• রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ০৬:৫৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ
এমপি আজীমকে আগেও তিনবার হত্যার পরিকল্পনা হয়: হারুন ঢাকাবাসীকে সুন্দর জীবন উপহার দিতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের শিখরে পৌঁছাতে সংসদীয় সরকারের বিকল্প নেই: ডেপুটি স্পিকার হিরো আলমকে গাড়ি দেওয়া শিক্ষকের অ্যাকাউন্টে প্রবাসীদের কোটি টাকা আশুলিয়ায় জামায়াতের গোপন বৈঠক, পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার ২২ এমপি আজীমের হত্যাকারীরা প্রায় চিহ্নিত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পত্রিকার প্রচার সংখ্যা জানতে নতুন ফর্মুলা নিয়ে কাজ করছি: তথ্য প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রাম বন্দরে কোকেন উদ্ধারের মামলার বিচার শেষ হয়নি ৯ বছরও বিচারপতি অপসারণের রিভিউ শুনানি ১১ জুলাই দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে ইউসেফ কাজ করছে: স্পিকার

রাজধানীতে যানজট কমাতে ঢাকার প্রবেশমুখে ৫টি আন্তঃজেলা টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ

Reporter Name / ১৯৫ Time View
Update : সোমবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক :
নগরীর ভেতরে আন্তঃজেলা বাস চলাচলের কারণেই রাজধানীর যানজটের অন্যতম কারণ। প্রতিদিন ঢাকার রাস্তায় যতো গাড়ি চলে তার ২৪ শতাংশই আন্তঃজেলা ও শহরতলির বাস। আর শহরের ভেতরে রয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ বাসের কাউন্টার। ওসব কাউন্টার যানজটের হটস্পট। এমন পরিস্থিতিতে শহরের ভেতরে আন্তঃজেলা ও শহরতলির বাস চলাচল বন্ধে ঢাকার প্রবেশমুখগুলোয় ৫টি আন্তঃজেলা টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। পাশাপাশি আরো ৩টি বাস ডিপোও নির্মাণ করা হবে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ শেষ করেছে। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, রাজধানী ঢাকার প্রবেশমুখে ৫টি বাস টার্মিনাল গড়ে তুলতে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। আর ৩টি বাস ডিপো তৈরিতে আরো প্রায় ৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকা খরচ হবে। তার বাইরে বাস টার্মিনালের জন্য বিকল্প হিসেবে আরো দুটি স্থান প্রস্তাব করা হয়েছে। আর ঢাকার ভেতরে থাকা ৩টি আন্তঃজেলা টার্মিনালকে সিটি টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, কেরানীগঞ্জের বাঘাইর, নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর, তুরাগের ভাটুলিয়া, রূপগঞ্জের ভুলতা ও সাভারের হেমায়েতপুরে নতুন আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বাস ওসব টার্মিনালে থামবে। শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে যাত্রীরা টার্মিনালগুলোতে মেট্রোরেল, বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) এবং কোম্পানিভিত্তিক বাস সেবা ব্যবহার করে পৌঁছতে পারবেন এবং টার্মিনালগুলো থেকে ঢাকার বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে পারবে। আগামী ২০২৫ সাল নাগাদ ওসব টার্মিনাল ব্যবহারকারী যাত্রীর সংখ্যা হবে দৈনিক ৩ লাখ ৪৪ হাজার। আর ২০৪৫ সালে যাত্রীর সংখ্যা বেড়ে হবে ৫ লাখ ১৪ হাজার।
সূত্র আরো জানায়, বাগেরহাট, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, ঝালকাঠি, খুলনা, মাদারীপুর, মুন্সীগঞ্জ, পটুয়াখালী, সাতক্ষীরা, পিরোজপুর ও শরীয়তপুরে যাতায়াত করা বাসের জন্য বাঘাইর আন্তঃজেলা টার্মিনাল নির্ধারিত থাকবে। ওই টার্মিনালটি সাড়ে ৩৩ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হবে। টার্মিনাল তৈরিতে খরচ হবে ১ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা। আর আগামী ২০২৫ সাল নাগাদ টার্মিনাল ব্যবহারকারী যাত্রীর সংখ্যা হবে দৈনিক ৫২ হাজার ৪৪৪ জন। টার্মিনালটিতে আন্তঃজেলা বাস পার্কিংয়ের জন্য প্রায় ১১ হাজার বর্গমিটার, কার, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের জন্য প্রায় ১১০০ বর্গমিটার এবং সিটি বাস পার্কিংয়ের জন্য ২ হাজার ৩১৮ মিটার জায়গার সংস্থান রাখা হবে। আর প্রায় ২৮ একর জমিতে গড়ে তোলা হবে কাঁচপুর (দক্ষিণ) আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল। তাতে আন্তঃজেলা বাস পার্কিংয়ের জন্য থাকবে ৩ হাজার ৮০০ বর্গমিটার জায়গা। একইভাবে কার, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের জন্য প্রায় ৫ হাজার ৪০০ বর্গমিটার ও সিটি বাস পার্কিংয়ের জন্য ২ হাজার ১২৮ বর্গমিটার জায়গা বরাদ্দ থাকবে। বান্দরবান, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, কক্সবাজার, ফেনী, খাগড়াছড়ি, লক্ষ্মীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নোয়াখালী ও রাঙ্গামাটি যাতায়াতকারী বাস ওই টার্মিনালে থামবে। কাঁচপুর টার্মিনালটি তৈরি করতে খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮৭৮ কোটি টাকা। তাছাড়া ভাটুলিয়ার টার্মিনালটি তৈরি করতে খরচ হবে ১ হাজার ২৭ কোটি টাকা। তার আয়তন হবে প্রায় ২৭ একর। তার মধ্যে ৬ হাজার ৪৭২ বর্গমিটারজুড়ে আন্তঃজেলা বাস পার্ক করা যাবে। কার, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের জন্য ২ হাজার বর্গমিটার এবং সিটি বাস পার্কিংয়ের জন্য আরো ১ হাজার ৭৫০ বর্গমিটার জায়গা বরাদ্দ থাকবে। বগুড়া, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, গাজীপুর, জামালপুর, জয়পুরহাট, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, ময়মনসিংহ, নওগাঁ, নাটোর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, রংপুর, শেরপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও ঠাকুরগাঁও জেলার বাসের জন্য বরাদ্দ থাকবে ওই ভাটুলিয়া টার্মিনাল। আর ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নরসিংদী, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ ও সিলেটের বাস ভুলতা টার্মিনালে এসে থামবে। ওই টার্মিনালটির আয়তন হবে ২৪ একরেরও বেশি। তাতে আন্তঃজেলা বাস পার্কিংয়ের জন্য বরাদ্দ থাকবে ৭ হাজার ৩২০ বর্গমিটার জায়গা। সিটি বাস ও কার, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও টার্মিনালটিতে থাকবে। তবে সাভারের হেমায়েতপুরে ঢাকার প্রবেশমুখগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালটি হবে। ৪৫ একর জায়গার ওপর গড়ে তোলা হবে ওই টার্মিনাল। তাতে খরচ হবে ১ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা। চুয়াডাঙ্গা, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, কুষ্টিয়া, মানিকগঞ্জ, মেহেরপুর, নড়াইল, নবাবগঞ্জ, পাবনা, রাজবাড়ী ও রাজশাহী থেকে আসা আন্তঃজেলা হেমায়েতপুর টার্মিনালে বাস থামবে। ৫টি নতুন আন্তঃজেলা টার্মিনাল ছাড়াও শহরতলির বাসের জন্য আরো ৩টি ডিপো গড়ে তোলার পরিকল্পনাও করছে সরকার। সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় ওসব টার্মিনাল ও ডিপো নির্মাণের জন্য ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ১১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ ঢাকার প্রবেশমুখগুলোতে বাস টার্মিনাল ও ডিপো নির্মাণে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও ধারণাগত নকশা প্রণয়নের কাজটি করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category