• বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৫:১৯ অপরাহ্ন
  • ই-পেপার
সর্বশেষ
সর্বোচ্চ আদালতকে পাশ কাটিয়ে সরকার কিছুই করবে না: আইনমন্ত্রী নাইজেরিয়ান চক্রের মাধ্যমে চট্টগ্রামে কোকেন পাচার কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের অপেক্ষা করতে বললেন ব্যারিস্টার সুমন পদ্মা সেতুর সুরক্ষায় নদী শাসনে ব্যয় বাড়ছে পিএসসির উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীরসহ ৬ জনের রিমান্ড শুনানি পিছিয়েছে শৃঙ্খলা ভঙ্গের চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার রপ্তানিতে বাংলাদেশ ব্যবহার করছে না রেল ট্রানজিট রাজাকারের পক্ষে স্লোগান সরকারবিরোধী নয়, রাষ্ট্রবিরোধী: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ইউনূসসহ ১৪ জনের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়নি বঙ্গোপসাগরের জীববৈচিত্র্য নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র-আলোকচিত্র প্রদর্শনী

সঙ্কটে পড়া মানিচেঞ্জারগুলোর লাইসেন্স নবায়নের শর্ত শিথিল করার উদ্যোগ

Reporter Name / ২৫৬ Time View
Update : শনিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক :
করোনা মহামারীর প্রভাবে ব্যাংকিং বাইরে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান মানিচেঞ্জারগুলোর আয় কমে গেছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, অনেক মানিচেঞ্জার কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ভবন ভাড়াসহ ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করতে না পেরে ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে। মূলত করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিদেশে পর্যটক, শ্রমিকদের যাতায়াত কমে যাওয়ায় ওসব প্রতিষ্ঠানের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এমনি পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সঙ্কটে পড়া মানিচেঞ্জারগুলোর লাইসেন্স নবায়ন করতে শর্ত শিথিল করেছে। ফলে মানিচেঞ্জার প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক লেনদেনের শর্ত পূরণ না হলেও লাইসেন্স নবায়ন করা যাবে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নতুন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশে মোট ২৩৫টি মানিচেঞ্জার রয়েছে। তার মধ্যে ১৭২টি মানিচেঞ্জার রাজধানী ঢাকাতে রয়েছে। আর সারাদেশে ছড়িয়েছে বাকি ৬৩টি প্রতিষ্ঠান। মূলত বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনই হচ্ছে ওসব প্রতিষ্ঠানের আয়ের প্রধান উৎস। সাধারণত বিদেশ থেকে ফিরে আসা শ্রমিক বা পর্যটকদের কাছ থেকে নগদ বৈদেশিক মুদ্রাবাজার মূল্যের চেয়ে অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে মানিচেঞ্জারগুলো কিনে থাকে। আবার যারা বিদেশে চিকিৎসা, প্রশিক্ষণ, ভ্রমণের জন্য যায় তাদের কাছে বৈদেশিক মুদ্রা অপেক্ষাকৃত বেশি মূল্যে বিক্রি করে থাকে। বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচার মধ্যে সাধারণত ৫০ পয়সা থেকে এক টাকা পার্থক্য থাকে। আর ওই পার্থকই হলো মানিচেঞ্জারের মুনাফা। ওই মুনাফা দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মচারীদের বেতনভাতা, ভবন ভাড়াসহ ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করে থাকে। সূত্র জানায়, দেশে বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা নীতিমালা অনুযায়ী সাধারণত নির্ধারিত নিয়ম মেনেই মানিচেঞ্জারগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের জন্য লাইসেন্স নিতে হয়। পাশাপাশি ওই লাইসেন্স প্রতি বছরই নির্ধারিত শর্ত মেনে নবায়ন করতে হয়। সাধারণত ঢাকায় অবস্থিত মানিচেঞ্জারগুলোর বছরে কমপক্ষে ৫ লাখ ডলার লেনদেন করতে না পারলে পরের বছর প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স নবায়ন করা হয় না। আর ঢাকার বাইরে প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স নবায়ন করতে হলে বছরে কমপক্ষে সাড়ে ৩ লাখ ডলার লেনদেন করতে হয়। তার কম হলে কোনো মানিচেঞ্জার প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নবায়ন করা হয় না। কিন্তু করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বিদেশে চিকিৎসা, পর্যটক ও শ্রমিক আসা-যাওয়া কমে যাওয়া এবং রেমিট্যান্স কমে যাওয়ায় মানিচেঞ্জারগুলোর লেনদেনও কমে গেছে। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের লেনদেনই দুই-আড়াই লাখ ডলারে নেমে গেছে। ফলে ওসব প্রতিষ্ঠানের আয় কমে গেছে। আর আয় কমে যাওয়ায় অনেকেই ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে। কারণ অনেক প্রতিষ্ঠানই কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ভবন ভাড়াসহ ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে মানিচেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে লাইসেন্স নবায়নের শর্ত শিথিল করার অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে লাইসেন্স নবায়ন নীতিমালা শিথিল করা হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকায় অবস্থিত মানিচেব্জার প্রতিষ্ঠানগুলোর লেনদেন ৫ লাখ ডলারের নিচে এবং ঢাকার বাইরে প্রতিষ্ঠানগুলোর লেনদেন সাড়ে ৩ লাখ ডলারের কম হলেও প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স নবায়ন করা যাবে।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনের শর্তানুসারে কোনো প্রবাসী ঘোষণা দিয়ে বৈধ উপায়ে বা স্বীকৃত ব্যাংক কিংবা এক্সচেঞ্জ হাউজের মাধ্যমে অর্থ দেশে পাঠালে ওই অর্থের বিপরীতে ভর্তুকি সুবিধা প্রদান করা হবে। বিশেষ করে প্রবাসীদের অবসর-পরবর্তী ভাতা, প্রভিডেন্ট আয়, নিয়োগ কর্তা কর্তৃক বোনাস ও পারিতোষিক ও ছুটি উপভোগকালীন ভাতা থেকে প্রাপ্ত আয়ে ভর্তুকি বোনাস দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশ প্রদান করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category