০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫ | ই-পেপার

তিন দফা দাবিতে প্রাথমিক শিক্ষকদের মহাসমাবেশ চলছে, দাবি না মানলে কঠোর কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময়ঃ ০২:৫২:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
  • / ১৮ বার পড়া হয়েছে

সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতনসহ তিন দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মহাসমাবেশ চলছে। শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে এ মহাসমাবেশ শুরু হয়। এতে সারা দেশ থেকে আগত বিপুলসংখ্যক শিক্ষক অংশ নিয়েছেন।

শিক্ষকদের দাবিগুলো হলো: প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের ১১তম গ্রেডে বেতন-ভাতা প্রদান, শতভাগ শিক্ষকের পদোন্নতি নিশ্চিত করা, ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা নিরসন।

প্রাথমিক শিক্ষকদের ছয়টি পৃথক সংগঠনের গঠিত মোর্চা ‘সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’ এই মহাসমাবেশের আয়োজন করেছে। সমাবেশে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।

তিন দফা দাবির পক্ষে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করে আসছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। চলতি বছরের ৫ মে থেকে ১৫ মে পর্যন্ত সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন তারা। এরপর ১৭ মে থেকে দুই ঘণ্টা এবং ২১ মে থেকে ২৫ মে পর্যন্ত আধাবেলা কর্মবিরতি করেন শিক্ষকরা।

২৬ মে থেকে তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেন। টানা চার দিনের কর্মবিরতির পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টার আশ্বাসে ১ জুন থেকে ক্লাসে ফিরে যান তারা। তবে আশ্বাসের তিন মাস পার হলেও দাবি পূরণ না হওয়ায় আবারও রাজপথে নেমেছেন প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকরা।

অন্যদিকে, বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও পদোন্নতিসহ চার দফা দাবিতে গত ১৮ জুলাই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি’। সমাবেশ থেকে সরকারকে আলটিমেটাম দেওয়া হয়।

তাদের ঘোষণানুযায়ী, আগামী ১৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চার দফা দাবি পূরণ না হলে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে সারাদেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা টানা অনশন কর্মসূচি পালন করবেন।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ শিক্ষক কর্মরত। তাদের মধ্যে প্রধান শিক্ষকদের বেতন গ্রেড বর্তমানে দশম, এবং সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ১৩তম।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

তিন দফা দাবিতে প্রাথমিক শিক্ষকদের মহাসমাবেশ চলছে, দাবি না মানলে কঠোর কর্মসূচি

আপডেট সময়ঃ ০২:৫২:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫

সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতনসহ তিন দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মহাসমাবেশ চলছে। শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে এ মহাসমাবেশ শুরু হয়। এতে সারা দেশ থেকে আগত বিপুলসংখ্যক শিক্ষক অংশ নিয়েছেন।

শিক্ষকদের দাবিগুলো হলো: প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপ্রাপ্তদের ১১তম গ্রেডে বেতন-ভাতা প্রদান, শতভাগ শিক্ষকের পদোন্নতি নিশ্চিত করা, ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা নিরসন।

প্রাথমিক শিক্ষকদের ছয়টি পৃথক সংগঠনের গঠিত মোর্চা ‘সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’ এই মহাসমাবেশের আয়োজন করেছে। সমাবেশে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।

তিন দফা দাবির পক্ষে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করে আসছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। চলতি বছরের ৫ মে থেকে ১৫ মে পর্যন্ত সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন তারা। এরপর ১৭ মে থেকে দুই ঘণ্টা এবং ২১ মে থেকে ২৫ মে পর্যন্ত আধাবেলা কর্মবিরতি করেন শিক্ষকরা।

২৬ মে থেকে তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেন। টানা চার দিনের কর্মবিরতির পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টার আশ্বাসে ১ জুন থেকে ক্লাসে ফিরে যান তারা। তবে আশ্বাসের তিন মাস পার হলেও দাবি পূরণ না হওয়ায় আবারও রাজপথে নেমেছেন প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকরা।

অন্যদিকে, বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও পদোন্নতিসহ চার দফা দাবিতে গত ১৮ জুলাই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি’। সমাবেশ থেকে সরকারকে আলটিমেটাম দেওয়া হয়।

তাদের ঘোষণানুযায়ী, আগামী ১৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চার দফা দাবি পূরণ না হলে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে সারাদেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা টানা অনশন কর্মসূচি পালন করবেন।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ শিক্ষক কর্মরত। তাদের মধ্যে প্রধান শিক্ষকদের বেতন গ্রেড বর্তমানে দশম, এবং সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ১৩তম।