নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য মোতায়েন: ইসি
- আপডেট সময়ঃ ১১:৫৯:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১১ বার পড়া হয়েছে
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সারা দেশকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও প্রশাসন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত না করার কঠোর বার্তা দিয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েনের তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারেন, সে জন্য জলে, স্থলে ও আকাশপথে—সর্বত্রই কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনীর ১ লাখ ৩ হাজার সদস্য ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছেন। পাশাপাশি বিমান বাহিনীর ৩ হাজার ৫০০ জন সদস্য এবং উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তার জন্য নৌবাহিনীর ৫ হাজার সদস্য ৫টি জেলার ১৭টি আসনে দায়িত্ব পালন করবেন।
সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) থেকে ১ হাজার ২১০ প্লাটুন বা ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। উপকূলীয় ১০টি জেলার দুর্গম এলাকাগুলোতে কোস্টগার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫ জন সদস্য সক্রিয় থাকবেন।নির্বাচনের মূল মাঠের নিয়ন্ত্রণে থাকবে পুলিশ ও আনসার বাহিনী। পুলিশের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন সদস্যের পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রের প্রত্যক্ষ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন সবচেয়ে বড় বাহিনী—আনসার ও ভিডিপির ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন সদস্য। এছাড়া যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) ৯ হাজার ৩৪৯ জন সদস্য এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) ১ হাজার ৯২২ জন সদস্যও ভোটের মাঠে থাকবেন।
শুধু লাঠি বা বন্দুক নয়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিচারিক ক্ষমতা নিয়েও মাঠে থাকছে বড় একটি দল। ইসি সানাউল্লাহ জানান, নির্বাচনী আচরণবিধি নিয়ন্ত্রণ ও তাৎক্ষণিক বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সারা দেশে ২ হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। সব মিলিয়ে আগামীকালকের নির্বাচনে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে, যাতে জনগণ তাদের ভোটাধিকার উৎসবমুখর পরিবেশে প্রয়োগ করতে পারেন।


















