• শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪, ০৮:০৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ

যশোর শিক্ষাবোর্ডের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দুদকে অভিযোগ

Reporter Name / ৩৫৬ Time View
Update : রবিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক :
যশোর শিক্ষাবোর্ডের আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করা হয়েছে। রোববার সকাল ১০টায় দুদকের যশোর কার্যালয়ে অভিযোগ দাখিল করেন বোর্ডের সচিব এ এম এইচ আলী আর রেজা। এদিকে, টাকা আত্মসাতের বিষয়টি নজরে আসার পর থেকে বোর্ডের হিসাব সহকারী আবদুস সালামকে পাওয়া যাচ্ছে না। ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা টাকা ফেরত দিতে যোগাযোগ করছে বলে দাবি বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোল্লা আমীর হোসেনের। বোর্ড সংশ্লিষ্টরা জানান, যশোর শিক্ষাবোর্ডের ২০২০-২১ অর্থবছরে কেনাকাটার আয়কর ও ভ্যাট পরিশোধ বাবদ ১০ হাজার ৩৬ টাকার নয়টি চেক ইস্যু করা হয়। বোর্ডের আয়-ব্যয়ের হিসাব ব্যাংক স্টেটমেন্টের সঙ্গে মেলাতে গিয়ে দেখা যায়, ওইসব চেকের বিপরীতে দুই কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার ১০ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এরপর দ্রুত হিসাব প্রদান শাখার হিসাব রেজিস্ট্রারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়।
যশোর শিক্ষাবোর্ডের আড়াই কোটি টাকা আত্মসাৎ এতে দেখা যায়, নয়টি চেক জালিয়াতি করে ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের নামে এক কোটি ৮৯ লাখ ১২ হাজার ১০ টাকা এবং শাহীলাল স্টোরের নামে ৬১ লাখ ৩২ হাজার টাকা তোলা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে গত বৃহস্পতিবার কলেজ পরিদর্শন কে এম রব্বানিকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। গতকাল রোববার বোর্ডের সচিব আলী আর রেজা দুদক কার্যালয়ে এ ঘটনায় অভিযোগ করেন। এরপর বেলা ১২টার দিকে বোর্ডে এসে তদন্ত শুরু করেন দুদক কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র সংগ্রহ করেছেন তারা। গত বৃহস্পতিবার টাকা আত্মসাতের বিষয়টি জানাজানির পর থেকে বোর্ডের হিসাব সহকারী আবদুস সালামের হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। গতকালও তিনি অফিসে আসেননি। বোর্ডে গিয়ে তার কক্ষটি তালাবদ্ধ দেখা যায়। যশোর শিক্ষা বোর্ড এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবুল বলেন, হিসাব সহকারী আবদুস সালাম এর আগেও অনেক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ১২ লাখ টাকার একটি দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। সেই সময় তদবির করে রক্ষা পান। এবার আড়াই কোটি টাকা দুর্নীতির সঙ্গেও তিনি জড়িত। বোর্ডের একটি সূত্র জানায়, অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় নাম আসা প্রতিষ্ঠান ভেনাস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিংয়ের মালিক শরিফুল ইসলাম বাবু ও তার স্বজন শহরের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি টাকা ফেরত দিতে চাচ্ছে। শাহীলাল স্টোরের মালিক আশরাফুল ইসলাম বোর্ড কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, তার কাছে থাকা লক্ষাধিক টাকা ফেরত দিতে চান। বোর্ডের সচিব আলী আর রেজাবলেন, মাঝে দুই দিন সরকারি ছুটি থাকায় আজ আমরা দুদকে একটি অভিযোগ দিয়েছি। দুদক কর্মকর্তারা সেটা গ্রহণ করেছেন। বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মোল্লা আমীর হোসেন বলেন, টাকা আত্মসাতের বিষয়টি জানাজানির পর থেকেই হিসাব সহকারী আবদুস সালাম অফিসে আসছেন না। অভিযুক্তরা টাকা ফেরত দিতে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। এটা একটি আইনি প্রক্রিয়া। বিষয়টি আদালতের মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category