ইন্দোনেশিয়ায় বিক্ষোভের মুখে থমকে গেল প্রেসিডেন্টের চীন সফর

- আপডেট সময়ঃ ০২:২০:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
- / ২১ বার পড়া হয়েছে
ইন্দোনেশিয়ায় কয়েকদিন ধরে চলা বিক্ষোভ রাজধানী জাকার্তার বাইরে ছড়িয়ে পড়েছে। একাধিক আঞ্চলিক পার্লামেন্ট ভবনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা বাড়ায় চীন সফর বাতিল করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী বুধবার বেইজিংয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্তি ও জাপানের আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘বিজয় শোভাযাত্রায়’ অংশ নেওয়ার কথা ছিল তার। তবে দেশজুড়ে অস্থিরতার কারণে শনিবার ওই সফর স্থগিত করেন তিনি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এক বছর হতে চলা প্রাবোও সরকারের জন্য এ বিক্ষোভ এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কিছুদিন আগে সাংসদদের বেতন-ভাতা নিয়ে অসন্তোষ থেকে রাজধানী জাকার্তায় বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে পুলিশের গাড়ির ধাক্কায় এক মোটরসাইকেলচালকের মৃত্যু হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
শনিবার এক ভিডিও বার্তায় প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের মুখপাত্র প্রাসেতিও হাদি জানান, ‘প্রেসিডেন্ট পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যেতে চান এবং জটিলতার সেরা সমাধান খুঁজছেন।
মুখপাত্র আরো জানান, সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনও সামনে থাকায় সফর বাতিলের ক্ষেত্রে সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
শনিবার ওয়েস্ট নুসা তেংগারা, মধ্য জাভার পেকালংগান ও পশ্চিম জাভার সিরেবোনে আঞ্চলিক পার্লামেন্ট ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। সিরেবোনে ভবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম লুটও হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।
এর আগে শুক্রবার সাউথ সুলাওয়েসি প্রদেশের রাজধানী মাকাসারে পার্লামেন্ট ভবনে আগুন লাগার ঘটনায় অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়। আগুনে আটকা পড়ে তারা প্রাণ হারান বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা। ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত হয়েছেন আরও দুজন। স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, এ ঘটনায় আরও একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
শনিবার দেশটির পর্যটনকেন্দ্র বালিতেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ সেখানে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
এদিকে জাকার্তায় নাসদেম দলের সাংসদ আহমেদ সারোনির বাড়িতে লুটপাট চালানো হয়। লুটপাটকারীরা আসবাবপত্রও নিয়ে গেছে। সাংসদ সারোনি আগে সাংসদদের বেতন নিয়ে প্রশ্ন তোলা লোকজনকে ‘বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ স্টুপিড’ বলেছিলেন বলে জানা গেছে।
বিক্ষোভের পেছনে ভুয়া তথ্যের প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সরকার। এ কারণে টিকটক ঘোষণা দিয়েছে, সাময়িকভাবে ইন্দোনেশিয়ায় তাদের লাইভ ফিচার বন্ধ রাখা হবে। এর আগে মেটা ও টিকটকসহ বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর প্রতিনিধিদের ডেকে ভুয়া তথ্য নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিতে বলেছিল সরকার।