• রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:২৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
যশোরে তীব্র তাপপ্রবাহে গলে যাচ্ছে সড়কের বিটুমিন জাল সার্টিফিকেট চক্র: জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে কারিগরি বোর্ডের চেয়ারম্যানকে গরিবদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা কমছে বাড়ছে গরমজনিত অসুস্থতা, হাসপাতালে রোগীদের চাপ ড্রিমলাইনারের কারিগরি বিষয়ে বোয়িংয়ের সঙ্গে কথা বলতে মন্ত্রীর নির্দেশ গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার জন্য গ্রামে গ্রামে ঘুরছি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ৩য় ধাপের উপজেলা ভোটেও আপিল কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসক আগামী বাজেটে তামাকপণ্যের দাম বাড়ানোর দাবি জাতিসংঘে পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরল বাংলাদেশ দুর্নীতির অভিযোগের বিরুদ্ধে সাবেক আইজিপি বেনজীরের পাল্টা চ্যালেঞ্জ

মেট্রোরেল স্টেশনে মিলবে এমআরটি পাস কার্ড

Reporter Name / ৮১ Time View
Update : শনিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক :
মেট্রোরেলে যাতায়াত নির্বিঘ্নে করতে রয়েছে এমআরটি পাস কার্ড। মূলত যারা নিয়মিত মেট্রোরেলে যাতায়াত করতে বারবার টিকিট সংগ্রহ করতে চান না, তাদের জন্য রয়েছে এই কার্ড। যা ব্যবহার করে শুধু টাকা রিচার্জ করেই যতবার খুশি ভ্রমণ করা যাবে। এমআরটি পাস কার্ড সংগ্রহের দরকার এমআরটি পাস কার্ডের আবেদন ফরম। মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে এ ফরম। ফরমটি পূরণ করে মেট্রোরেলের যেকোনও স্টেশনের টিকিট কাউন্টারে গিয়ে এমআরটি পাস কার্ড সংগ্রহ করা যাবে। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেট্রোরেলের আগারগাঁও ও উত্তরা উত্তর (দিয়াবাড়ী) স্টেশন থেকে সংগ্রহ করা যাবে এমআরটি পাস কার্ড। প্রতিটি এমআরটি পাস কার্ড কেনা যাবে ৫০০ টাকায়। এরমধ্যে কার্ডের জামানত ২০০ টাকা। বাকি ৩০০ টাকা দিয়ে ভ্রমণ করা যাবে। আর কার্ড জমা দিলে জামানতের টাকা ফেরত দেবে সরকার। গতকাল শনিবার মেট্রোরেলের স্টেশন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। মেট্রোরেল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমআরটি পাস কার্ড যত বেশি ব্যবহার হবে যাত্রীরা তত দ্রুত মেট্রোরেল ভ্রমণ করতে পারবেন। এর ফলে টিকিট বিক্রয় মেশিনে চাপ কমবে। কারণ একজন যাত্রীকে বার বার টিকিট বিক্রয় মেশিনের সামনে দাঁড়াতে হবে না। এমআরটি পাস কার্ড ব্যবহার করে সরাসরি তিনি মেট্রোরেল ভ্রমণ করতে পারবেন। এদিকে ভুল মেসেজের কারণে মেট্রোরেল স্টেশনে পৌঁছে অনেককে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। কারণ অনেকে জানেন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মেট্রোরেল চলবে। এ সময় মেট্রোরেল চলবে ঠিকই, কিন্তু স্টেশনের গেটে প্রবেশের সময়সীমা সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা। তাই অনেকে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে এসেও মেট্রোরেলে চড়তে পারেনি। গতকাল শনিবার আগারগাঁও স্টেশনে অর্ধ শতাধিক যাত্রী মেট্রোরেলে চড়তে না পেরে দূর-দূরান্ত থেকে এসে ফিরে যান। স্টেশনে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, মেট্রোরেলের চাকা ঘুরবে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। কিন্তু মেট্রোরেলে প্রবেশ গেট খুলবে সকাল সাড়ে ৭টায় এবং বন্ধ হবে বেলা সাড়ে ১১টায়। কিন্তু যাত্রীরা মনে করেন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টায় গেটে প্রবেশ করতে পারবেন। প্রবেশ গেট খোলা ও বন্ধ হওয়ার তথ্য না জানায় অনেকে মেট্রোরেল প্ল্যাটফর্ম থেকে ফিরে যাচ্ছেন। মেট্রোরেল স্টেশনে কর্মরত ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ৩০ মিনিটের ভুল মেসেজের কারণে অনেকে শেষ সময়ে মেট্রোরেল স্টেশন থেকে ফিরে যাচ্ছেন। প্রচার করা উচিত মেট্রোরেলের প্রবেশ গেট খুলবে সকাল সাড়ে ৭টায়, বন্ধ হবে বেলা সাড়ে ১১টায়। কারণ মেট্রোরেলের চাকা গড়ানোর আগে যাত্রী প্রস্তুত করতে হয়। এ ছাড়া কিছু যাত্রী স্টেশনে থেকে যায়, এদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতেও ৩০ মিনিট সময় হাতে রাখতে হয়। এেিদক সাধারণ যাত্রীদের জন্য মেট্রোরেল উন্মুক্ত হওয়ার পর গত দুই দিনে মেট্রোস্টেশনে ছিল উপচে পড়া ভিড়। এমনকি কয়েক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকেই ট্রেনে উঠতে পারেননি। তবে গত দুই দিনের মতো গতকাল শনিবার মেট্রোরেলের উত্তরা উত্তর (দিয়াবাড়ী) ও আগারগাঁও স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় ছিল না। এর অন্যতম কারণ টিকিট বিক্রয় মেশিন (ভেন্ডিং মেশিন) বিকল হয়নি। ফলে যাত্রীরা সহজেই টিকিট কেটে ট্রেনে উঠতে পারছিলেন। গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশনে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি চোখে পড়েনি। এদিকে মেট্রোরেলে কোনো সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি (ডিএমটিসি) ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুর রহমান বলেছেন, মেট্রোরেলে চড়তে তৃতীয় দিন যাত্রীদের তেমন লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে না। জনগণ অভ্যস্ত হয়ে আসছেন। মেশিনগুলো সঠিকভাবে পারফর্ম করছে, আমরা প্রচুর টেকনিশিয়ান রেখেছি। কোনো সমস্যা হলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশনে ডিএমটিসি ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। যাত্রীদের উদ্দেশ্যে অনুরোধ জানিয়ে মাহফুজুর রহমান বলেন, মেট্রোরেলের যাত্রীরা যারা সিঙ্গেল যাত্রার টিকিট কিনছেন, তারা যদি নিয়মিত যাত্রী হন, তাদেরকে অনুরোধ জানাই এমআরটি পাশ কিনে ফেলেন। এমআরটি পাশ কিনলে কোথাও লাইন ধরতে হচ্ছে না। সরাসরি এসে তিনি এফসি গেটে পাশটি স্পর্শ করেই উঠতে পারছেন মেট্রোরেলে। গত কয়েকদিনে অনেকেই এই পাশ কিনেছে। এজন্য লাইনের সংখ্যাও কমে এসেছে। এমআরটি পাশ কিনলে মেট্রোরেলে ভ্রমণ করতে কোনো ঝামেলা থাকবে না। এক প্রশ্নের জবাবে এই কর্মকর্তা বলেন, সকাল আটটা থেকে দুপুর বারোটা পর্যন্ত আমাদের মেট্রোরেল চলছে। পরে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরা নতুন নতুন সিদ্ধান্ত নেব। আমরা বোঝার চেষ্টা করছি যাত্রীরা কীভাবে আসা-যাওয়া করছেন। মেট্রোলের গেটের প্রবেশপথে কার্ড পাঞ্চ করলে মাঝে মাঝে কাজ করছে না এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমটিসি ম্যানেজার বলেন, এএফসি গেটের সামনে দাঁড়ালে দেখতে পাবেন, অনেক যাত্রী কার্ড স্পর্শ করতে গিয়ে টিকিটটি ধরে রাখছেন। সেন্সর যে জায়গা কাজ করবে, সে জায়গাটি ধরে রাখছেন অনেক যাত্রী। সঠিকভাবে কার্ড স্পর্শ করছে না। এর ফলে যাত্রীরা এএফসি গেটে এন্ট্রি করতে পারছেন না। যাত্রীরা এখনো অভ্যস্ত হয়ে ওঠেননি। ধীরে ধীরে তারা অভ্যস্ত হয়ে উঠবেন। মেট্রোরেল ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। রাজধানীতে প্রথমবারের মতো যাত্রী নিয়ে মেট্রোরেল চলাচল করেছে। যানজটে অতিষ্ঠ রাজধানীবাসী জন্য এ যেন এক স্বস্তির নাম। মাত্র ১০ মিনিট ১০ সেকেন্ডে উত্তরা থেকে আগারগাঁও চলে আসছে মানুষ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৮ ডিসেম্বর মেট্রোরেল উদ্বোধন করেন। এরপর ২৯ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয় মেট্রোরেল। তবে প্রথম দুই দিন (বৃহস্পতি ও গত শুক্রবার) ভেন্ডিং মেশিনে সমস্যা দেখা দেওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের টিকিট পেতে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এতে একদিকে যেমন আসন ফাঁকা রেখে চলতে থাকে ট্রেন, অন্যদিকে যাত্রীরা ট্রেনে উঠতে না পারায় স্টেশনের বাইরে দীর্ঘ হতে থাকে সাধারণ মানুষের সারি। এদিকে, প্রথমদিন মেট্রোরেল থেকে যেভাবে আয় হয় দ্বিতীয় দিন তা অর্ধেকের বেশি কমে যায়। দ্বিতীয় দিনে (গত শুক্রবার) ২ লাখ ৫৩ হাজার ৫৪০ টাকা আয় কমেছে। দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ গত শুক্রবার মাত্র এক লাখ ৩৯ হাজার ৯৮০ টাকার টিকিট বিক্রি হয়। প্রথম দিনে টিকিট বিক্রি হয় ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৫২০ টাকার। অথচ প্রথম ও দ্বিতীয় দিনের ট্রিপ সংখ্যা ছিল একই, ৫০টি। সরেজমিন দেখা গেছে, প্রতিদিন ট্রিপ সংখ্যা একই ৫০টা। এখন যতদ্রুত টিকিট কেটে যাত্রী মেট্রোরেলে উঠতে পারবে স্টেশনের বাইরে ততই ভিড় কমবে। কারণ ভিড় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ যথাসময়ে টিকিট সরবরাহ না করা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category