• বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ০১:২৯ অপরাহ্ন
  • ই-পেপার
সর্বশেষ
ঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া আদায় করলে ব্যবস্থা বেনজীরের অঢেল সম্পদে হতবাক হাইকোর্ট তারেকসহ পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী দুয়েক সময় আমাদের ট্রলার-টহল বোটে মিয়ানমারের গুলি লেগেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যবসায়িদের প্রতি নিয়ম-নীতি মেনে কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান রাষ্ট্রপতির সহকর্মীকে হত্যাকারী কনস্টেবল মানসিক ভারসাম্যহীন দাবি পরিবারের বিনামূল্যে সরকারি বাড়ি গৃহহীনদের আত্মমর্যাদা এনে দিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী চেকিংয়ের জন্য গাড়ি থামানো চাঁদাবাজির অংশ নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সারা দেশে ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা কতজন জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট বান্দরবান থেকে কেএনএফের ৩১ জনকে পাঠানো হলো চট্টগ্রাম কারাগারে

রেললাইন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বাড়ছে ট্রেন দুর্ঘটনা

Reporter Name / ৬২ Time View
Update : বুধবার, ২৪ মে, ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক :
দেশের হাজার হাজার কিলোমিটার রেললাইনের অবস্থা নাজুক। ফলে ঘন ঘন দুর্ঘটনায় পড়ছে ট্রেন। দেশের ৪৩ জেলার রেলপথে ৩৯টিতেই রেললাইনে সমস্যা। রেলের মান নষ্ট হওয়া, লাইনে পর্যাপ্ত পাথর না থাকা, মাটি সরে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে ওই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বেড়েই চলেছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। রেলপথ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে দেশের ৪৩ জেলা রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত। রেলের কার্য ব্যবস্থাপনা পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে বিভক্ত। সারা দেশে এখন রেলপথ রয়েছে ৩,০৯৩.৩৮ কিলোমিটার। আর রেললাইন আছে ৪,৪৩৮.৪০ কিলোমিটার। পূর্বাঞ্চলে রেলপথে আছে ১,৩৩৩.৯৩ কিলোমিটার। এর মধ্যে মিটার গেজ ১,২৯৯.০৪ কিলোমিটার, ডুয়াল গেজ ৩৪.৮৯ কিলোমিটার। তবে ব্রড গেজের রেলপথ নেই। আর পশ্চিমাঞ্চলে রেলপথ আছে ১,৭৫৯.৪৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে মিটার গেজ ৩৮০.৭৯ কিলোমিটার, ব্রড গেজ ৮৭৯.৮৫ কিলোমিটার, ডুয়াল গেজ ৪৯৮.৮১ কিলোমিটার। আর পূর্বাঞ্চলে রেললাইন ২,১৫১.৭৯ কিলোমিটার। এর মধ্যে মিটার গেজ ২,০৪০.৯০ কিলোমিটার, ডুয়াল গেজ ১১০.৮৯ কিলোমিটার, ব্রড গেজের কোনো রেললাইন নেই। পশ্চিমাঞ্চলে রেললাইন ২,২৮৬.৬১ কিলোমিটার। এর মধ্যে মিটার গেজ ৫৩৩.০৬ কিলোমিটার, ব্রড গেজ ১,১৩৩.৩৮ কিলোমিটার, ডুয়াল গেজ ৬২০.১৭ কিলোমিটার। সূত্র জানায়, রেলের পূর্বাঞ্চলের ১৬ জেলায় সমস্যা বেশি। ওই অংশে ১৫০ কিলোমিটার রেললাইন পুরোপুরি নতুন করে করতে হবে। আর ৪০০ কিলোমিটার পথে রেল পরিবর্তন করতে হবে। প্রায় ২০০ কিলোমিটার পথে স্লিপারসহ অন্য সরঞ্জাম পরিবর্তন করতে হবে। পূর্বাঞ্চলের রেলপথে ৫ লাখ কিউবিক মিটার পাথরের ঘাটতি আছে। পূর্বাঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর, সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, ময়মনসিংহ, জামালপুর ও ঢাকায় রেলপথে এসব সমস্যা রয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, সীতাকু-, মীরসরাই, ছাগলনাইয়া, ফেনী, চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা সদর, লাকসাম, চাঁদপুর সদর, ব্রাহ্মণপাড়া, বুড়িচং, কসবা, আখাউড়া, আশুগঞ্জ, ভৈরব বাজার, নরসিংদী, টঙ্গী, ঢাকা সিটি করপোরেশন, কুলাউড়া, সিলেট সদর, ছাতক, গফরগাঁও, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন, জামালপুর সদর ও গৌরীপুর এলাকায় জটিলতা বেশি। আর রেলের পশ্চিমাঞ্চলে রাজশাহী, ঢাকা, রংপুর ও খুলনা বিভাগের ২৩ জেলায় সমস্যা বেশি। সিরাজগঞ্জ, পাবনা, রাজশাহী, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, বগুড়া, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, নীলফামারী, রংপুর, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, রাজবাড়ী, খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ায় কাজ করতে হবে। ওই পুরো অংশে প্রায় এক হাজার ২০০ কিলোমিটার রেললাইনের অবস্থা ভালো নয়। সূত্র আরো জানায়, মূলত রেললাইনে সমস্যার কারণে বেশি দুর্ঘটনা ঘটছে। এর সঙ্গে অনেক সময় সাংকেতিক জটিলতা এবং মানুষের ভুলও দায়ী। বর্তমানে দেশের বেশির ভাগ রেললাইনের অবস্থাই ভালো নয়। রেললাইনে মাটি থাকছে না, পাথর নেই, লাইন পুরনো হয়ে যাওয়া এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ট্রেন দুর্ঘটনা বাড়ছে। সম্প্রতি রেলের মান ও লাইনের অবস্থা যাচাই করতে বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে করা এক সমীক্ষায় দেখা যায়, সারা দেশে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার রেললাইন ও রেলপথের অবস্থা খারাপ। এদিকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের জন্য আলাদা দুটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের রেলপথ পুনর্বাসন ও বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প নামের দুই প্রকল্প চূড়ান্ত করা হচ্ছে। রেলের করা সমীক্ষার ভিত্তিতেই প্রকল্প পাসে জোর দেয়া হচ্ছে। পূর্বাঞ্চল নিয়ে রেল ভবনে সম্প্রতি বৈঠক হলেও পশ্চিমাঞ্চল নিয়ে বৈঠক করা হয়নি। পূর্বাঞ্চলের বৈঠকের সারসংক্ষেপ তৈরি হলেই পশ্চিমাঞ্চল নিয়ে বৈঠক করা হবে। তারপর দুই প্রকল্পের চূড়ান্ত সংশোধিত ডিপিপি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে রেলপথ মন্ত্রণালয়। পূর্বাঞ্চলের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার ৬০ কোটি ৮২ লাখ ২০ হাজার টাকা। আর পশ্চিমাঞ্চলের জন্য খরচ ধরা হয়েছে ছয় হাজার ২৩১ কোটি দুই লাখ ১৭ হাজার টাকা। যদিও ডিপিপিতে বলা হচ্ছে, দুর্ঘটনা হ্রাস, যাত্রীসেবার মান বৃদ্ধি, পণ্য পরিবহন বাড়ানো এবং রেলওয়ের রাজস্ব আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রকল্প দুটি নেয়া হচ্ছে। ২০২৫ সালের ৩০ জুনের মধ্যে পূর্বাঞ্চলের প্রকল্পের কাজ শেষ করতে চায় রেল। আর ২০২৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ করতে চায় পশ্চিমাঞ্চলের কাজ। কিন্তু রেল সংশ্লিষ্ট অনেকের আশঙ্কা- দুই প্রকল্পের পুরো টাকাই জলে যাবে। ওই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও বড় সাফল্য আসবে না। কিছু অংশ ভালো আর কিছু মোটামুটি; এতে সার্বিক অবস্থা ভালো হবে না। তাছাড়া রেল নিয়ে সরকারের মহাপরিকল্পনায় আছে, ধীরে ধীরে রেলের সব পথ ডুয়াল লাইন ব্রড গেজ করতে হবে। সেখানে এখন পুরনো মিটার গেজ লাইন নতুন করে করা অর্থের অপচয়। অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক কামরুল আহসান জানান, অনেক জায়গায় রেললাইনে সমস্যা আছে, সেটা সত্য। অনেক লাইন পুরনো হয়ে গেছে। একটি সমীক্ষা করে বর্তমান অবস্থা কেমন, সেটি দেখা হয়েছে। রেললাইন রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্নির্মাণের জন্য প্রকল্প নেয়া হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category