ঢাকা, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬ | ই-পেপার

সিডনি টেস্টের পরেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাবেন উসমান খাজা

ক্রীড়া ডেস্ক
  • আপডেট সময়ঃ ০১:৪১:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ৫৮ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিতে গিয়ে বর্ণবাদী স্টেরিওটাইপের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান উসমান খাজা। ৩৯ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার জানিয়েছেন, দীর্ঘ ক্যারিয়ারজুড়ে তাকে ‘জাতিগত ছাঁচে’ বিচার করা হয়েছে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাশেজ সিরিজের শেষ টেস্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাবেন খাজা। রোববার সিডনিতে শুরু হতে যাওয়া ম্যাচটি হবে তার ৮৮তম টেস্ট।

একই মাঠে ২০১১ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই টেস্ট অভিষেক হয়েছিল তার।
পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া খাজা অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলা প্রথম মুসলিম ক্রিকেটার। ১৫ বছর আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ শেষে রিকি পন্টিংয়ের জায়গায় দলে সুযোগ পেয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন তিনি। অবসরের ঘোষণাকালে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে আয়োজিত আবেগঘন সংবাদ সম্মেলনে

খাজা বলেন, ‘আমি একজন গর্বিত মুসলিম, পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া রঙিন মানুষ—যাকে বলা হয়েছিল, সে কখনো অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দলে খেলতে পারবে না।

আজ আমাকে দেখুন।’
স্ত্রী, দুই কন্যা ও বাবা-মায়ের উপস্থিতিতে প্রায় ৫০ মিনিটের সংবাদ সম্মেলনে খাজা সাম্প্রতিক সমালোচনার প্রসঙ্গ টানেন। সিরিজের শুরুতে প্রথম টেস্টের আগের দিন গলফ খেলতে গিয়ে পিঠের চোটে পড়েন তিনি। এ নিয়ে তার প্রস্তুতি ও পেশাদারত্ব নিয়ে কঠোর সমালোচনা হয়।

খাজা বলেন, ‘মিডিয়া ও সাবেক ক্রিকেটাররা যেভাবে আমাকে আক্রমণ করেছে, সেটা ব্যক্তিগত পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। আমাকে বলা হয়েছে—আমি অলস, দলের প্রতি দায়বদ্ধ নই, শুধু নিজের কথা ভাবি। এগুলো সেই একই বর্ণবাদী স্টেরিওটাইপ, যেগুলোর সঙ্গে আমি সারা জীবন লড়ে এসেছি।’

তিনি বলেন, “অনেকে ম্যাচের আগের দিন গলফ খেলে বা এমনকি রাতভর মদ্যপান করেও চোটে পড়েছে, তখন কিছুই বলা হয়নি। ওরা হলে বলা হয়—‘অস্ট্রেলিয়ার নাদান বাচ্চা’।

কিন্তু আমার ক্ষেত্রে প্রশ্ন ওঠে আমার চরিত্র আর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে।”
খাজা জানান, তিনি সাধারণত এসব নিয়ে কথা বলেন না, তবে এবার মনে হয়েছে এখনই বলা দরকার।

‘আমি চাই, ভবিষ্যতের আরেকজন উসমান খাজার পথটা যেন সহজ হয়। তাকে বা তাকে যেন একইভাবে দেখা হয়, ঠিক জন স্মিথের মতোই,’ বলেন তিনি।

২০২০ সালে খাজা বলেছিলেন, তার পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণেই তাকে ‘অলস’ হিসেবে চিহ্নিত করা হতো। ২০২৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে গাজাবাসীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে কালো আর্মব্যান্ড পরায় আইসিসির শাস্তির মুখেও পড়েন তিনি।

খাজা নিজেকে ‘পিপলস চ্যাম্প’ বলে উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি এমন বিষয় নিয়ে কথা বলি, যেগুলো নিয়ে অনেকেই কথা বলতে চায় না। জানি, এতে আমি অনেকের অপছন্দের পাত্র হই।’

ছয়টি অ্যাশেজ সিরিজ খেলা খাজা দুটিতে জিতেছেন, দুটিতে হেরেছেন এবং দুটিতে ড্র করেছেন। ২০২৩ সালে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপজয়ী অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্যও ছিলেন তিনি। শেষ টেস্টে ৩০ রান করলে মাইক হাসিকে ছাড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ার সর্বকালের রান সংগ্রাহকদের তালিকায় ১৪ নম্বরে উঠবেন তিনি।

টেস্ট ছাড়াও ৪০টি ওয়ানডে ও ৯টি টি–টোয়েন্টি খেলেছেন খাজা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও কুইন্সল্যান্ডের হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেট চালিয়ে যাবেন।

ক্যারিয়ারজুড়ে দলে আসা–যাওয়ার মধ্যে থাকলেও ২০২১–২২ সালের অ্যাশেজে ওপেনার হিসেবে নিজেকে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত করেন খাজা। শেষ বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলীয় সমাজ আগের চেয়ে অনেক বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে, কিন্তু ক্রিকেটে এখনো অনেকটাই সাদা আধিপত্য রয়ে গেছে। বদলাতে সময় লাগতে পারে, তবে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

সিডনি টেস্টের পরেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাবেন উসমান খাজা

আপডেট সময়ঃ ০১:৪১:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিতে গিয়ে বর্ণবাদী স্টেরিওটাইপের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান উসমান খাজা। ৩৯ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার জানিয়েছেন, দীর্ঘ ক্যারিয়ারজুড়ে তাকে ‘জাতিগত ছাঁচে’ বিচার করা হয়েছে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাশেজ সিরিজের শেষ টেস্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাবেন খাজা। রোববার সিডনিতে শুরু হতে যাওয়া ম্যাচটি হবে তার ৮৮তম টেস্ট।

একই মাঠে ২০১১ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই টেস্ট অভিষেক হয়েছিল তার।
পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া খাজা অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলা প্রথম মুসলিম ক্রিকেটার। ১৫ বছর আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ শেষে রিকি পন্টিংয়ের জায়গায় দলে সুযোগ পেয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন তিনি। অবসরের ঘোষণাকালে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে আয়োজিত আবেগঘন সংবাদ সম্মেলনে

খাজা বলেন, ‘আমি একজন গর্বিত মুসলিম, পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া রঙিন মানুষ—যাকে বলা হয়েছিল, সে কখনো অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট দলে খেলতে পারবে না।

আজ আমাকে দেখুন।’
স্ত্রী, দুই কন্যা ও বাবা-মায়ের উপস্থিতিতে প্রায় ৫০ মিনিটের সংবাদ সম্মেলনে খাজা সাম্প্রতিক সমালোচনার প্রসঙ্গ টানেন। সিরিজের শুরুতে প্রথম টেস্টের আগের দিন গলফ খেলতে গিয়ে পিঠের চোটে পড়েন তিনি। এ নিয়ে তার প্রস্তুতি ও পেশাদারত্ব নিয়ে কঠোর সমালোচনা হয়।

খাজা বলেন, ‘মিডিয়া ও সাবেক ক্রিকেটাররা যেভাবে আমাকে আক্রমণ করেছে, সেটা ব্যক্তিগত পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। আমাকে বলা হয়েছে—আমি অলস, দলের প্রতি দায়বদ্ধ নই, শুধু নিজের কথা ভাবি। এগুলো সেই একই বর্ণবাদী স্টেরিওটাইপ, যেগুলোর সঙ্গে আমি সারা জীবন লড়ে এসেছি।’

তিনি বলেন, “অনেকে ম্যাচের আগের দিন গলফ খেলে বা এমনকি রাতভর মদ্যপান করেও চোটে পড়েছে, তখন কিছুই বলা হয়নি। ওরা হলে বলা হয়—‘অস্ট্রেলিয়ার নাদান বাচ্চা’।

কিন্তু আমার ক্ষেত্রে প্রশ্ন ওঠে আমার চরিত্র আর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে।”
খাজা জানান, তিনি সাধারণত এসব নিয়ে কথা বলেন না, তবে এবার মনে হয়েছে এখনই বলা দরকার।

‘আমি চাই, ভবিষ্যতের আরেকজন উসমান খাজার পথটা যেন সহজ হয়। তাকে বা তাকে যেন একইভাবে দেখা হয়, ঠিক জন স্মিথের মতোই,’ বলেন তিনি।

২০২০ সালে খাজা বলেছিলেন, তার পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণেই তাকে ‘অলস’ হিসেবে চিহ্নিত করা হতো। ২০২৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে গাজাবাসীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে কালো আর্মব্যান্ড পরায় আইসিসির শাস্তির মুখেও পড়েন তিনি।

খাজা নিজেকে ‘পিপলস চ্যাম্প’ বলে উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি এমন বিষয় নিয়ে কথা বলি, যেগুলো নিয়ে অনেকেই কথা বলতে চায় না। জানি, এতে আমি অনেকের অপছন্দের পাত্র হই।’

ছয়টি অ্যাশেজ সিরিজ খেলা খাজা দুটিতে জিতেছেন, দুটিতে হেরেছেন এবং দুটিতে ড্র করেছেন। ২০২৩ সালে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপজয়ী অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্যও ছিলেন তিনি। শেষ টেস্টে ৩০ রান করলে মাইক হাসিকে ছাড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ার সর্বকালের রান সংগ্রাহকদের তালিকায় ১৪ নম্বরে উঠবেন তিনি।

টেস্ট ছাড়াও ৪০টি ওয়ানডে ও ৯টি টি–টোয়েন্টি খেলেছেন খাজা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও কুইন্সল্যান্ডের হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেট চালিয়ে যাবেন।

ক্যারিয়ারজুড়ে দলে আসা–যাওয়ার মধ্যে থাকলেও ২০২১–২২ সালের অ্যাশেজে ওপেনার হিসেবে নিজেকে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত করেন খাজা। শেষ বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলীয় সমাজ আগের চেয়ে অনেক বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে, কিন্তু ক্রিকেটে এখনো অনেকটাই সাদা আধিপত্য রয়ে গেছে। বদলাতে সময় লাগতে পারে, তবে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।’