১২:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৫ | ই-পেপার

নারী বেকারত্বের হার কমেছে, বাড়ছে পুরুষের

নিজস্ব প্রতিবেদক :
দেশে বেকার পুরুষের সংখ্যা বাড়লেও বেকার নারীর সংখ্যা কমেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) বেকার পুরুষের সংখ্যা ছিল ১৭.৪০ লাখ। ২০২৩ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ১৭.১০ লাখ। এদিকে, ২০২৪ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে (জানুয়ারি-মার্চ) বেকার নারীর সংখ্যা ছিল ৮.৫০ লাখ। ২০২৩ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৮.৮০ লাখ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যদিও বাংলাদেশের বেশিরভাগ পরিবার ঐতিহ্যগতভাবে পুরুষ প্রধান, তবুও বিগত কয়েক বছর ধরে নারীদের নেতৃত্বে পরিবারের সংখ্যা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। “বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস ২০২৩” শিরোনামের বিবিএস জরিপের ভিত্তিতে এটি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ২০২২ সালের হিসাব অনুযায়ী দেশে ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ পরিবারের প্রধান হচ্ছেন নারীরা। ২০২১ সালের হিসাবে এটি ছিল ১৬ শতাংশ, ২০২০ সালের প্রতিবেদনে ১৫ শতাংশ, ২০১৯ সালে ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০১৮ সালে ছিল ১৪ দশমিক ২ শতাংশ। এভাবে প্রতিবছরই নারী প্রধান পরিবার বেড়েছে। তথ্য বলছে, যারা লেখাপড়া জানে না তারা যে কোনো কাজে যুক্ত হয়ে পড়ে। শিক্ষিত বেকাররা মনমতো কাজ না পাওয়া পর্যন্ত নিজেদের বেকার দেখায়। দেখা যায় এরা অনলাইনে ব্যবসা করছে, কোচিংয়ে পড়ায়, কিংবা বন্ধুরা মিলে বার্গারের দোকান দিয়েছে। যেহেতু পছন্দমতো কাজ পায়নি তাই নিজেদের বেকার বলে পরিচয় দেয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী অরণী ঢাকার অভিজাত একটি বিপণী বিতানে মোবাইল সেটের বিক্রয়-কর্মী হিসেবে কাজ করেন। তিনি জানান, বাবা মারা যাওয়ায় তার রোজগারেই নিজের লেখাপড়া এবং ময়মনসিংহে তার পরিবারের খরচ চলছে। এরকম আরও অসংখ্য নারী বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। কৃষিকাজ বা বেতনহীন পারিবারিক শ্রম দান থেকে নারীরা বেরিয়ে এসেছে। তার বদলে চাকরী, বিক্রয়-কাজ, ব্যবসা ইত্যাদিতে যুক্ত হয়েছে তারা। অন্যদিকে নতুন কাজে গত ২০ বছর ধরেই ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে যে পুরুষরা পিছিয়ে পড়েছে। কিন্তু এগিয়ে গেছেন নারীরা”। অর্থনীতিতে নারীদের ক্রমবর্ধমান অবদানের কথা উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা নারী বেকারত্বের হ্রাসকে ইতিবাচক খবর হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা নারীর দক্ষতার গুরুত্ব এবং পরিবারের প্রধান হিসেবে তাদের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার ওপর জোর দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা ক্রমবর্ধমান পুরুষ বেকারত্বের হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, উল্লেখ করেছেন যে অনেক পুরুষ গুরুত্বপূর্ণ পারিবারিক দায়িত্ব বহন করে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ডাঃ ফাহমিদা খাতুন বলেন, নারীদের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অবদানের পরিপ্রেক্ষিতে নারী বেকারত্ব হ্রাস উৎসাহজনক। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নারীর দক্ষতার উচ্চ চাহিদা রয়েছে এবং অধীক সংখ্যক নারী পরিবারের মধ্যে নেতৃত্বের ভূমিকা গ্রহণ করছে। নারীদের অবদান সর্বাধিক করার জন্য, আমাদের আনুষ্ঠানিক সেক্টরে তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে এবং সুযোগগুলিতে তাদের যোগদান বাড়াতে হবে। সব ধরনের বেকারত্ব মোকাবেলায় সরকারকে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে, তিনি যোগ করেছেন। ২০২৪ সালে, মোট বেকার ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়ায় ২৫.৯০ লাখ। ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশনের (আইএলও) মাপকাঠি অনুযায়ী, যারা সক্রিয়ভাবে অন্তত এক মাসের জন্য কাজ খুঁজছেন এবং গত সাত দিনে অন্তত এক ঘণ্টার জন্য কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে অক্ষম তারা বেকারত্বকে সংজ্ঞায়িত করে। বিবিএসের শ্রম সমীক্ষা বলছে ৪.৮২ কোটি মানুষ সম্পূর্ণরূপে কর্মশক্তির বাইরে। ব্যক্তিদের মধ্যে ছাত্র, দুর্বল, বয়স্ক এবং অন্যান্য অ-কর্মরত জনসংখ্যা অন্তর্ভুক্ত।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ভাগাড়সহ কোনো স্থানেই ময়লা পোড়ানো যাবে না: পরিবেশ উপদেষ্টা

নারী বেকারত্বের হার কমেছে, বাড়ছে পুরুষের

আপডেট সময়ঃ ০৭:৪২:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ মে ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক :
দেশে বেকার পুরুষের সংখ্যা বাড়লেও বেকার নারীর সংখ্যা কমেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) বেকার পুরুষের সংখ্যা ছিল ১৭.৪০ লাখ। ২০২৩ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ১৭.১০ লাখ। এদিকে, ২০২৪ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে (জানুয়ারি-মার্চ) বেকার নারীর সংখ্যা ছিল ৮.৫০ লাখ। ২০২৩ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৮.৮০ লাখ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যদিও বাংলাদেশের বেশিরভাগ পরিবার ঐতিহ্যগতভাবে পুরুষ প্রধান, তবুও বিগত কয়েক বছর ধরে নারীদের নেতৃত্বে পরিবারের সংখ্যা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। “বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস ২০২৩” শিরোনামের বিবিএস জরিপের ভিত্তিতে এটি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ২০২২ সালের হিসাব অনুযায়ী দেশে ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ পরিবারের প্রধান হচ্ছেন নারীরা। ২০২১ সালের হিসাবে এটি ছিল ১৬ শতাংশ, ২০২০ সালের প্রতিবেদনে ১৫ শতাংশ, ২০১৯ সালে ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০১৮ সালে ছিল ১৪ দশমিক ২ শতাংশ। এভাবে প্রতিবছরই নারী প্রধান পরিবার বেড়েছে। তথ্য বলছে, যারা লেখাপড়া জানে না তারা যে কোনো কাজে যুক্ত হয়ে পড়ে। শিক্ষিত বেকাররা মনমতো কাজ না পাওয়া পর্যন্ত নিজেদের বেকার দেখায়। দেখা যায় এরা অনলাইনে ব্যবসা করছে, কোচিংয়ে পড়ায়, কিংবা বন্ধুরা মিলে বার্গারের দোকান দিয়েছে। যেহেতু পছন্দমতো কাজ পায়নি তাই নিজেদের বেকার বলে পরিচয় দেয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী অরণী ঢাকার অভিজাত একটি বিপণী বিতানে মোবাইল সেটের বিক্রয়-কর্মী হিসেবে কাজ করেন। তিনি জানান, বাবা মারা যাওয়ায় তার রোজগারেই নিজের লেখাপড়া এবং ময়মনসিংহে তার পরিবারের খরচ চলছে। এরকম আরও অসংখ্য নারী বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। কৃষিকাজ বা বেতনহীন পারিবারিক শ্রম দান থেকে নারীরা বেরিয়ে এসেছে। তার বদলে চাকরী, বিক্রয়-কাজ, ব্যবসা ইত্যাদিতে যুক্ত হয়েছে তারা। অন্যদিকে নতুন কাজে গত ২০ বছর ধরেই ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে যে পুরুষরা পিছিয়ে পড়েছে। কিন্তু এগিয়ে গেছেন নারীরা”। অর্থনীতিতে নারীদের ক্রমবর্ধমান অবদানের কথা উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা নারী বেকারত্বের হ্রাসকে ইতিবাচক খবর হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা নারীর দক্ষতার গুরুত্ব এবং পরিবারের প্রধান হিসেবে তাদের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার ওপর জোর দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা ক্রমবর্ধমান পুরুষ বেকারত্বের হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, উল্লেখ করেছেন যে অনেক পুরুষ গুরুত্বপূর্ণ পারিবারিক দায়িত্ব বহন করে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ডাঃ ফাহমিদা খাতুন বলেন, নারীদের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অবদানের পরিপ্রেক্ষিতে নারী বেকারত্ব হ্রাস উৎসাহজনক। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নারীর দক্ষতার উচ্চ চাহিদা রয়েছে এবং অধীক সংখ্যক নারী পরিবারের মধ্যে নেতৃত্বের ভূমিকা গ্রহণ করছে। নারীদের অবদান সর্বাধিক করার জন্য, আমাদের আনুষ্ঠানিক সেক্টরে তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে এবং সুযোগগুলিতে তাদের যোগদান বাড়াতে হবে। সব ধরনের বেকারত্ব মোকাবেলায় সরকারকে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে, তিনি যোগ করেছেন। ২০২৪ সালে, মোট বেকার ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়ায় ২৫.৯০ লাখ। ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশনের (আইএলও) মাপকাঠি অনুযায়ী, যারা সক্রিয়ভাবে অন্তত এক মাসের জন্য কাজ খুঁজছেন এবং গত সাত দিনে অন্তত এক ঘণ্টার জন্য কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে অক্ষম তারা বেকারত্বকে সংজ্ঞায়িত করে। বিবিএসের শ্রম সমীক্ষা বলছে ৪.৮২ কোটি মানুষ সম্পূর্ণরূপে কর্মশক্তির বাইরে। ব্যক্তিদের মধ্যে ছাত্র, দুর্বল, বয়স্ক এবং অন্যান্য অ-কর্মরত জনসংখ্যা অন্তর্ভুক্ত।