নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঈদুল আজহার ছুটি শেষে অফিস-আদালত, ব্যাংক-বিমা, শেয়ারবাজার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান খুলছে। এ কারণে ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকেই গাবতলী বাস টার্মিনালে রাজধানীতে ফেরা মানুষের ভিড় দেখা গেছে। আজ মঙ্গলবার সকালে যারা এসেছেন তারা যানজট বা দেরি করে বাস ছাড়ার অভিযোগ না করলেও বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন। সেই সঙ্গে ঢাকার বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, বাস, লেগুনা ও রিকশায় বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন। এ ছাড়া রাজধানীতে গণপরিবহনের সংকটও ছিল। টার্মিনালের বিপরীতমুখী রাস্তায় যাত্রীদের নিতে বিভিন্ন রুটের একাধিক বাস দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। যাত্রীদের জোর করে তুলতে টানাহেঁচড়াও করতে দেখা যায়। যাত্রীরা অভিযোগ করেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশায় অতিরিক্ত ১৫০ থেকে ২০০ টাকা ভাড়া দাবি করছেন চালকরা। যাত্রীদের কাছে ভারী ব্যাগ থাকলে আরও অতিরিক্ত ভাড়া চাইছেন চালকরা।দুপুরে আবুল হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে নিয়ে রীতিমতো টানাটানি করে উত্তরাগামী বসুমতি পরিবহনের দুটি বাস। আবুল হোসেন নামের ওই ব্যক্তি জানান, দুটি বাসই আগে যাবে বলে তাকে ওঠাতে চায়। তবে ভাড়া বেশি বলায় তিনি কোনো বাসেই ওঠেননি। ওই রুটে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা ভাড়া হলেও তার কাছে ৫০ টাকা দাবি করেছে বলে জানান এই যাত্রী। তিনি বলেন, আজমপুরে একটা দোকানে কাজ করি। আজ থেকে দোকান খোলা, তাই চলে আসতে হলো। মানিকগঞ্জ থেকে গাবতলী ১০০ টাকা ভাড়া হলেও আজ ১৮০ টাকা দিতে হয়েছে। এবার ঈদে বাড়ি যাওয়ার সময়ও বাড়তি ভাড়া দিতে হয়েছে। এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকেই ঢাকার রাস্তায় গণপরিবহন ছিল হাতেগোনা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গণপরিবহনের সংখ্যা বাড়তে থাকে। অন্য রুটে ভাড়া বেশি নেওয়ার বিষয়টি দেখা না গেলেও টার্মিনালগুলোতে ঢাকাফেরত যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ আছে। যদিও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তারা বেশি ভাড়া চাইছেন না। আবদুর রাজ্জাক পরিবারের ৯ সদস্য নিয়ে টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় এসেছেন। যাবেন চকবাজার। তিনি বলেন, সাড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার নিচে কেউ যেতে চাচ্ছে না। ফাঁকা রাস্তায় এত ভাড়া চাইলে তো হয় না। দুটি সিএনজি খুঁজছি। ৪০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বলেছি, তারপরও কেউ যেতে চায় না।