নিজস্ব প্রতিবেদক :
টিকিট পাওয়া যায়নি কিন্তু বিমানের ফ্লাইট খালি গেছে- এমন তথ্য পাওয়া গেলে জানানোর আহ্বান জানিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেছেন, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে সচিবালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম আয়োজিত বিএসআরএফ সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন। সংগঠনের সভাপতি তপন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সংলাপের উপস্থাপনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হক।সম্প্রতি এক রুটে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব এয়ারলাইন্স বিমানের ফ্লাইট খালি যাওয়া নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, টিকিট পায়নি কিন্তু প্লেন খালি গেছে, এমন তথ্য পেলে জানাবেন। সবাইকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে এবং সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে। কিছুদিন আগে চালু হওয়া কানাডায় বিমানের টরেন্টো ফ্লাইট সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, টরেন্টোতে ফুল প্যাসেঞ্জার নিয়ে যাচ্ছে। আমরা ভালো সাড়া পেয়েছি। হিথ্রো এবং ম্যানচেস্টারেও ভালোভাবে চলছে। বিমানের ফ্লাইটগুলো যথা সময়ে চলছে। প্রত্যেক ফ্লাইট যাতে যথা সময়ে যায় সেজন্য আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি বিভন্ন পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, সরকার হয়তো পয়সা দেয় না এ কারণে বিমান সঠিকভাবে পরিচালিত হয় না। আমাদের মন্ত্রণালয় একটু স্বতন্ত্র, সবগুলো নিজেদের উপার্জনে চলে। বিমান যদি উপার্জন করতে না পারে তাহলে বিমানের কর্মচারীরা বেতন পাবেন না। সরকার থেকে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয় না। হোটেলগুলোর জন্য বাজেট দেওয়া হয় না। এরপরও আমরা লাভের মধ্যে আছি। প্রতিমন্ত্রী জানান, কোভিডের সময় যত বড় এয়ারলাইন্স ততো বড় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা চেষ্টা করেছি চালিয়ে নিতে। পর্যটন করপোরেশন ভার্লানেরেবল অবস্থায় ছিল, আমরা চালিয়ে নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় একজন কর্মচারীকেও চাকরিচ্যুত করিনি। বিএসআরএফ সভাপতি তপন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হক সংলাপ সঞ্চালনা করেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আগেও লাভের মধ্যে ছিল, এখনো আছে বলে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিমানের লোকজন সরকারি বেতন পায় বলে অনেক ধারণা আছে। আমাদের মন্ত্রণালয় অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের তুলনায় স্বতন্ত্র। আমাদের অধিনস্ত অধিদপ্তরগুলোও নিজেদের মতো চলতে হয়। এখানে সরকার থেকে কোনো বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয় না। বিমান যদি আয় করতে না পারে তাহলা তারা বেতন পাবে না। অন্যান্য অধিদপ্তরগুলোও একই রকমভাবে চলতে হয়। করোনায় আমাদের মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো অনেকটা বন্ধ ছিল, তারপরও আমরা চেষ্টা করেছি তাদের বেতন-ভাতা দেওয়ার। বিমান সবসময়ই লাভের মধ্যেই ছিল। তিনি বলেন, করোনার সময় সরকার এক হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা দিয়েছিল, সেখান থেকে আমরা ৭৮১ কোটি টাকা খরচ করেছি। আমরা এখনো বিমান লাভের মধ্যে আছি। বিশ্ববাজার অস্থিতিশীল, তেলের দাম বেড়েছে। এরমধ্যে টরেন্টো ফ্লাইটে ভালো সাড়া পেয়েছি, আমরা পুরোপুরি যাত্রী পেয়েছিলাম। আমরা চাই বিমান সঠিকভাবে চলুক। কেউ অনিয়ম করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। এখন বিমান যথাসময়ে ফ্লাইটগুলো ছেড়ে যাচ্ছে। মাহবুব আলী বলেন, এয়ারপোর্টে যাতে কোন যাত্রী হয়রানি হয়, সেদিক সতর্ক থাকতে বলেছি। অতিরিক্ত সতর্কতার কারণে আবার যেন কেউ হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে নজর রাখতে বলেছি। সবাই যেন সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে সেটি মনিটরিং করা হয়। বিমানের এমডি প্রতিদিনই এয়ারপোর্টে যান, তিনি নিজে উপস্থিত থেকে অনেক সময় মনিটরিং করেন। প্রধানমন্ত্রী চেয়েছেন যাত্রীদের যেন ভালো সার্ভিস দেওয়া হয়, সেদিকে সবসময় লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। ২০২৩ এর অক্টোবরে নবনির্মিত থার্ড টার্মিনাল থেকে বিমান চলাচল করতে পারবে বলেও আশাপ্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, কক্সবাজারকে আরও নান্দনিক করতে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সৈয়দপুরে নান্দনিক টার্মিনাল নির্মাণ হয়েছে। যশোরের টার্মিনালকে আধুনিক টার্মিনাল করা হয়েছে। বরিশাল বিমানবন্দরের কাজও আমরা হাতে নেবো। আমাদের বিমান বন্দরের কাক্সিক্ষত সেবা হয়তো দিতে পারিনি, তবে চেষ্টার ত্রুটি নেই। আমরা কার্গো সেবা সম্প্রসারণের জন্য সিলেটে কার্গো ভিলেজ করেছি, চট্টগ্রামেও সেটি করার উদ্যোগ নিয়েছি। কার্গো নিয়ে এখন তেমন সমস্যা হয় না। আন্তর্জাতিক মান রেখে বিমান যাতে সেবা দিতে পারে সেদিকে নজর রেখে আমরা কাজ করছি।
পর্যটন করপোরেশন নিয়ে তিনি বলেন, পর্যটন করপোরেশনকে কেন কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে নিয়ে যেতে পারিনি সেই প্রশ্নটি বার বার আসে। আমরা চাই বিদেশি বিনিয়োগও আসুক। করোনায় পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ছিল, পরে সেটি খুলে দেওয়ার পর প্রথম মাসে ১ কোটি টাকা লাভ করেছি, দ্বিতীয় মাসে ২ কোটি টাকা লাভ করেছি। আমরা একটা সুফল আনতে চাই। পর্যটকদের হয়রানি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাবলিক অ্যাওয়ারনেস জরুরি। অন্যান্য দেশগুলোতে জনগণ সেটি জানে, সেদিকে নজর রাখে। কক্সবাজারসহ অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রের জেলা প্রশাসককে (ডিসি) আমরা বলেছি তারা যাতে নজর রাখেন। ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে মূল্য তালিকা দেখতে বলেছি। সবাইকে সম্পৃক্ত করতে না পারলে পর্যটনে সফলতা আসবে না। পরিবেশ তৈরি হলে বিদেশি পর্যটক আসবে। সরকার আন্তরিক, ক্যাম্পেইন দরকার পর্যটনকে আমরা এগিয়ে নিতে চাই। স্বর্ণ চোরাকারবারিদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বর্ণ নিয়ে ধরা পড়ার ঘটনার সাতদিন আগে গিয়েছিলাম। সেখানে ভেতরের গেটটি দেখে আমার সন্দেহ হয়েছিল। তখন আমি বলেছিলাম সমস্যা হতে পারে, তার চারদিন পরই ঘটনাটি ঘটেছে। এখন সেখানে শক্তিশালী গেট দেওয়া হয়েছে, সিসিটিভি লাগানো হয়েছে। বিমানে ওঠানামার চেক করার জন্য বলেছি। এটি দেশের ভাবমূর্তির সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, যাত্রীদের সুবিধার জন্য এয়ারপোর্টে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। তবে, যাত্রীরা ট্রলি নিয়ে যাতে রোড পর্যন্ত বের হতে পারবেন সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা আরও ট্রলি এনেছি, আশাকরি ট্রলির সংকট হবে না। পাবলিক ট্রান্সপোর্ট এয়ারপোর্টে যাওয়ার বিষয়টি আমিও অনুধাবন করেছি। তৃতীয় টার্মিনালে যাতে নিরবিচ্ছিন্নভাবে যাত্রীরা যেকোনো পরিবহন নিয়ে যেতে পারেন সে ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। যাত্রীরা কিন্তু যেকোনো পরিবহন নিয়ে এয়ারপোর্টে গিয়ে আবার আসতে পারবেন ট্রাফিক সিগনাল ছাড়া। এছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে পাইলট নিয়োগে ওঠা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় এসেছে পাইলট নিয়োগের বিষয়টি। এটা সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তদন্ত করা হয়েছে, বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে, আমাদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আমরাও তদন্ত করেছি, বিমানের নিজস্ব তদন্তও হয়েছে। এর মধ্যে ইনিশিয়ালি যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সম্ভবত নয়জন তারা সিলেক্ট করেছিল, এর মধ্যে তারা সবাই বাদ পড়েছে বা জয়েন করেনি। বিএসআরএফ সাধারন সম্পাদক মাসউদুল হক বলেন, কয়েকজন সিমুলেটিং প্রশিক্ষণে বর্তমানে আছে। তারা সেখান থেকে আসার পর রিপোর্ট পর্যালোচনা ও তাদের পারফরমেন্স ট্রেনিংয়ের পর চাকরির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এটাই সবশেষ তথ্য আছে আমার কাছে। তিনি বলেন, প্রাথমিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দায়িত্বে থাকাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা প্রাথমিকভাবে তাদের সিলেক্ট করেছিল তাদের বিরুদ্ধেও আমরা ব্যবস্থা নেবো। বিমানে পাইলট নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তদন্ত দাবি করে গত ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ পাইলট অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে একটি চিঠি পাঠায়। চিঠিতে বলা হয়, পাইলট নিয়োগের ক্ষেত্রে বিমানের অপারেশনাল নির্দেশনা (ম্যানুয়াল), বাপার সঙ্গে বিমানের চুক্তি চরমভাবে লঙ্ঘন হয়েছে। বাপা এসব নিয়ে প্রশ্ন তুললেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। নতুন করে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া ওই ফ্লাইট কর্মকর্তারা নিয়মিত ফ্লাইট কর্মকর্তা হিসেবে ফ্লাই করতে পারবেন না, যতক্ষণ না তারা ৩০০ ঘণ্টা ফ্লাই করছেন। এসব ফ্লাইট কর্মকর্তাদের জন্য এখন বিমান বড় অঙ্কের টাকা খরচ করে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। একই সঙ্গে বিমানের নিয়োগ প্রক্রিয়ার দায়িত্বে থাকা প্রশিক্ষণ বিভাগের (সিওটি) প্রধানের স্ত্রী পাইলট হিসেবে নিয়োগ পেতে যে আবেদন করেছেন তাকে স্বার্থের দ্বন্দ্ব বলেও দাবি করা হয়েছে চিঠিতে। এসময় অন্যান্যের মধ্যে সংগঠনের সহ-সভাপতি মোতাহার হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক মেহ্দী আজাদ মাসুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আকতার হোসেন, অর্থ সম্পাদক মো. শফিউল্লাহ সুমন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. বাহরাম খান, কার্যনির্বাহী সদস্য ইসমাইল হোসাইন রাসেল, হাসিফ মাহমুদ শাহ, শাহাদাত হোসেন রাকিব উপস্থিত ছিলেন।
সর্বশেষঃ
টিকিট পাওয়া যায়নি কিন্তু ফ্লাইট খালি গেছে- এমন হলে কঠোর ব্যবস্থা: প্রতিমন্ত্রী
-
দৈনিক আইন বার্তা
- আপডেট সময়ঃ ০৮:১০:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২২
- ১৪১ বার পড়া হয়েছে
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ