১০:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫ | ই-পেপার

দাবানলের মতো ছড়াচ্ছে অনলাইনে প্রতারিতের সংখ্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক :
আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও ডিজিটাল-প্রযুক্তি ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে। এই প্রযুক্তি কল্যাণের কারণে মানুষের জীবনযাত্রাতেও যোগ হচ্ছে নতুন নতুন মাত্রা। আর এই উন্নয়নের সুযোগে অনলাইনে প্রতারণার পরিমাণও দিনেদিনে বেড়েই চলেছে। প্রতিনিয়তই প্রতারিত হচ্ছে হাজারো মানুষ। দেশের মানুষের প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে সব কিছু খুইয়ে সর্বস্বান্ত হওয়ার হওয়ার ঘটনা নতুন কিছুই নয়। যুবক, ডেসটিনি কিংবা ইভ্যালির মতো ঘটনা সংবাদমাধ্যমের কল্যাণে আলোচিত হলেও সচেতনতার অভাবে বারবার প্রতারিত হওয়ার ঘটনা কমেনি। বর্তমানে ব্যক্তিগত বা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে অনলাইনে নিয়মিত আর্থিক লেনদেন করেন দেশের অধিকাংশ মানুষ। আর এই সুযোগে সাইবার অপরাধীরা ফিশিং ওয়েবসাইট, ভুয়া বিজ্ঞাপন প্রদর্শনসহ বিভিন্ন কৌশলে ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে প্রতিনিয়তই চুরি করছে বিভিন্ন মূল্যবান তথ্য। এমনকি দেখা যায় কখনো কখনো ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে পরে উক্ত ভুক্তভোগীকে ব্লাকমেইলের মাধ্যমে অর্থ দাবি করছে। অন্যদিকে দেখা যায় বর্তমানে দেশের প্রেক্ষাপটে ই-কমার্স ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এতে করে গ্রাহক যখন যা কিছু দরকার তখন তা খুব সহজেই অনলাইন থেকে কিনতে পারে। ফলে রোদ কিংবা ভিড়ের মধ্যে বাজারে গিয়ে কেনাকাটা করা থেকে অনলাইনে কেনাকাটা করাতেই অধিকাংশ মানুষ সাচ্ছন্দবোধ করে থাকে। কিন্তু যে হারে ই-কমার্স বেড়ে চলেছে, সে হারে বাড়ছে না নজরদারি। ফলে অনলাইনে শপিংয়ের সুযোগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে গ্রাহকদের প্রতারিত হওয়ার ঘটনাও। সাধারণত অনলাইনে সরাসরি পণ্য যাচাই-বাছাই করার সুযোগ না থাকায়, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ভোক্তার অর্ডারকৃত পণ্য পণ্য সরবরাহ না করে, ভুয়া পণ্য কিংবা মানহীন পণ্য সরবরাহসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে থাকে। ফলে অনেকেই অনলাইনে কেনাকাটা করতে গিয়ে বিভিন্ন ভাবে প্রতারিত হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এমন অনলাইন প্রতারণা থেকে বাঁচার জন্য প্রতিষ্ঠিত অনলাইন পেইজ না হলে অগ্রিম পেমেন্ট করা থেকে বিরত থাকতে হবে। পোশাকের ডিজাইন একই হলেও তার কাঁচামালে অনেক পার্থক্য থাকতে পারে পাশাপাশি কসমেটিক্স, ঘড়ি ইত্যাদি ভালো ব্রান্ডের জিনিসের নকল বাজারে ছড়াছড়ি তাই যেসব ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পেইজ ক্রেতার কাছ থেকে অগ্রিম টাকা আবদার করেন, সেখান থেকে পণ্য কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। সম্প্রতি সময়ে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হওয়ার সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। দেখা যাচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে প্রতারকরা প্রতারণা করে যাচ্ছে কিন্তু প্রতারকরা অন্য দেশে অবস্থান করে প্রতারণা করার ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তেমন কিছুই করতে পারছেনা। প্রথমে প্রতারকরা বিভিন্ন ব্যবহারকারীকে খুদে বার্তা পাঠিয়ে চাকরির প্রলোভন দিচ্ছে। পরবর্তীতে বার্তার উত্তর দিলে বিভিন্ন চটকদার অফার দিয়ে ফি হিসেবে অল্প পরিমাণ অর্থ চাওয়া হচ্ছে। ব্যবহারকারী প্রতারককে অর্থ প্রদান করলেই তারা ব্যবহারকারীকে ব্লক করে দিচ্ছে। পুলিশ বলছে, ‘এই ধরনের চক্রের সদস্যরা সাধারণত প্রথমে অল্প পরিমাণ অর্থ (১০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত) দিয়ে মানুষের মনে বিশ্বাস স্থাপন করে। পরে বড় অঙ্ক পাঠালে সুদসহ আরও বেশি টাকা ফেরত দেবে, এমন প্রলোভন দেখিয়ে তারা মূলত ওই অর্থটা হাতিয়ে নেয়’। ডিবি পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সাইফুর রহমান আজাদ বলেন, ‘আগে থেকে নিবন্ধন করা হয়েছে এমন সিম থেকেই টেক্সট পাঠায় এই প্রতারক চক্র’। এ বছরেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই হোয়াটসঅ্যাপ প্রতারণার সাথে জড়িত থাকার অপরাধে এক ডজনেরও বেশী প্রতারককে আইনের আওতায় নিয়েছে। এর মধ্যে গত বছর ২৫ নভেম্বর একদিনেই একজন চীনা নাগরিক সহ ঋণ কেলেঙ্কারিতে জড়িত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলভিত্তিক টেলিযোগাযোগ গবেষণা প্রতিষ্ঠান লার্ন এশিয়ার জ্যেষ্ঠ পলিসি ফেলো আবু সাঈদ খান বলেন, ‘এখানে যেটা ঘটছে সেটি সবচেয়ে পুরনো অপরাধগুলোর একটা, এটা হলো প্রতারণা। আগেও বিভিন্ন রকমের প্রতারণার ঘটনা ছিল, এখনো আছে। যে মানুষগুলো এর শিকার হয়েছেন, তারা মূলত লোভে পড়েই এই ফাঁদে পা দিয়েছেন। আপনাকে তো বুঝতে হবে যে এত সহজে আয় করা সম্ভব না। এত সহজে যে আপনাকে টাকা দেবে বলছে সে তো অবশ্যই সৎ নয়, সে কাজও সৎ নয়’। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের সহকারী কমিশনার (এডিসি) জুনায়েদ আলম সরকার বলেন, ‘এই ধরনের মেসেজ ফোনে, হোয়াটসঅ্যাপে আসে। অনেক সময় বিদেশি নম্বর থেকে আসে। আমরা এখন পর্যন্ত তদন্তে জেনেছি যে, মূলত চীন ও নাইজেরিয়ার কয়েকটি স্ক্যামার চক্র এর সঙ্গে জড়িত। কোনো ক্ষেত্রে হয়তো ভারতীয় কিছু নাগরিকও জড়িত। তারাই বাংলাদেশি লোকজনকে ব্যবহার করে এটা করে। এটা একটা সংঘবদ্ধ চক্র। তারা বিভিন্ন মাধ্যমে টাকাটা বিদেশে নেয়। এর একটি বড় মাধ্যম হলো ক্রিপ্টোকারেন্সি’। তিনি আরও বলেন, ‘চক্রগুলো সাধারণত প্রথমে অল্প পরিমাণ টাকা দিয়ে মানুষের মনে বিশ্বাস স্থাপন করে। পরে বড় অঙ্ক পাঠালে তারা সুদসহ আরও বেশি টাকা ফেরত দেবে, এমন প্রলোভন দেখিয়ে মূলত ওই অর্থটা হাতিয়ে নেয়। এরপর তারা নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। তাদের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করতে পারে না ভুক্তভোগীরা’। এমতাবস্থায় বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অনলাইনে চাকরি দেওয়ার এ প্রতারণা থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হচ্ছে নিজস্ব সচেতনতা। অনলাইনে বা ইনবক্সে লোভনীয় চাকরির অফার দেখলে সেটাকে আগে যাচাই-বাছাই করা খুবই জরুরি। অনলাইনে বা ইনবক্সে লোভনীয় চাকরির অফার দেখলে সেটাকে আগে যাচাই-বাছাই করা খুবই জরুরি। তাহলে প্রতারণার সংখ্যা অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পেঁয়াজ উৎপাদন নিয়ে কৃষকের লোকসানের শঙ্কা বাড়ছে

দাবানলের মতো ছড়াচ্ছে অনলাইনে প্রতারিতের সংখ্যা

আপডেট সময়ঃ ০৯:০১:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক :
আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও ডিজিটাল-প্রযুক্তি ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে। এই প্রযুক্তি কল্যাণের কারণে মানুষের জীবনযাত্রাতেও যোগ হচ্ছে নতুন নতুন মাত্রা। আর এই উন্নয়নের সুযোগে অনলাইনে প্রতারণার পরিমাণও দিনেদিনে বেড়েই চলেছে। প্রতিনিয়তই প্রতারিত হচ্ছে হাজারো মানুষ। দেশের মানুষের প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে সব কিছু খুইয়ে সর্বস্বান্ত হওয়ার হওয়ার ঘটনা নতুন কিছুই নয়। যুবক, ডেসটিনি কিংবা ইভ্যালির মতো ঘটনা সংবাদমাধ্যমের কল্যাণে আলোচিত হলেও সচেতনতার অভাবে বারবার প্রতারিত হওয়ার ঘটনা কমেনি। বর্তমানে ব্যক্তিগত বা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে অনলাইনে নিয়মিত আর্থিক লেনদেন করেন দেশের অধিকাংশ মানুষ। আর এই সুযোগে সাইবার অপরাধীরা ফিশিং ওয়েবসাইট, ভুয়া বিজ্ঞাপন প্রদর্শনসহ বিভিন্ন কৌশলে ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে প্রতিনিয়তই চুরি করছে বিভিন্ন মূল্যবান তথ্য। এমনকি দেখা যায় কখনো কখনো ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে পরে উক্ত ভুক্তভোগীকে ব্লাকমেইলের মাধ্যমে অর্থ দাবি করছে। অন্যদিকে দেখা যায় বর্তমানে দেশের প্রেক্ষাপটে ই-কমার্স ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এতে করে গ্রাহক যখন যা কিছু দরকার তখন তা খুব সহজেই অনলাইন থেকে কিনতে পারে। ফলে রোদ কিংবা ভিড়ের মধ্যে বাজারে গিয়ে কেনাকাটা করা থেকে অনলাইনে কেনাকাটা করাতেই অধিকাংশ মানুষ সাচ্ছন্দবোধ করে থাকে। কিন্তু যে হারে ই-কমার্স বেড়ে চলেছে, সে হারে বাড়ছে না নজরদারি। ফলে অনলাইনে শপিংয়ের সুযোগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে গ্রাহকদের প্রতারিত হওয়ার ঘটনাও। সাধারণত অনলাইনে সরাসরি পণ্য যাচাই-বাছাই করার সুযোগ না থাকায়, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ভোক্তার অর্ডারকৃত পণ্য পণ্য সরবরাহ না করে, ভুয়া পণ্য কিংবা মানহীন পণ্য সরবরাহসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে থাকে। ফলে অনেকেই অনলাইনে কেনাকাটা করতে গিয়ে বিভিন্ন ভাবে প্রতারিত হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এমন অনলাইন প্রতারণা থেকে বাঁচার জন্য প্রতিষ্ঠিত অনলাইন পেইজ না হলে অগ্রিম পেমেন্ট করা থেকে বিরত থাকতে হবে। পোশাকের ডিজাইন একই হলেও তার কাঁচামালে অনেক পার্থক্য থাকতে পারে পাশাপাশি কসমেটিক্স, ঘড়ি ইত্যাদি ভালো ব্রান্ডের জিনিসের নকল বাজারে ছড়াছড়ি তাই যেসব ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পেইজ ক্রেতার কাছ থেকে অগ্রিম টাকা আবদার করেন, সেখান থেকে পণ্য কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। সম্প্রতি সময়ে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হওয়ার সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। দেখা যাচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে প্রতারকরা প্রতারণা করে যাচ্ছে কিন্তু প্রতারকরা অন্য দেশে অবস্থান করে প্রতারণা করার ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তেমন কিছুই করতে পারছেনা। প্রথমে প্রতারকরা বিভিন্ন ব্যবহারকারীকে খুদে বার্তা পাঠিয়ে চাকরির প্রলোভন দিচ্ছে। পরবর্তীতে বার্তার উত্তর দিলে বিভিন্ন চটকদার অফার দিয়ে ফি হিসেবে অল্প পরিমাণ অর্থ চাওয়া হচ্ছে। ব্যবহারকারী প্রতারককে অর্থ প্রদান করলেই তারা ব্যবহারকারীকে ব্লক করে দিচ্ছে। পুলিশ বলছে, ‘এই ধরনের চক্রের সদস্যরা সাধারণত প্রথমে অল্প পরিমাণ অর্থ (১০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত) দিয়ে মানুষের মনে বিশ্বাস স্থাপন করে। পরে বড় অঙ্ক পাঠালে সুদসহ আরও বেশি টাকা ফেরত দেবে, এমন প্রলোভন দেখিয়ে তারা মূলত ওই অর্থটা হাতিয়ে নেয়’। ডিবি পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সাইফুর রহমান আজাদ বলেন, ‘আগে থেকে নিবন্ধন করা হয়েছে এমন সিম থেকেই টেক্সট পাঠায় এই প্রতারক চক্র’। এ বছরেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই হোয়াটসঅ্যাপ প্রতারণার সাথে জড়িত থাকার অপরাধে এক ডজনেরও বেশী প্রতারককে আইনের আওতায় নিয়েছে। এর মধ্যে গত বছর ২৫ নভেম্বর একদিনেই একজন চীনা নাগরিক সহ ঋণ কেলেঙ্কারিতে জড়িত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলভিত্তিক টেলিযোগাযোগ গবেষণা প্রতিষ্ঠান লার্ন এশিয়ার জ্যেষ্ঠ পলিসি ফেলো আবু সাঈদ খান বলেন, ‘এখানে যেটা ঘটছে সেটি সবচেয়ে পুরনো অপরাধগুলোর একটা, এটা হলো প্রতারণা। আগেও বিভিন্ন রকমের প্রতারণার ঘটনা ছিল, এখনো আছে। যে মানুষগুলো এর শিকার হয়েছেন, তারা মূলত লোভে পড়েই এই ফাঁদে পা দিয়েছেন। আপনাকে তো বুঝতে হবে যে এত সহজে আয় করা সম্ভব না। এত সহজে যে আপনাকে টাকা দেবে বলছে সে তো অবশ্যই সৎ নয়, সে কাজও সৎ নয়’। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের সহকারী কমিশনার (এডিসি) জুনায়েদ আলম সরকার বলেন, ‘এই ধরনের মেসেজ ফোনে, হোয়াটসঅ্যাপে আসে। অনেক সময় বিদেশি নম্বর থেকে আসে। আমরা এখন পর্যন্ত তদন্তে জেনেছি যে, মূলত চীন ও নাইজেরিয়ার কয়েকটি স্ক্যামার চক্র এর সঙ্গে জড়িত। কোনো ক্ষেত্রে হয়তো ভারতীয় কিছু নাগরিকও জড়িত। তারাই বাংলাদেশি লোকজনকে ব্যবহার করে এটা করে। এটা একটা সংঘবদ্ধ চক্র। তারা বিভিন্ন মাধ্যমে টাকাটা বিদেশে নেয়। এর একটি বড় মাধ্যম হলো ক্রিপ্টোকারেন্সি’। তিনি আরও বলেন, ‘চক্রগুলো সাধারণত প্রথমে অল্প পরিমাণ টাকা দিয়ে মানুষের মনে বিশ্বাস স্থাপন করে। পরে বড় অঙ্ক পাঠালে তারা সুদসহ আরও বেশি টাকা ফেরত দেবে, এমন প্রলোভন দেখিয়ে মূলত ওই অর্থটা হাতিয়ে নেয়। এরপর তারা নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। তাদের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করতে পারে না ভুক্তভোগীরা’। এমতাবস্থায় বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অনলাইনে চাকরি দেওয়ার এ প্রতারণা থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হচ্ছে নিজস্ব সচেতনতা। অনলাইনে বা ইনবক্সে লোভনীয় চাকরির অফার দেখলে সেটাকে আগে যাচাই-বাছাই করা খুবই জরুরি। অনলাইনে বা ইনবক্সে লোভনীয় চাকরির অফার দেখলে সেটাকে আগে যাচাই-বাছাই করা খুবই জরুরি। তাহলে প্রতারণার সংখ্যা অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।