নিজস্ব প্রতিবেদক :
করোনা কারণে বিশ্ব পণ্যবাজার, এবং একইসাথে বাংলাদেশের পণ্যবাজার চরম অস্থিতিশীলতার মধ্যে অতিক্রম করলো গত দুই বছর। অস্থিতিশীলতা এখনো পুরোপুরি কাটেনি এখনো। এরই মধ্যে নতুন সংকট এসে হাজির হয়েছে। ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত। নতুন এই সংকট বিশ্ব পণ্যবাজারকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, এবং নিশ্চিতভাবেই এর অপপ্রভার থেকে বাংলাদেশের বাজার মুক্ত থাকতে পারবে না।
সূত্র জানায়, রাশিয়া-ইউক্রেনের সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি পণ্যের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। উত্তেজনা আরো বাড়লে শেয়ারবাজারগুলোয় দরপতন ঘটতে পারে। অন্যদিকে ঊর্ধ্বমুখী পণ্যের দাম আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জ¦ালানি তেলের মূল্য এমনিতেই বাংলাদেশকে জ¦লাচ্ছে। তরতর করে বেড়ে গেছে এর দাম, যা ভোগান্তি বাড়াচ্ছে মানুষের। বিশেষজ্ঞরা ধারণা পোষণ করছেন যে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বাধলে অপরিশোধিত জ¦ালানি তেল এবং ইউরোপিয়ান গ্যাসের দাম আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি একই রকম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছিল। কারণ ওই বছর রাশিয়া ইউক্রেনের ক্রিমিয়া উপদ্বীপটি দখল করে নেয়। তবে বিশ্ববাজারে এ ঘটনার প্রভাব বেশি দিন ছিল না। তবে বর্তমানে বাজার পরিস্থিতি যে অনিশ্চয়তার দিকে হাঁটছে, তাতে অস্থিতিশীলতা দীর্ঘস্থায়ী রূপ ধারণ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্বের যে দেশগুলো জ¦লানি উৎপাদনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে তাদের মধ্যে একটি হলো রাশিয়া। প্রতিদিন দেশটি প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল জ¦ালানি রফতানি করে। ইউরোপ স্থানীয় চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ প্রাকৃতিক গ্যাসই রাশিয়া থেকে সংগ্রহ করে।
তবে একটি লক্ষণীয় বিষয় এই যে, রাশিয়া থেকে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ শুধু নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইন দিয়েই নয়, বরং ইউক্রেন হয়েও আসে। যদি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার বিরোধ আরো প্রকট হয়, তবে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ থেমে যেতে পারে। ফলে অঞ্চলটির পরিকাঠামো ভয়াবহ ক্ষতির মধ্যে পড়তে পারে। জানা যায়, এরইমধ্যে উদ্বেগ ও সংঘাতের কারণে অপরিশোধিত জ¦ালানি তেলের সরবরাহ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে পণ্যটির দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের গ-ি ছাড়িয়েছে, যা সাত বছরের সর্বোচ্চ। অন্যদিকে ইউরোপের বাজারে প্রতি এমএমবিটিইউ প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ২৫ ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারদরের তুলনায় অন্তত পাঁচ গুণ বেশি।
আজ থেকে সাত বছর ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রিমিয়া দখল করে নিয়েছিল রাশিয়া। আবারও তারা ইউক্রেন সীমান্তে সৈন্য মোতায়েন করেছে। দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে চরম। রাশিয়ান ও ইউক্রেনিয়ানদের মধ্যে ভাষাগত ও ঐতিহাসিক ভিন্নতা ছিল। রাজনৈতিকভাবেও তারা আলাদা ছিল। তবে ভøাদিমির পুতিনের দাবি, রাশিয়ান ও ইউক্রেনিয়ানরা ‘একই জনগোষ্ঠী’ এবং উভয়ই রাশিয়ান সভ্যতার অংশ। আরেক প্রতিবেশী দেশ বেলারুশকেও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেন তিনি। রুশ প্রেসিডেন্টের এ দাবি নাকচ করে আসছেন ইউক্রেনিয়ানরা।
ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার সৃষ্ট এই সংঘাত শুধু আদর্শিক কিংবা রাজনৈতিক নয়, এ সংকটের পেছনে অর্থনৈতিক দিকও জড়িত। প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন চান, ২০০০ সালে চালু হওয়া মস্কো নিয়ন্ত্রিত মুক্তবাণিজ্য জোটে যোগ দিক ইউক্রেন। ইউরেশিয়ান ইকোনমিক কমিউনিটির (ইএইসি) পতাকাতলে সাবেক সোভিয়েতভুক্ত বেশ কয়েকটি দেশ মিলেছে এবং একে দেখা হচ্ছে সোভিয়েত ইউনিয়নকে আবার সক্রিয় করার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে।
ইউক্রেন স্বল্প জনসংখ্যার দেশ। দেশটি কৃষি ও শিল্প উৎপাদনে বেশ এগিয়ে গেছে। ইএইসিতে রাশিয়ার পরই শক্তিশালী সদস্য হওয়ার সক্ষমতা রয়েছে তাদের। তবে এ জোটে যোগ দিতে অস্বীকার করে আসছে কিয়েভ।
এটি স্পষ্ট যে, ইউক্রেনের সাথে আগ বাড়িয়ে সংঘাতে জড়াচ্ছে না রাশিয়া। রাশিয়া এগোচ্ছে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নয়ে। এ বিষয়ে বিশ্লেষকরা বলেছেন, একটি স্বনির্ভর বাজার তৈরির জন্য ২৫ কোটির মতো জনসংখ্যার প্রয়োজন হয়। ক্রুগম্যানের মডেলের ওপর ভিত্তি করেই এই ব্লকের চিন্তা করা হয়েছে এবং এটা কার্যকর করার জন্য ইউক্রেন ও উজবেকিস্তানকে (৩ কোটি ৪০ লাখ জনসংখ্যা) দরকার। সে কারণে এই দেশগুলোকে নিয়ে স্থায়ী ভূরাজনৈতিক লড়াই চলছে।
জানা যায়, করোনা পরিস্থিতিতে রাশিয়া বেশ কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
রাশিয়ার জনগণের একটি বড় অংশের মধ্যে করোনার টিকা নেওয়ার প্রতি অনীহা রয়েছে। অপর দিকে টিকা নিতে সরকারের দিক থেকে চাপ রয়েছে। আবার করোনা মহামারির কারণে দেশটির জনগণকে অর্থনৈতিকভাবে খারাপ অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। এসব কারণে প্রেসিডেন্ট পুতিনের জনপ্রিয়তা কমছে।
এর আগে ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের পর ক্রেমলিনের প্রতি সমর্থন তুঙ্গে উঠেছিলÑপ্রায় ৯০ শতাংশ। এখন তারা মনে করছে, নতুন একটি যুদ্ধ শুরু হলে জনদৃষ্টি অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো থেকে সরে যাবে এবং আবার পুতিনের জনপ্রিয়তা বাড়বে।
তবে এসব বিষয়কে নাকচ করে দিয়ে ইউক্রেনের ওপর হামলা করার কোন পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে রাশিয়া। তাদের ভাষ্য, তাদের সীমান্তে যেকোন সময় তারা সৈন্য মোতায়েন করতে পারে। জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে ন্যাটো পূর্ব ইউরোপে সৈন্য মোতায়েন করে। ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা ঠেকাতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এ খবর প্রকাশের পর পরই ইউরোপের পুঁজিবাজারে ধস নামে। দরপতনের হার ছিল ৩ দশমিক ৮ শতাংশ, যা গত বছরের অক্টোবরের পর সর্বনিম্ন।
এই আসন্ন সংকটে শুধু পুঁজিবাজার নয়, ধস নামতে পারে কৃষিপণ্য হিসেবে গমের বাজারেও। জানা যায়, রাশিয়া ও ইউক্রেন দেশ দুটি বৈশ্বিক গম রফতানির ২৯ শতাংশ চাহিদা পূরণ করে। সংঘাত তীব্র হলে এ অঞ্চল থেকে কৃষিপণ্যটির সরবরাহ ব্যাহত হবে। ফলে পণ্যটির দাম লাগামহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
এতে কোন সন্দেহ নেই যে, রাশিয়া বিভিন্ন খাতে রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। অ্যালুমিনিয়াম, প্যালাডিয়াম, নিকেল ও সারের অন্যতম শীর্ষ রফতানিকারক রাশিয়া। দেশটি যদি পটাশের সরবরাহ বন্ধ করে দেয় তবে খাদ্যপণ্যে মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিতে পারে। কারণ সার সংকট দেখা দিলে শস্য উৎপাদন তলানিতে ঠেকতে পারে। ফলে মূল্যস্ফীতি আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে। এরইমধ্যে খাদ্যপণ্যের বাজারে ইউক্রেন সংকটের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা জানায়, জানুয়ারিতে খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক বেড়েছে ১ দশমিক ১ শতাংশ।ইউক্রেন সংকটে স্থিতিশীলতা হারাচ্ছে আন্তর্জাতিক পণ্যবাজার
নিজস্ব প্রতিবেদক :
করোনা কারণে বিশ্ব পণ্যবাজার, এবং একইসাথে বাংলাদেশের পণ্যবাজার চরম অস্থিতিশীলতার মধ্যে অতিক্রম করলো গত দুই বছর। অস্থিতিশীলতা এখনো পুরোপুরি কাটেনি এখনো। এরই মধ্যে নতুন সংকট এসে হাজির হয়েছে। ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত। নতুন এই সংকট বিশ্ব পণ্যবাজারকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, এবং নিশ্চিতভাবেই এর অপপ্রভার থেকে বাংলাদেশের বাজার মুক্ত থাকতে পারবে না।
সূত্র জানায়, রাশিয়া-ইউক্রেনের সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি পণ্যের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। উত্তেজনা আরো বাড়লে শেয়ারবাজারগুলোয় দরপতন ঘটতে পারে। অন্যদিকে ঊর্ধ্বমুখী পণ্যের দাম আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জ¦ালানি তেলের মূল্য এমনিতেই বাংলাদেশকে জ¦লাচ্ছে। তরতর করে বেড়ে গেছে এর দাম, যা ভোগান্তি বাড়াচ্ছে মানুষের। বিশেষজ্ঞরা ধারণা পোষণ করছেন যে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বাধলে অপরিশোধিত জ¦ালানি তেল এবং ইউরোপিয়ান গ্যাসের দাম আরও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি একই রকম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছিল। কারণ ওই বছর রাশিয়া ইউক্রেনের ক্রিমিয়া উপদ্বীপটি দখল করে নেয়। তবে বিশ্ববাজারে এ ঘটনার প্রভাব বেশি দিন ছিল না। তবে বর্তমানে বাজার পরিস্থিতি যে অনিশ্চয়তার দিকে হাঁটছে, তাতে অস্থিতিশীলতা দীর্ঘস্থায়ী রূপ ধারণ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্বের যে দেশগুলো জ¦লানি উৎপাদনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে তাদের মধ্যে একটি হলো রাশিয়া। প্রতিদিন দেশটি প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল জ¦ালানি রফতানি করে। ইউরোপ স্থানীয় চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ প্রাকৃতিক গ্যাসই রাশিয়া থেকে সংগ্রহ করে।
তবে একটি লক্ষণীয় বিষয় এই যে, রাশিয়া থেকে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ শুধু নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইন দিয়েই নয়, বরং ইউক্রেন হয়েও আসে। যদি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার বিরোধ আরো প্রকট হয়, তবে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ থেমে যেতে পারে। ফলে অঞ্চলটির পরিকাঠামো ভয়াবহ ক্ষতির মধ্যে পড়তে পারে। জানা যায়, এরইমধ্যে উদ্বেগ ও সংঘাতের কারণে অপরিশোধিত জ¦ালানি তেলের সরবরাহ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে পণ্যটির দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের গ-ি ছাড়িয়েছে, যা সাত বছরের সর্বোচ্চ। অন্যদিকে ইউরোপের বাজারে প্রতি এমএমবিটিইউ প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ২৫ ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারদরের তুলনায় অন্তত পাঁচ গুণ বেশি।
আজ থেকে সাত বছর ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রিমিয়া দখল করে নিয়েছিল রাশিয়া। আবারও তারা ইউক্রেন সীমান্তে সৈন্য মোতায়েন করেছে। দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে চরম। রাশিয়ান ও ইউক্রেনিয়ানদের মধ্যে ভাষাগত ও ঐতিহাসিক ভিন্নতা ছিল। রাজনৈতিকভাবেও তারা আলাদা ছিল। তবে ভøাদিমির পুতিনের দাবি, রাশিয়ান ও ইউক্রেনিয়ানরা ‘একই জনগোষ্ঠী’ এবং উভয়ই রাশিয়ান সভ্যতার অংশ। আরেক প্রতিবেশী দেশ বেলারুশকেও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেন তিনি। রুশ প্রেসিডেন্টের এ দাবি নাকচ করে আসছেন ইউক্রেনিয়ানরা।
ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার সৃষ্ট এই সংঘাত শুধু আদর্শিক কিংবা রাজনৈতিক নয়, এ সংকটের পেছনে অর্থনৈতিক দিকও জড়িত। প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন চান, ২০০০ সালে চালু হওয়া মস্কো নিয়ন্ত্রিত মুক্তবাণিজ্য জোটে যোগ দিক ইউক্রেন। ইউরেশিয়ান ইকোনমিক কমিউনিটির (ইএইসি) পতাকাতলে সাবেক সোভিয়েতভুক্ত বেশ কয়েকটি দেশ মিলেছে এবং একে দেখা হচ্ছে সোভিয়েত ইউনিয়নকে আবার সক্রিয় করার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে।
ইউক্রেন স্বল্প জনসংখ্যার দেশ। দেশটি কৃষি ও শিল্প উৎপাদনে বেশ এগিয়ে গেছে। ইএইসিতে রাশিয়ার পরই শক্তিশালী সদস্য হওয়ার সক্ষমতা রয়েছে তাদের। তবে এ জোটে যোগ দিতে অস্বীকার করে আসছে কিয়েভ।
এটি স্পষ্ট যে, ইউক্রেনের সাথে আগ বাড়িয়ে সংঘাতে জড়াচ্ছে না রাশিয়া। রাশিয়া এগোচ্ছে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নয়ে। এ বিষয়ে বিশ্লেষকরা বলেছেন, একটি স্বনির্ভর বাজার তৈরির জন্য ২৫ কোটির মতো জনসংখ্যার প্রয়োজন হয়। ক্রুগম্যানের মডেলের ওপর ভিত্তি করেই এই ব্লকের চিন্তা করা হয়েছে এবং এটা কার্যকর করার জন্য ইউক্রেন ও উজবেকিস্তানকে (৩ কোটি ৪০ লাখ জনসংখ্যা) দরকার। সে কারণে এই দেশগুলোকে নিয়ে স্থায়ী ভূরাজনৈতিক লড়াই চলছে।
জানা যায়, করোনা পরিস্থিতিতে রাশিয়া বেশ কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
রাশিয়ার জনগণের একটি বড় অংশের মধ্যে করোনার টিকা নেওয়ার প্রতি অনীহা রয়েছে। অপর দিকে টিকা নিতে সরকারের দিক থেকে চাপ রয়েছে। আবার করোনা মহামারির কারণে দেশটির জনগণকে অর্থনৈতিকভাবে খারাপ অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। এসব কারণে প্রেসিডেন্ট পুতিনের জনপ্রিয়তা কমছে।
এর আগে ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের পর ক্রেমলিনের প্রতি সমর্থন তুঙ্গে উঠেছিলÑপ্রায় ৯০ শতাংশ। এখন তারা মনে করছে, নতুন একটি যুদ্ধ শুরু হলে জনদৃষ্টি অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো থেকে সরে যাবে এবং আবার পুতিনের জনপ্রিয়তা বাড়বে।
তবে এসব বিষয়কে নাকচ করে দিয়ে ইউক্রেনের ওপর হামলা করার কোন পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে রাশিয়া। তাদের ভাষ্য, তাদের সীমান্তে যেকোন সময় তারা সৈন্য মোতায়েন করতে পারে। জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে ন্যাটো পূর্ব ইউরোপে সৈন্য মোতায়েন করে। ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা ঠেকাতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এ খবর প্রকাশের পর পরই ইউরোপের পুঁজিবাজারে ধস নামে। দরপতনের হার ছিল ৩ দশমিক ৮ শতাংশ, যা গত বছরের অক্টোবরের পর সর্বনিম্ন।
এই আসন্ন সংকটে শুধু পুঁজিবাজার নয়, ধস নামতে পারে কৃষিপণ্য হিসেবে গমের বাজারেও। জানা যায়, রাশিয়া ও ইউক্রেন দেশ দুটি বৈশ্বিক গম রফতানির ২৯ শতাংশ চাহিদা পূরণ করে। সংঘাত তীব্র হলে এ অঞ্চল থেকে কৃষিপণ্যটির সরবরাহ ব্যাহত হবে। ফলে পণ্যটির দাম লাগামহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
এতে কোন সন্দেহ নেই যে, রাশিয়া বিভিন্ন খাতে রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। অ্যালুমিনিয়াম, প্যালাডিয়াম, নিকেল ও সারের অন্যতম শীর্ষ রফতানিকারক রাশিয়া। দেশটি যদি পটাশের সরবরাহ বন্ধ করে দেয় তবে খাদ্যপণ্যে মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিতে পারে। কারণ সার সংকট দেখা দিলে শস্য উৎপাদন তলানিতে ঠেকতে পারে। ফলে মূল্যস্ফীতি আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে। এরইমধ্যে খাদ্যপণ্যের বাজারে ইউক্রেন সংকটের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা জানায়, জানুয়ারিতে খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক বেড়েছে ১ দশমিক ১ শতাংশ।
সর্বশেষঃ
ইউক্রেন সংকটে স্থিতিশীলতা হারাচ্ছে আন্তর্জাতিক পণ্যবাজার
-
দৈনিক আইন বার্তা
- আপডেট সময়ঃ ০৯:০৫:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২২
- ১৮৮ বার পড়া হয়েছে
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ