নিজস্ব প্রতিবেদক :
মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে হল মার্কের বিরুদ্ধে সাত বছর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা এক মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার (এস কে) সুরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট পার্থ ভদ্র তদন্ত সংস্থা সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার দেখান। আজ সোমবার সকালে সিতাংশু কুমার সুরকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের পরিদর্শক ছায়েদুর রহমান মামলার সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। সুরের পক্ষে কোনও আইনজীবী ছিলেন না। আদালত সিতাংশু কুমার সুরের বক্তব্য শুনতে চাইলে, তিনি আদালতের কাছে তাকে কোন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে সে সম্পর্কে জানতে চান। এ সময় মামলার বিষয়ে কিছু জানেন না বলে আদালতে উল্লেখ করেন তিনি। এরপর আদালত তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। দুদকের মামলায় ১৪ জানুয়ারি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গোয়েন্দা পুলিশ এস কে সুরকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের বলা হয়, মামলা তদন্তকালে দেখা গেছে, ২০১০ সালের ২৬ জুন থেকে ২০১২ সালের ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময় এজাহারনামীয় আসামি তুষার আহমেদ, মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিন ও সুমন ভূঁইয়া— পরস্পর যোগসাজশে অপরাধলব্ধ ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার অবৈধ উৎস গোপন করার লক্ষ্যে সন্দেহজনক লেনদেনের মাধ্যমে হস্তান্তর ও স্থানান্তর করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, তুষার আহমেদ ও আসলাম উদ্দিন উভয়েই হল-মার্ক গ্রুপের কর্মচারী ছিলেন। তুষারের বক্তব্য অনুসারে তিনি হল-মার্ক গ্রুপের জিএম (কমার্শিয়াল) হিসেবে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা বেতন পেতেন। আসলাম তার আগে থেকেই হল মার্ক গ্রুপে চাকরি করেন। অনুসন্ধানকালে গৃহীত তুষারের বক্তব্য অনুসারে, তিনি ২০১১ সালে জিএম হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পর হল-মার্ক গ্রুপ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা মাসিক বেতন পেয়েছেন অল্প কিছুদিন। তার আগে তাদের বেতন ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়। হল-মার্ক গ্রুপে চাকরীকালীন সময়ে ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তুষার ও আসলাম যৌথ নামে ঢাকা ব্যাংক, আসলামের একক নামে ঢাকা ব্যাংক ও তুষারের একক নামে ঢাকা ব্যাংকের প্লাটিনাম একউন্টে হিসাব পরিচালিত হয়। এ অবস্থায় তুষার, আসলাম ও সুমন ভূঁইয়া অপরাধলব্ধ ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা সন্দেহজনক লেনদেনের মাধ্যমে হস্তান্তর ও স্থানান্তরপূর্বক লেয়ারিং করে অবৈধ উৎস গোপন করে। এ অপরাধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। হলমার্কের এই ঋণ কেলেংকারির সময় সিতাংশু কুমার সুর বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
লকারে মিলেছে ৫ কোটি টাকার সম্পদ: এদিকে গত রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে এস কে সুরের লকারে অভিযান চালিয়ে এক কেজি স্বর্ণ, ১ লাখ ৬৯ হাজার ৩০০ ডলার, ৫৫ হাজার ইউরো ও ৭০ লাখ টাকার এফডিআর পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের পরিচালক কাজী সায়েমুজ্জমান জানিয়েছেন সব মিলিয়ে সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরীর লকার থেকে ৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকার সম্পদ পাওয়া গেছে। টানা ১০ ঘণ্টার অভিযান শেষে তিনি এই তথ্য জানান। কাজী সায়েমুজ্জমান বলেন, এস কে সুরের জ্ঞাত আয়বর্হিভূত সম্পদের তথ্য থাকায় তার সম্পদের হিসাব দেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি হিসাব জমা দেননি। এজন্য আমরা তার সম্পদ অনুসন্ধানের জন্য তার বাসায় অভিযান চালাই। অভিযানে তথ্য পাওয়া যায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লকারে তার মালামাল রয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে আদালতের অনুমোদনক্রমে গত রোববার ১১টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের লকারে তল্লাশি করেছি। সারা দিন তল্লাশি শেষে এক কেজি ৫ গ্রাম স্বর্ণ, ১ লাখ ৬৯ হাজার ৩০০ ডলার, ৫৫ হাজার ইউরো ও ৭০ লাখ টাকার এফডিআর পেয়েছি। যেসব এফডিআর পাওয়া গেছে তা তার নামে নয়। যেসব অ্যাকাউন্টে আছে তা আমরা যাচাই করবো। তিনি বলেন, যে সম্পদ পাওয়া গেছে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জিম্মায় রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. আমজাদ হোসাইন খান বলেন, আদালতের নির্দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্রিয়া মেনে লকারে অভিযান পরিচালনা করেছে দুদক। যেসব সম্পদ পাওয়া গেছে, তা বাংলাদেশ ব্যাংকের জিম্মায় রয়েছে। এর আগে গত রোববার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে এস কে সুরের লকার খুলতে দুদকের সাত সদস্যের একটি টিম আসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে। দুদকের পরিচালক কাজী সায়েমুজ্জামানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় উপস্থিতি ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেড সৈয়দা সালেহা নুর। উল্লেখ্য, এর গত ১৯ জানুয়ারি অভিযান চালিয়ে রাজধানীর ধানমন্ডিতে এস কে সুরের বাসা থেকে ১৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা জব্দের সময় তার নামে বাংলাদেশ ব্যাংকে ভল্ট থাকার তথ্য পায় দুদক। পরে সংস্থাটি জানতে পারে, সেটি ভল্ট নয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল্যবান সামগ্রী রাখার লকার (সেফ ডিপোজিট)।
সর্বশেষঃ
দুদককের আরেক মামলায় এস কে সুরকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত
-
দৈনিক আইন বার্তা
- আপডেট সময়ঃ ০৯:০০:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৫
- ৪৯ বার পড়া হয়েছে
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ