ট নিয়োগ করেছি। আমরাও প্রতি ১৫ দিন অন্তর আপডেট তথ্য পাচ্ছি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সার্ভের তথ্য কিছুটা বিলম্বে পেলেও সিটি করপোরেশন সে অনুযায়ী গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা যে ৭টি ওয়ার্ডকে ঝুঁকিপূর্ণ বলেছেন মেয়র শেখ ফজলে নুর তাপসের সভাপতিত্বে এডিশ মশা সিজনের আগেই চিরুনি অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এছাড়াও এ মাসের শেষদিকে নতুন যে ওয়ার্ডগুলোতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সার্ভে করেনি, আমরা আমাদের এন্টোমলজিস্টের মাধ্যমে লার্ভার উপস্থিতি পেয়েছি; সেখানে আবার আমরা চিরুনি অভিযান পরিচালনা করবো। তিনদিন ব্যাপী এই কার্যক্রমে প্রতিদিন সকালে লার্ভি সাইডিং ও বিকালে এডাল্টি সাইডিং কার্যক্রম চালানো হবে বলে জানান সিটি করপোরেশনের এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, প্রতি ওয়ার্ডে প্রতিদিন সকালে ১৩ জন মশক নিধন কর্মী লার্ভা নিধন করবে এবং বিকালে ১৩ জন ফগিং করবেন। এডিশ নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সচেতনতা তৈরি করা বা সোর্সকে রিডাকশন করা; এদু’টি কাজকে আমরা এখানে সমন্বয় করেছি। সম্ভাব্য যেসকল জায়গা মশার লার্ভা থাকতে পারে সেসব কিছু আমরা সংগ্রহ করে ধ্বংস করবো এবং আমরা মাইকিংয়েরও ব্যবস্থা করেছি, যাতে মানুষ একটু সচেতন হয়। এডিশ মশা ডিম পাড়লে সেটি একবছর পর্যন্ত ভালো থাকে, ফলে এই সময়ের মধ্যে পানির সংস্পর্শ পেলে লার্ভাতে পরিণত হয়, এগুলো খুব সংবেদনশীল। যেকারণে আমরা এবছর আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি প্রতিটি ওয়ার্ডকে ১০টি সাব ভাগে ভাগ করে ভলেন্টিয়ার নিয়োগ করবো আগামী মাসের মাঝামাঝি থেকে যারা সম্ভাব্য, সন্দিগ্ধ জায়গা তারা ভিজিট করবে। পাশাপাশি আমরা সতর্কতামূলক লিফলেট বিতরণ করবো। ১৫ জুন থেকে ওয়ার্ডগুলোতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, যেহেতু স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গতবছরের চাইতে এবার একটু বেশি এলার্মিং বলে দাবি করছে, তাই আমরা আমাদের ১০টি ওয়ার্ডের জন্য সাময়িকের জন্য ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়ার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করেছি। আমরা ১৫ জুন থেকে চার মাস মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবো, প্রথম দিকে আমরা কাউকে জরিমানা করবো না। কোথাও এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে আমরা তাদের সচেতন করবো। যদি একই জায়গা দ্বিতীয়, তৃতীয়বারও পাওয়া যায় তাহলে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবো। বিভিন্ন সংস্থা যেমন রাজউক, ওয়াসা, টিটিই, মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন স্টেক হোল্ডারদের বিভিন্ন কার্যক্রম ‘আন কেয়ার্ড’ অবস্থায় পড়ে থাকে, যেখানে লার্ভা জন্মে বলে জানান ফরিদ আহাম্মদ। তিনি বলেন, আমরা এ মাসের ১৬ তারিখে সকল স্টেক হোল্ডারেদর নিয়ে মত বিনিময় সভার আয়োজন করেছি। সেখানে তাদের আমরা এই নির্দেশনাগুলো দেব। যদি তারপরও তারা সচেতন না হয়, তাহলে আমরা তাদের আইনের আওতায় আনবো। সকলের সমন্বয় ছাড়া মশক নিধন সম্ভব নয়। আমরা সকলের সহযোগিতা চাচ্ছি, সেজন্য এবছর আমরা আগেই কার্যক্রম শুরু করেছি। তিনি বলেন, শুধু কীটনাশক নয়, কেরোসিন বা ব্লিচিং পাউডার দিলেও লার্ভাগুলো মরে যায়। সকলকে তো কেরোসিন সরবরাহ করা সম্ভব না। তাই আমরা ১৫ জুনের মধ্যে প্রত্যকেটি ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ে ব্লিচিং পাউডার পৌঁছে দেব। যদি কোনও নাগরিক মনে করেন তার বাড়ির কোনও জায়গায় লার্ভা জন্মেছে, তিনি আমাদের কাছে এসে ব্লিচিং পাউডার সংগ্রহ করে সে জায়গায় প্রয়োগ করতে পারবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category