• শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন
  • ই-পেপার
সর্বশেষ
সর্বোচ্চ আদালতকে পাশ কাটিয়ে সরকার কিছুই করবে না: আইনমন্ত্রী নাইজেরিয়ান চক্রের মাধ্যমে চট্টগ্রামে কোকেন পাচার কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের অপেক্ষা করতে বললেন ব্যারিস্টার সুমন পদ্মা সেতুর সুরক্ষায় নদী শাসনে ব্যয় বাড়ছে পিএসসির উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীরসহ ৬ জনের রিমান্ড শুনানি পিছিয়েছে শৃঙ্খলা ভঙ্গের চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার রপ্তানিতে বাংলাদেশ ব্যবহার করছে না রেল ট্রানজিট রাজাকারের পক্ষে স্লোগান সরকারবিরোধী নয়, রাষ্ট্রবিরোধী: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ইউনূসসহ ১৪ জনের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়নি বঙ্গোপসাগরের জীববৈচিত্র্য নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র-আলোকচিত্র প্রদর্শনী

রাবিতে হিমেলের মৃত্যু: ঢাকার রাস্তায় শিক্ষার্থীরা

Reporter Name / ৩২৫ Time View
Update : শুক্রবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক :
দুর্ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহমুদ হাবিব হিমেলের মৃত্যুর পর নিরাপদ সড়কসহ বিভিন্ন দাবিতে ঢাকায় আবারও আন্দোলনে নেমেছে শিক্ষার্থীরা। আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় একদল শিক্ষার্থী রামপুরা ব্রিজের একপাশে অবস্থান নিয়ে লাল ও কালো রঙ দিয়ে ‘নিরাপদ সড়কে চাই’ লিখে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে নিজেদের দাবির কথা তুলে ধরেন। সড়কের একপাশে অবস্থান নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় রাস্তায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। গত বছরের নভেম্বরে বাসের ভাড়া বাড়ানোর পর থেকে অর্ধেক ভাড়া দেওয়ার দাবিতে ঢাকায় আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীরা। প্রথম দিকে তারা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সড়ক আটকে বিক্ষোভ দেখায়। ২৪ নভেম্বরে সিটি করপোরেশনের গাড়ির ধাক্কায় নটর ডেম কলেজের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হলে নিরাপদ সড়কের দাবিতে তারা বিক্ষোভ শুরু করে। এর পাঁচদিন পর রামপুরায় বাসের চাপায় এক এসএসসি পরীক্ষার্থী নিহত হলে আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়। পরে বাস মালিকরা ‘হাফ ভাড়ার’ দাবি কিছু শর্ত দিয়ে মেনে নিলে এবং এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হলে আন্দোলন থিতিয়ে যায়। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার রাতে মোটরসাইকেলে করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হবিবুর হলের সামনের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় নির্মাণ সামগ্রী বহনকারী একটি ট্রাকের চাকায় মৃত্যু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিক ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী হিমেলের। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সেদিন পাঁচটি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নির্মাণাধীন ভবনেও ভাঙচুর চালায় তারা। রাজশাহীর ওই ঘটনার প্রতিবাদে নিরাপদ সড়কের দাবি নিয়ে গতকাল শুক্রবার রামপুরায় আবার কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। রামপুরা ব্রিজ এলাকায় আন্দোলনের নেতৃত্ব থাকা খিলগাঁও মডেল কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী সামিয়া বলে, আমরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে এখানে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। ১১ দফা যৌক্তিক দাবিতে আমাদের আজকের এই আন্দোলন। তার ভাষ্য, এখন স্কুল কলেজ বন্ধ থাকার কারণে বাসে আমাদের আর হাফ ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না। স্কুল কলেজ বন্ধ হলেও তো শিক্ষার্থীদের বাইরে বের হতে হয়, কোচিং পড়তে যাওয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়। তাহলে কেন আমরা হাফ ভাড়া দিতে পারব না? আমারা রাস্তা অবোরধ করব না, বিশৃঙ্খলা করব না। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের দাবির কথা জানাতে চাই। আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ৪টায় নগরীর মধ্য বাড্ডা ফুটব্রিজের নিচে দাবি আদায়ে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন তিনি। শুক্রবারের আন্দোলনে রামপুরায় শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। ‘বিনা শর্তে সারাদেশে বাসে শিক্ষার্থীদের হাফ পাস দিতে হবে’, ‘নিরাপদ সড়ক চাই’, ‘সড়কের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলুন’, ‘লড়াই করুন, সড়কে মৃত্যুর মিছিল বন্ধ করুন’, ‘সড়কে শৃঙ্খলা ফেরান’- ইত্যাদি স্লোগান লেখা দেখা যায় সেসব প্ল্যাকার্ডে। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ সড়কে নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসান ও রামপুরা একরামুন্নেছা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. মাইনউদ্দীনের মৃত্যুর বিচার করতে হবে। তাদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। গুলিস্তান ও রামপুরা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় পথচারী পারাপারের জন্য ফুটব্রিজ নির্মাণ করতে হবে। সারাদেশে সব গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের ‘হাফ ভাড়া’ সরকারি প্রজ্ঞাপন দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে। হাফ ভাড়ার ক্ষেত্রে কোনো সময় বা দিন নির্ধারণ করে দেওয়া যাবে না। বর্ধিত বাস ভাড়া প্রত্যাহার করতে হবে। সব রুটে বিআরটিসির বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। গণপরিবহনে ছাত্র-ছাত্রী এবং নারীদের অবাধ যাত্রা এবং তাদের সঙ্গে ‘সৌজন্যমূলক ব্যবহার’ নিশ্চিত করতে হবে। ফিটনেস ও লাইসেন্সবিহীন গাড়ি এবং লাইসেন্সবিহীন চালক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। গাড়ি ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে বিআরটিএ এর ‘দুর্নীতির’ বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। সব রাস্তায় ট্রাফিক লাইট, জেব্রা ক্রসিং নিশ্চিত করাসহ জনবহুল রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা বাড়াতে হবে। ট্রাফিক পুলিশের ‘ঘুষ দুর্নীতির’ বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। বাসগুলোর মধ্যে বেপরোয়া প্রতিযোগিতা বন্ধে এক রুটে এক বাস এবং দৈনিক আয় সব পরিবহন মালিকের মধ্যে তাদের অংশ অনুযায়ী সমানভাবে বণ্টন করার নিয়ম চালু করতে হবে। শ্রমিকদের নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র নিশ্চিত করতে হবে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করতে হবে। চুক্তির ভিত্তিতে বাস দেওয়ার বদলে টিকিট ও কাউন্টারের ভিত্তিতে গোটা পরিবহন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। শ্রমিকদের জন্য বিশ্রামাগার ও টয়লেটের ব্যবস্থা করতে হবে। গাড়ি চালকের কর্মঘণ্টা একটানা ৬ ঘণ্টার বেশি হওয়া যাবে না। প্রতিটি বাসে দুই জন চালক ও দুইজন সহকারী রাখতে হবে। পর্যাপ্ত বাস টার্মিনাল নির্মাণ করতে হবে। পরিবহন শ্রমিকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিক এবং সরকারের প্রতিনিধিদের মতামত নিয়ে সড়ক পরিবহন আইন সংস্কার করতে হবে এবং এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। ট্রাক, ময়লার গাড়িসহ অন্যান্য ভারী যানবাহন চলাচলের জন্য রাত ১২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করে দিতে হবে। মাদকাসক্তি নিরসনে গোটা সমাজ জুড়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। চালক-সহকারীদের জন্য নিয়মিত ডোপ টেস্ট ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category