• রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন
  • ই-পেপার
সর্বশেষ
সর্বোচ্চ আদালতকে পাশ কাটিয়ে সরকার কিছুই করবে না: আইনমন্ত্রী নাইজেরিয়ান চক্রের মাধ্যমে চট্টগ্রামে কোকেন পাচার কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের অপেক্ষা করতে বললেন ব্যারিস্টার সুমন পদ্মা সেতুর সুরক্ষায় নদী শাসনে ব্যয় বাড়ছে পিএসসির উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীরসহ ৬ জনের রিমান্ড শুনানি পিছিয়েছে শৃঙ্খলা ভঙ্গের চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার রপ্তানিতে বাংলাদেশ ব্যবহার করছে না রেল ট্রানজিট রাজাকারের পক্ষে স্লোগান সরকারবিরোধী নয়, রাষ্ট্রবিরোধী: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ইউনূসসহ ১৪ জনের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়নি বঙ্গোপসাগরের জীববৈচিত্র্য নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র-আলোকচিত্র প্রদর্শনী

রেলের আইনে নতুন ধারা ও উপধারা সংযোজনের উদ্যোগ

Reporter Name / ৬৪ Time View
Update : বুধবার, ৫ অক্টোবর, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক :
সেবায় নতুনত্ব আনতে রেল আইনে নতুন ধারা ও উপধারা সংযোজনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বর্তমানে শত বছরের পুরনো আইনেই চলছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই সিদ্ধান্ত নিতে কর্তৃপক্ষকে সমস্যার মুখে পড়তে হয়। সম্প্রতি রেলওয়েতে নতুন নতুন বিষয় যুক্ত হচ্ছে। তাছাড়া বর্তমান সময়ের তুলনায় রেলে জরিমানা ও ক্ষতিপূরণের পরিমাণ খুবই অপ্রতুল। এমন পরিপ্রেক্ষিতে ১৩২ বছরের পুরনো আইনটি আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ওই লক্ষ্যে একটি বেসরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আইনের খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। তাতে রেল পরিচালনায় বিভিন্ন নতুন বিষয় যুক্ত করার পাশাপাশি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের ক্ষতিপূরণ বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি বীমা তহবিল গঠনেরও প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সাথে রেলসেবায় বাধা প্রদানসহ নানা বিষয়ে শাস্তির মাত্রা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনের উদ্দেশ্য পূরণে সরকার বা রেলওয়ে প্রশাসন বীমা তহবিল নামে একটি তহবিল গঠন করতে পারবে। তাছাড়া ট্রেনে ভ্রমণের জন্য কারো নামে টিকেট কাটা হলে তা হস্তান্তর না করার জন্য আইনটিতে নতুন আরেকটি ধারা যুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি কোনো নির্দিষ্ট আসন বা বার্থের টিকেট কাটলে তাতেই ভ্রমণের শর্ত যুক্ত হবে। সেক্ষেত্রে চাইলেই যাত্রীর আসন বা বার্থ পরিবর্তন করা যাবে না। তবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন রেল কর্মচারী যাত্রীর অনুরোধে তার আসন পরিবর্তনের অনুমোদন দিতে পারবে। ইতোমধ্যে আইনটির খসড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দেয়া হয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বাংলাদেশ অঞ্চলে ১৮৬২ সালে রেলওয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। রেলওয়ে সেবাকে একটি কাঠামোতে আনা ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠায় তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার ১৮৯০ সালে রেলওয়েজ এ্যাক্ট ১৮৯০ প্রণয়ন করে। বাংলাদেশ রেলওয়ে ১৩২ বছরের পুরনো ওই আইন দিয়েই এখনো পরিচালিত হচ্ছে। তবে স্বাধীনতার পর আইনটির কয়েকটি ধারায় সংশোধনী আনা হয়েছে। তাতে বিভিন্ন বিষয়ে জরিমানা ও রেল দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বাড়ানো হয়।
সূত্র জানায়, রেলের নতুন আইনে দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। আগে তা ছিল মাত্র ১০ হাজার টাকা। তাছাড়া নতুন আইনে রেলসেবায় বাধা প্রদানসহ নানা বিষয়ে শাস্তির মাত্রা বাড়ানো হচ্ছে। বিদ্যমান আইনে ট্রেন দুর্ঘটনায় কোনো যাত্রী মারা গেলে এবং তার সঙ্গে ট্রেনের টিকেট থাকলে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণের বিধান রয়েছে। আর ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত যাত্রীদের নির্দিষ্ট কোনো ক্ষতিপূরণের কথা বিদ্যমান আইনে উল্লেখ নেই। তবে নতুন আইনে অঙ্গহানির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা, স্থায়ী অন্ধত্বের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা, স্থায়ী শ্রবণশক্তি লোপের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা ও হাড় ভাঙ্গা বা কোন হাড়ের অবস্থানচ্যুতি বা দাঁত পড়ে গেলে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছে। তার বাইরেও বিভিন্ন শাস্তির মাত্রা বাড়ানোরও প্রস্তাব করা হয়েছে। তার মধ্যে অকারণে এ্যালার্ম চেন টেনে ট্রেন থামালে অনুর্ধ এক বছরের কারাদ- বা ৫ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দ-ে দ-িত হতে হবে। বর্তমানে সেক্ষেত্রে এক মাসের কারাদ- বা ২০০ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দ-ের বিধান রয়েছে। আর নির্ধারিত স্থান ব্যতীত অন্য স্থানে ট্রেন থামালে অনধিক ৫০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে, বর্তমানে তার পরিমাণ ৫০ টাকা। তাছাড়া প্রতারণার উদ্দেশ্যে টিকেট বা পাস ছাড়া ভ্রমণের ক্ষেত্রে অনধিক ৩ মাসের কারাদ- বা ২ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয়দ-ে দ-িত হতে হবে। তবে প্রতারণার অভিপ্রায় না থাকলে যে দূরত্বে ভ্রমণ করা হবে তার ভাড়া ও অতিরিক্ত চার্জ বা জরিমানা দিতে হবে। আর ট্রেনের ভেতর কোন যাত্রী ধূমপান করলে ৫০০ টাকা জরিমানার বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে তার পরিমাণ ২০ টাকা। তার বাইরেও নতুন আইনে কিছু নতুন বিষয় যুক্ত করা হয়েছে। বিদ্যমান আইনে ট্রেনে নারীদের জন্য কমপক্ষে একটি কোচ রিজার্ভ রাখার শর্ত রয়েছে। কোন ট্রেন ৫০ মাইলের বেশি দূরত্বে চলাচল করলে ওই শর্ত প্রযোজ্য। তবে নতুন আইনে তা বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।
এদিকে এ বিষয়ে রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোঃ হুমায়ুন কবীর জানান, রেলওয়ের আইনটি ব্রিটিশ আমলে ইংরেজীতে তৈরি করা হয়। সে এখন বাংলায় অনুবাদ করে কিছু ধারা ও উপধারা সংযোজন করে সংশোধন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে আইনটির খসড়া প্রণয়ন করে মন্ত্রিপরিষদে জমা দেয়া হয়েছে। তারপর সেটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের মাধ্যমে কেবিনেটে চূড়ান্ত অনুমোদনের পর জাতীয় সংসদে পাস হবে।
অন্যদিকে এ বিষয়ে রেলমন্ত্রী মোঃ নুরুল ইসলাম সুজন জানান, ব্রিটিশ আমলের আইনটি কিছু সংযোজন ও বিয়োজন করে খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। তার মধ্যে চলন্ত ট্রেনে ঢিল ছোড়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। যা একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এখন তা দ-বিধির মাধ্যমে শাস্তি বিধান যুক্ত করা হয়েছে। খসড়া আইনটি বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে রয়েছে। তারপর সচিব কমিটি ও মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে পাস হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category