০৩:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ | ই-পেপার

দেশ-জাতিকে সুন্দর অবস্থায় রেখে সেনানিবাসে ফিরে আসতে চাই: সেনাপ্রধান

  • দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০৭:৪৪:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • ৫৭ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :
দেশবাসীকে সতর্ক করে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, আপনারা যদি নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ করতে না পারেন, নিজেরা নিজেরা যদি কাদা ছোড়াছুড়ি করেন, মারামারি-কাটাকাটি করেন, এই দেশ এবং জাতির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে। আমি আজ বলে দিলাম, নাহলে পরে বলবেন যে— সতর্ক করিনি। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর রাওয়া ক্লাবে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবসের’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। নিজের ‘অন্য কোনও আকাঙ্ক্ষা’ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার একটাই আকাঙ্ক্ষা- দেশ এবং জাতিকে একটা সুন্দর জায়গায় রেখে ছুটিতে যাওয়া। গত সাত-আট মাস ধরে আমার যথেষ্ট হয়েছে। আমি চাই, দেশ এবং জাতিকে একটা সুন্দর জায়গায় রেখে আমরা সেনানিবাসে ফিরে আসবো। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপের কারণ ব্যাখ্যা করে সেনাপ্রধান বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপের কয়েকটা কারণ আছে। প্রথম কারণ হচ্ছে, আমরা নিজেদের মধ্যে হানাহানিতে ব্যস্ত, একজন আরেকজনের বিরুদ্দে বিষোদগাড়ে ব্যস্ত। এটা একটা সুযোগ অপরাধীদের জন্য। যেহেতু আমরা একটা অরাজক পরিস্থিতির মধ্যে বিরাজ করছি। তারা (অপরাধীরা) খুব ভালোভাবেই জানে, যদি এসব অপরাধ করলে এখান থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। সংগঠিত ও একত্রিত হলে অবশ্যই সম্মিলিতভাবে এটা মোকাবিলা করা সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন সেনাপ্রধান। সেনাপ্রধান বলেন, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, ডিজিএফআই, এনএসআই; এই সংস্থাগুলো দেশের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছে অতীতে। খারাপ কাজের সঙ্গে অসংখ্য ভালো কাজও করেছে। আজ দেশের যে স্থিতিশীলতা, দেশটাকে যে এত বছর ধরে স্থিতিশীল রাখা হয়েছে, এর পেছনে এই সশস্ত্রবাহিনীর অনেক সদস্য, সিভিলিয়ান সবাই মিলে এই সংস্থাগুলোকে কার্যকর রেখেছে। সেজন্য আমরা এতদিন ধরে একটা সুন্দর পরিবেশ পেয়েছি। এরমধ্যে যারা কাজ করেছে, কেউ যদি অপরাধ করে থাকে; তাহলে তার শাস্তি হবে। অবশ্যই তার শাস্তি হতে হবে, না হলে এটা আবার ঘটবে। আমরা এটা বন্ধ করতে চাই চিরতরে। কিন্তু তার আগে মনে রাখতে হবে, আমরা এমনভাবে কাজ করবো— যেন এই সংস্থাগুলো আন্ডারমাইন্ড না হয়। এসময় উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন বলেন, আজ পুলিশ সদস্যরা কাজ করছেন না, এর ব্ড় একটা কারণ হচ্ছে— অনেকের বিরুদ্ধে মামলা, অনেকে জেলে; র‌্যাব, বিজিবি, ডিজিএফআই, এনএসআই প্যানিকড (আতঙ্কিত)। বিভিন্ন দোষারোপ, গুম-খুন ইত্যাদির তদন্ত চলছে। অবশ্যই তদন্ত হবে, দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। কিন্তু এমনভাবে কাজটা করতে হবে, যেন সংস্থাগুলো আন্ডারমাইন্ড না হয়। এই সংস্থাগুলো আন্ডারমাইন্ড করে যদি আপনারা মনে করেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিরাজ করবে, সবাই শান্তিতে থাকবেন; এটা হবে না। সেটা সম্ভব না, আমি আপনাদের পরিষ্কার করে বলে দিচ্ছি। এসময় অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের মেয়াদ নিয়েও কথা বলেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, আমি আগেই বলেছি, ১৮ মাসের মধ্যে (নির্বাচন) করতে… সরকার হয়তো সেই দিকেই যাচ্ছে। এসময় বিডিআর বিদ্রোহের অপরাধের সঙ্গে যারা যুক্ত, তাদের কোনও ছাড় দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, বিডিআর বিদ্রোহের বিচারের প্রক্রিয়া নষ্ট করা যাবে না। এই বিদ্রোহের সঙ্গে সত্যি যারা যুক্ত, সেই তথ্য বের করতে স্বাধীন কমিশন কাজ করছে। অনুষ্ঠানে রাওয়া ক্লাবের প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) আব্দুল হকের সভাপতিত্বে ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরাও বক্তব্য দেন। প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর বিদ্রোহে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন প্রাণ হারান। এবারই প্রথম দিবসটিকে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে।

ট্যাগস :

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আপিল বিভাগের নতুন দুই বিচারপতির সাক্ষাৎ

দেশ-জাতিকে সুন্দর অবস্থায় রেখে সেনানিবাসে ফিরে আসতে চাই: সেনাপ্রধান

আপডেট সময়ঃ ০৭:৪৪:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক :
দেশবাসীকে সতর্ক করে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, আপনারা যদি নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ করতে না পারেন, নিজেরা নিজেরা যদি কাদা ছোড়াছুড়ি করেন, মারামারি-কাটাকাটি করেন, এই দেশ এবং জাতির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে। আমি আজ বলে দিলাম, নাহলে পরে বলবেন যে— সতর্ক করিনি। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর রাওয়া ক্লাবে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবসের’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। নিজের ‘অন্য কোনও আকাঙ্ক্ষা’ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার একটাই আকাঙ্ক্ষা- দেশ এবং জাতিকে একটা সুন্দর জায়গায় রেখে ছুটিতে যাওয়া। গত সাত-আট মাস ধরে আমার যথেষ্ট হয়েছে। আমি চাই, দেশ এবং জাতিকে একটা সুন্দর জায়গায় রেখে আমরা সেনানিবাসে ফিরে আসবো। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপের কারণ ব্যাখ্যা করে সেনাপ্রধান বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপের কয়েকটা কারণ আছে। প্রথম কারণ হচ্ছে, আমরা নিজেদের মধ্যে হানাহানিতে ব্যস্ত, একজন আরেকজনের বিরুদ্দে বিষোদগাড়ে ব্যস্ত। এটা একটা সুযোগ অপরাধীদের জন্য। যেহেতু আমরা একটা অরাজক পরিস্থিতির মধ্যে বিরাজ করছি। তারা (অপরাধীরা) খুব ভালোভাবেই জানে, যদি এসব অপরাধ করলে এখান থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। সংগঠিত ও একত্রিত হলে অবশ্যই সম্মিলিতভাবে এটা মোকাবিলা করা সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন সেনাপ্রধান। সেনাপ্রধান বলেন, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, ডিজিএফআই, এনএসআই; এই সংস্থাগুলো দেশের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছে অতীতে। খারাপ কাজের সঙ্গে অসংখ্য ভালো কাজও করেছে। আজ দেশের যে স্থিতিশীলতা, দেশটাকে যে এত বছর ধরে স্থিতিশীল রাখা হয়েছে, এর পেছনে এই সশস্ত্রবাহিনীর অনেক সদস্য, সিভিলিয়ান সবাই মিলে এই সংস্থাগুলোকে কার্যকর রেখেছে। সেজন্য আমরা এতদিন ধরে একটা সুন্দর পরিবেশ পেয়েছি। এরমধ্যে যারা কাজ করেছে, কেউ যদি অপরাধ করে থাকে; তাহলে তার শাস্তি হবে। অবশ্যই তার শাস্তি হতে হবে, না হলে এটা আবার ঘটবে। আমরা এটা বন্ধ করতে চাই চিরতরে। কিন্তু তার আগে মনে রাখতে হবে, আমরা এমনভাবে কাজ করবো— যেন এই সংস্থাগুলো আন্ডারমাইন্ড না হয়। এসময় উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন বলেন, আজ পুলিশ সদস্যরা কাজ করছেন না, এর ব্ড় একটা কারণ হচ্ছে— অনেকের বিরুদ্ধে মামলা, অনেকে জেলে; র‌্যাব, বিজিবি, ডিজিএফআই, এনএসআই প্যানিকড (আতঙ্কিত)। বিভিন্ন দোষারোপ, গুম-খুন ইত্যাদির তদন্ত চলছে। অবশ্যই তদন্ত হবে, দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। কিন্তু এমনভাবে কাজটা করতে হবে, যেন সংস্থাগুলো আন্ডারমাইন্ড না হয়। এই সংস্থাগুলো আন্ডারমাইন্ড করে যদি আপনারা মনে করেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিরাজ করবে, সবাই শান্তিতে থাকবেন; এটা হবে না। সেটা সম্ভব না, আমি আপনাদের পরিষ্কার করে বলে দিচ্ছি। এসময় অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের মেয়াদ নিয়েও কথা বলেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, আমি আগেই বলেছি, ১৮ মাসের মধ্যে (নির্বাচন) করতে… সরকার হয়তো সেই দিকেই যাচ্ছে। এসময় বিডিআর বিদ্রোহের অপরাধের সঙ্গে যারা যুক্ত, তাদের কোনও ছাড় দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, বিডিআর বিদ্রোহের বিচারের প্রক্রিয়া নষ্ট করা যাবে না। এই বিদ্রোহের সঙ্গে সত্যি যারা যুক্ত, সেই তথ্য বের করতে স্বাধীন কমিশন কাজ করছে। অনুষ্ঠানে রাওয়া ক্লাবের প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) আব্দুল হকের সভাপতিত্বে ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরাও বক্তব্য দেন। প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর বিদ্রোহে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন প্রাণ হারান। এবারই প্রথম দিবসটিকে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে।