• শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
এমপি আজীমের হত্যাকারীরা প্রায় চিহ্নিত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পত্রিকার প্রচার সংখ্যা জানতে নতুন ফর্মুলা নিয়ে কাজ করছি: তথ্য প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রাম বন্দরে কোকেন উদ্ধারের মামলার বিচার শেষ হয়নি ৯ বছরও বিচারপতি অপসারণের রিভিউ শুনানি ১১ জুলাই দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে ইউসেফ কাজ করছে: স্পিকার দেশে চমৎকার ধর্মীয় সম্প্রীতি বিরাজ করছে: আইজিপি জিডিপি বৃদ্ধি পেয়েছে ৫.৮২ শতাংশ ফরিদপুরে দুই ভাইকে হত্যায় জড়িতদের বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারের দাবি এমপি আনারের হত্যাকা- দুঃখজনক, মর্মান্তিক, অনভিপ্রেত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজকের যুদ্ধবিধ্বস্ত বিশ্বে বুদ্ধের বাণী অপরিহার্য: ধর্মমন্ত্রী

সড়ক দুর্ঘটনা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির সংখ্যা খুবই কম

Reporter Name / ১৮৯ Time View
Update : শুক্রবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক :
দেশের সড়ক-মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনা আশঙ্কাজনক বেড়ে যাওয়ায় প্রাণহানির সংখ্যাও বাড়ছে। কিন্তু দুর্ঘটনার তুলনায় মামলার সংখ্যা কম। আবার প্রতিটি দুর্ঘটনায় মামলা হয় না। বিশেষ করে হাইওয়ে ও রেঞ্জ এলাকায় যে পরিমাণ দুর্ঘটনা সংঘটিত হয় ওই সংখ্যক মামলা হয় না। পুলিশের পরিসংখ্যানের তথ্যানুযায়ী সড়ক দুর্ঘটনায় দৈনিক ১২ জন প্রাণ হারাচ্ছে। তবে বেসরকারি হিসাব অনুযায়ী ওই সংখ্যা আরো বেশি। আর তদন্ত ও বিচারের দীর্ঘসূত্রতার কারণে এবং বাদী পক্ষ বিবাদীর সঙ্গে আপোষ করে ফেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির সংখ্যাও খুবই কম। তাছাড়া বাদী পক্ষ মামলার সাক্ষ্য দিতে না আসায় অনেক মামলাই আদালত খারিজ করে দেয়। ফলে পাড় পেয়ে যাওয়া চালকরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। পুলিশ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, প্রতিবছরই সড়কে দুর্ঘটনা ও মৃত্যু উভয়ই বাড়ছে। পুলিশ সদর দফতরের ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৬ বছরের পরিসংখ্যানের তথ্যানুযায়ী, বিগত ২০১৬ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৪৬৩ জন নিহত হয়েছে। ২০১৭ সালে ৫০ জন বেড়ে ওই সংখ্যা ২ হাজার ৫১৩ জনে দাঁড়ায়। তার পরের বছর ২০১৮ সালে ১২২ জন বেড়ে মৃত্যুর সংখ্যা ২ হাজার ৬৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। আর তার পরের বছর ওই সংখ্যা বেড়েছে কয়েকগুণ। অর্থাৎ ২০১৯ সালে দেড় হাজারের বেশি বেড়ে ৪ হাজার ১৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে ২০২০ সালে মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমে ছিল ৩ হাজার ৯১৮। আবার গত বছর ১ হাজার ১৭০ জন বেড়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮৮ জন। দুর্ঘটনার সংখ্যার ক্ষেত্রেও একই চিত্র। প্রতিবছর দুর্ঘটনার সংখ্যাও কয়েকগুণ করে বাড়ছে।
সূত্র জানায়, ২০২০ সালে দেশের ৫টি হাইওয়ে, রেঞ্জ ও মেট্রোপলিটন এলাকায় ৪ হাজার ১৯৮টি সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। ওসব দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৯৫৬টি মামলা হয়েছে। ২০১৯ সালে দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ১৪৭টি আর তার বিপরীতে মামলা হয় ৩ হাজার ৬৬০টি। ফলে প্রায় ২০ শতাংশ দুর্ঘটনার ঘটনায় মামলা হয়নি। আর ওসব ঘটনায় হতাহতের তুলনায় আটকের সংখ্যাও অত্যন্ত কম। বিগত ২০২০ সালে হাইওয়ে রেঞ্জে ১ হাজার ৭৯১টি দুর্ঘটনার বিপরীতে মামলা হয়েছে মাত্র ৭০০টি। ঢাকা রেঞ্জে ৫৭৪টি দুর্ঘটনায় মামলা হয়েছে ৫৪৪টি। রংপুর রেঞ্জে ১২৭টি দুর্ঘটনায় ১২৭টিই মামলা হয়েছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জে দুর্ঘটনার ঘটনা ছিল ২২৩টি আর মামলা হয়েছে ২১৮টি। ময়মনসিংহ রেঞ্জে ১৯৫টি দুর্ঘটনায় ১৯৫টিই মামলা হয়েছে। বরিশাল রেঞ্জে ৬৯টি দুর্ঘটনায় মামলা হয়েছে ৬০টি। খুলনা রেঞ্জে দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল ২৫৭টি, মামলা হয়েছে ২১৭টি। রাজশাহী রেঞ্জে ২৪২টি দুর্ঘটনায় মামলা হয়েছে ১৯২টি। সিলেট রেঞ্জে ১২২টি দুর্ঘটনা সংঘটিত হলেও মামলার সংখ্যা অর্ধেকেরও কম অর্থাৎ ১০৬টি। ৮টি রেঞ্জের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা রেঞ্জে আর বরিশালে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে। আর ২০১৯ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ীও সংঘটিত দুর্ঘটনার চেয়ে মামলার সংখ্যা কম।
সূত্র আরো জানায়, মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় (ডিএমপিতে) সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। ২০২০ সালে ডিএমপিতে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল ৩২৪টি, তবে প্রতিটি ঘটনায় মামলা হয়েছে। তার আগের বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে ডিএমপিতে মাত্র ৩টি সড়ক দুর্ঘটনা কম ছিল। ডিএমপির পর সড়ক দুর্ঘটনার দিক দিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সিএমপি। তবে মেট্রোপলিটন এলাকায় সংঘটিত প্রতিটি দুর্ঘটনায় মামলা হয়েছে। মূলত মেট্রোপলিটন বা মহানগর এলাকায় কেউ দুর্ঘটনার শিকার হলে স্বজনরা সহজে জানতে পারে। নির্দিষ্ট ঘটনাস্থলে যেতে পারে এবং ঘাতক পরিবহন সম্পর্কেও জেনে যায়। সেজন্য তারা মামলা করে। আর হাইওয়ে বা রেঞ্জ এলাকায় দ্রুতগতির যানবাহন চলাচল করে। দুর্ঘটনা ঘটিয়ে অনেক পরিবহনই দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তাছাড়া হাইওয়ে সেভাবে পুলিশ মোতায়েন থাকে না। আবার স্বজনরা থাকে এক জায়গায় আর পরিবারের সদস্য দুর্ঘটনায় পতিত হন দূরে অন্য জায়গায়। মামলা করলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অনেক বার যেতে হবে। তাই অনেক ভুক্তভোগীর পরিবার মামলা না করে মীমাংসা করে ফেলেন। সেজন্যই হাইওয়ে ও রেঞ্জ এলাকায় মামলার সংখ্যাও কম। তবে ২০১৯ ও ২০২০ সালে সংঘটিত দুর্ঘটনার ঘটনায় ১ হাজার ৭৫৭টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। কিন্তু অনেক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবার বিবাদীর সঙ্গে মিটমাট করে ফেলে। ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ নিয়ে যায়। তাদের কোন অভিযোগ নেই বলে তখন বাদী পক্ষ শুধু একটা লিখিত অভিযোগ দায়ের করে বা জিডি করে। শুধু এ ক্ষেত্রে জিডি হয়ে থাকে।
এদিকে এ বিষয়ে পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট) এ কে এম মোশাররফ হোসেন মিয়াজী জানান, জেলা পর্যায়ে সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনায় মামলা কম হয়। মূলত বাদী পক্ষ মামলা না করে মীমাংসা করে ফেলে। আর মামলা হলেও বিবাদীর সমঝোতার ডাকে সাড়া দিয়ে আপোষ করে ফেলে এবং বাদী আদালতে সাক্ষ্য দিতে আসে না। দুর্ঘটনার পর মামলা হলে তখন অপরাধ পর্যায়ে চলে যায়। থানা পুলিশ মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায়। চালককে আটক কিংবা গ্রেফতারের বিষয়টি তখন থানা পুলিশের ওপর নির্ভর করে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category