দুই বছর উধাও, তবু চাকরিতে ! চসিকের প্রকৌশলী আবু সাদাত মোহাম্মদ তৈয়ব “

- আপডেট সময়ঃ ০৭:৫৬:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫
- / ২১ বার পড়া হয়েছে
আবদুল মতিন চৌধুরী রিপন বিশেষ প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকারি প্রতিষ্ঠান। নগরবাসীর সেবার মান উন্নয়নে এই প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশল বিভাগের ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এক নির্বাহী প্রকৌশলীর দীর্ঘ অনুপস্থিতি প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তিনি হলেন প্রকৌশলী আবু সাদাত মোহাম্মদ তৈয়ব, যিনি প্রায় ২৩ মাস কর্মস্থলে ছুটি ছাড়াই অনুপস্থিত ছিলেন। সূত্র জানায়, তৈয়ব ২০২১ সালে শিক্ষা ছুটি নিয়ে আমেরিকায় গিয়েছিলেন। ছুটি শেষ হওয়ার পরও তিনি আর কর্মস্থলে যোগ দেননি। প্রায় দুই বছর অনুপস্থিত থাকার পর মন্ত্রণালয়কে অবহিত না করে চাকরিতে যোগদানের জন্য চসিকের মেয়র বরাবরে আবেদন করেছেন। সেই আবেদন গ্রহণ করে ২৩ মাসের অসাধারণ ছুটি মঞ্জুর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছে ছুটি ছাড়া দীর্ঘদিন অনুপস্থিতির পর মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া যোগদানের কোন নিয়ম নেই। কিন্তু নিয়ম নীতির তোয়ক্কা না করে তাঁর যোগদানপত্র গৃহিত হয়েছে মর্মে চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। ২৮ আগষ্ট (বৃহস্পতিবার) চসিকের সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়েছে যে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকেশৈলী (সিভিল) আবু সাদাত মোহাম্মদ তৈয়ব এর ১৯/৮/২০২৫ তারিখের আবেদনের প্রেক্ষিতে মেয়র কর্তৃক তাঁর দাখিলকৃত উচ্চ শিক্ষা শেষে যোগদানপত্রটি গৃহিত হয়েছে। একই চিঠিতে বলা হয়েছে ২৬/৮/২০২৩ থেকে ১৮/৮/২০২৫ পর্যন্ত তাকে বিনা বেতনে অসাধারণ ছুটি মঞ্জুর করা হয়েছে। এ আদেশ যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে কর্পোরেশনের কাজের স্বার্থে জারি করা হয়েছে বলে জানান। অপর একটি সূত্র জানায়, চাকরি বিধিমাল কে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে ছুটি ছাড়াই ২৩ মাস বিদেশে কাটিয়ে দিয়েছে এই প্রকৌশলী তৈয়ব। যা সম্পুর্ণ অন্যায়। এই অপরাধের জন্য আরো আগেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ ছিল কর্পোরেশনের কিন্তু রহস্যজন কারণে তা করা হয়নি। বরং আবেদনের ১০ দিনের মাথায় মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই তা অনুমোদন করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ২(চ) ধারায় বলা হয়েছে বিনা অনুমতিতে চাকুরী ত্যাগ অথবা ৬০ (ষাট) দিন বা তদুর্ধ্ব সময় বিনা অনুমতিতে কর্ম হতে অনুপস্থিত থাকলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ধরণের অপরাধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হিসেবে কারন দশানোর নোটিশ বা বিভাগীয় মামলা করার বিধান রয়েছে। কিন্তু প্রকৌশলী তৈয়বের ক্ষেত্রে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এমনকি যোগদানের বিষয়ে মন্ত্রণালয়কেও জানানো হয়নি বলে বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে। এব্যপারে জানতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইিও) শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিনের মোবাইলে কল দিলেও তাঁরা রিসিভ না করায় কথা বলা সম্ভব হয়নি। চসিকের একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, অনুমতি ব্যতিত দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে তা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার বিধান রয়েছে। আবার কাজে যোগদান করার আগে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নেয়ার বাধ্যবাদকতা রয়েছে। কিন্তু আবু তৈয়বের ক্ষেত্রে তার কোনটিই মানা হয়নি। চসিকের কতিপয় দায়িত্বশীল কর্মকর্তার অনৈতিক সুবিধার ফলে আইনের তোয়াক্কা না করে অনৈতিকভাবে তাকে কাজে যোগদানের অনুমতি দেয়া হয়েছে। সূূূত্র জানায় প্রকৌশলী তৈয়ব বিগত ২০২১ সালে মন্ত্রণালয় অনুমোদন নিয়ে একবার শিক্ষা ছুটির জন্য আমেরিকায় যায়। পরে ১ বছর পর ফিরে আসে। সেসময় মন্ত্রণালয়ের কাছে তথ্য গোপন করে যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও আড়াই হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের পিডি পদ ভাগিয়ে নেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে তার প্রকল্প পরিচালক পদ বাতিল হয়। প্রকল্প পরিচালক বাতিল হওয়ার পর তিনি পুনরায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। ২০২৩ সালের ২৬ আগষ্ট তার শিক্ষা ছুটি শেষ হলেও দেশে ফিরে আসেরি বা কর্মস্থলে যোগ দেয়নি। এমনকি তার ছুটি বৃদ্ধিও জন্য কোন আবেদনও করেনি। শিক্ষা ছুটি শেষ হওয়ার পর যদি ফিরে না আসে তাহলে বিভাগীয় মামলা দায়ের বিধান থাকলেও তার ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। তার অসাধারণ ছুটি মঞ্জুর করার ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার বিভাগের মতামত গ্রহণ বাধ্যতামূলক হলেও তা মানা হয়নি। প্রকল্প পরিচালক থাকা অবস্থায় আকবর শাহ এলাকায় রাস্তা নির্মাণের সময় পাহাড় কর্তনে শ্রমিক নিহত হওয়ায় আকবরশা থানায় তার বিরুদ্ধে এখনো মামলা রয়েছে। এব্যপারে জানতে প্রকৌশলী আবু সাদাত মোহাম্মদ তৈয়বের মোবাইলে একাধিকবার কল ও বার্তা দিয়েও কথা বলা সম্ভব হয়নি।