০৯:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ | ই-পেপার

পরীমনির রিমান্ড: বিচারকের ক্ষমা প্রার্থনা, শুনানি ২৯ সেপ্টেম্বর

  • দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:৪০:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • ৫৬৭ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :
উচ্চ আদালতের নির্দেশনা না মেনে মাদক মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনিকে বারবার রিমান্ডে নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দুই বিচারক ক্ষমা প্রার্থনার আর্জি জানিয়েছেন। তবে তাদের বক্তব্যে সন্তুষ্ট হননি হাইকোর্ট। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য ২৯ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। গতকাল বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর আগে পরীমনির রিমান্ডের বিষয়ে হাইকোর্টের চাওয়া ব্যাখ্যায় ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের দুই বিচারক আতিকুল ইসলাম ও দেবব্রত বিশ্বাস লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে তারা নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে ব্যাখ্যায় বলেন, এটি তাদের অনিচ্ছাকৃত ভুল। আইনজীবী জহিরুল ইসলাম (জেডআই) খান পান্না বলেন, আমরা এখনো নথি হাতে পাইনি। তবে বিচারক লিখিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন বলে শুনেছি। এর আগে গত ২৯ আগস্ট পরীমনিকে বারবার রিমান্ডে নেওয়ার বিষয়ে হাইকোর্টে স্ব-প্রণোদিত আদেশের জন্য আর্জি জানানো হয়। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও শালিস কেন্দ্রের (আসক) পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দা নাসরিন এ আবেদন করেন। এরপর ২ সেপ্টেম্বর একই বেঞ্চ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় পরীমনিকে বারবার রিমান্ডে নেওয়ার বিষয়ে বিচারিক আদালতের ব্যাখ্যা ও নথি (কেসডকেট সিডিসহ) তলব করেন। একই সঙ্গে মামলার দুই তদন্ত কর্মকর্তাকে ১৫ সেপ্টেম্বর সশরীরে উপস্থিত হতে বলা হয়। এ ছাড়া তিন দফায় রিমান্ডের আদেশ দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট বিচারকের কাছে ব্যাখ্যাও চেয়েছিলেন আদালত।
মাদক মামলার প্রতিবেদন ১০ অক্টোবর: পরীমনির বিরুদ্ধে করা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১০ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত। গতকাল বুধবার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করেননি। এজন্য ঢাকা মহানগর হাকিম প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন দিন ধার্য করেন। এদিকে বেলা পৌনে ১১টায় আদালতে হাজিরা দিতে যান পরীমনি। এর আগে ৩১ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ পরীমনির জামিন মঞ্জুর করেন। পরদিন গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। গত ৪ আগস্ট সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পরীমনিকে তার বনানীর বাসা থেকে আটক করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। ওইদিন রাত ৮টা ১০ মিনিটে পরীমনিকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে র‌্যাব সদরদপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাত ১২টা পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলে। পরদিন ৫ আগস্ট বিকেল ৫টা ১২ মিনিটে পরীমনি, চলচ্চিত্র প্রযোজক রাজ ও তাদের দুই সহযোগীকে কালো একটি মাইক্রোবাসে বনানী থানার উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর র‌্যাব বাদী হয়ে রাজধানীর বনানী থানায় পরীমনি ও তার সহযোগী দীপুর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে। এরপর পরীমনিকে আদালতে হাজির করলে প্রথমে চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে আরও দুই দফায় তাকে তিনদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। মামলা সূত্রে জানা যায়, পরীমনি ২০১৬ সাল থেকে মাদকসেবন করতেন। এমনকি ভয়াবহ মাদক এলএসডি ও আইসও সেবন করতেন তিনি। এজন্য বাসায় একটি ‘মিনিবার’ তৈরি করেন। বাসায় নিয়মিত ‘মদের পার্টি’ করতেন। চলচ্চিত্র প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজসহ আরও অনেকে তার বাসায় অ্যালকোহলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের সরবরাহ করতেন ও পার্টিতে অংশ নিতেন। ২০১৪ সালে বিনোদন জগতে ক্যারিয়ার শুরু করা পরীমনি এ পর্যন্ত ৩০টি সিনেমা ও বেশ কয়েকটি টিভিসিতে অভিনয় করেছেন। পিরোজপুরের মেয়ে পরীমনিকে চলচ্চিত্র জগতে নিয়ে আসেন প্রযোজক রাজ।
জব্দ গাড়ি-ল্যাপটপ-মোবাইল ফেরত চেয়ে আবেদন: এদিকে পরীমনি তার জব্দ করা গাড়ি, ল্যাপটপ ও মোবাইল ফেরত চেয়ে আদালতে আবেদন করেছেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর আলামত হিসেবে এগুলো জব্দ করা হয়েছিল। গতকাল বুধবার আদালতে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদারের আদালতে দুপুর ১২টার দিকে পরীমনির জব্দ করা গাড়ি, ল্যাপটপ ও মোবাইল ফেরত চেয়ে আবেদন করেন তার আইনজীবী মো. মজিবুর রহমান। এই আইনজীবী নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ট্যাগস :

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আপিল বিভাগের নতুন দুই বিচারপতির সাক্ষাৎ

পরীমনির রিমান্ড: বিচারকের ক্ষমা প্রার্থনা, শুনানি ২৯ সেপ্টেম্বর

আপডেট সময়ঃ ০৬:৪০:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক :
উচ্চ আদালতের নির্দেশনা না মেনে মাদক মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনিকে বারবার রিমান্ডে নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দুই বিচারক ক্ষমা প্রার্থনার আর্জি জানিয়েছেন। তবে তাদের বক্তব্যে সন্তুষ্ট হননি হাইকোর্ট। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য ২৯ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। গতকাল বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর আগে পরীমনির রিমান্ডের বিষয়ে হাইকোর্টের চাওয়া ব্যাখ্যায় ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের দুই বিচারক আতিকুল ইসলাম ও দেবব্রত বিশ্বাস লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে তারা নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করে ব্যাখ্যায় বলেন, এটি তাদের অনিচ্ছাকৃত ভুল। আইনজীবী জহিরুল ইসলাম (জেডআই) খান পান্না বলেন, আমরা এখনো নথি হাতে পাইনি। তবে বিচারক লিখিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন বলে শুনেছি। এর আগে গত ২৯ আগস্ট পরীমনিকে বারবার রিমান্ডে নেওয়ার বিষয়ে হাইকোর্টে স্ব-প্রণোদিত আদেশের জন্য আর্জি জানানো হয়। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও শালিস কেন্দ্রের (আসক) পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দা নাসরিন এ আবেদন করেন। এরপর ২ সেপ্টেম্বর একই বেঞ্চ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় পরীমনিকে বারবার রিমান্ডে নেওয়ার বিষয়ে বিচারিক আদালতের ব্যাখ্যা ও নথি (কেসডকেট সিডিসহ) তলব করেন। একই সঙ্গে মামলার দুই তদন্ত কর্মকর্তাকে ১৫ সেপ্টেম্বর সশরীরে উপস্থিত হতে বলা হয়। এ ছাড়া তিন দফায় রিমান্ডের আদেশ দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট বিচারকের কাছে ব্যাখ্যাও চেয়েছিলেন আদালত।
মাদক মামলার প্রতিবেদন ১০ অক্টোবর: পরীমনির বিরুদ্ধে করা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১০ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত। গতকাল বুধবার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করেননি। এজন্য ঢাকা মহানগর হাকিম প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন দিন ধার্য করেন। এদিকে বেলা পৌনে ১১টায় আদালতে হাজিরা দিতে যান পরীমনি। এর আগে ৩১ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ পরীমনির জামিন মঞ্জুর করেন। পরদিন গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। গত ৪ আগস্ট সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পরীমনিকে তার বনানীর বাসা থেকে আটক করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। ওইদিন রাত ৮টা ১০ মিনিটে পরীমনিকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে র‌্যাব সদরদপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাত ১২টা পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলে। পরদিন ৫ আগস্ট বিকেল ৫টা ১২ মিনিটে পরীমনি, চলচ্চিত্র প্রযোজক রাজ ও তাদের দুই সহযোগীকে কালো একটি মাইক্রোবাসে বনানী থানার উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর র‌্যাব বাদী হয়ে রাজধানীর বনানী থানায় পরীমনি ও তার সহযোগী দীপুর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে। এরপর পরীমনিকে আদালতে হাজির করলে প্রথমে চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে আরও দুই দফায় তাকে তিনদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। মামলা সূত্রে জানা যায়, পরীমনি ২০১৬ সাল থেকে মাদকসেবন করতেন। এমনকি ভয়াবহ মাদক এলএসডি ও আইসও সেবন করতেন তিনি। এজন্য বাসায় একটি ‘মিনিবার’ তৈরি করেন। বাসায় নিয়মিত ‘মদের পার্টি’ করতেন। চলচ্চিত্র প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজসহ আরও অনেকে তার বাসায় অ্যালকোহলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের সরবরাহ করতেন ও পার্টিতে অংশ নিতেন। ২০১৪ সালে বিনোদন জগতে ক্যারিয়ার শুরু করা পরীমনি এ পর্যন্ত ৩০টি সিনেমা ও বেশ কয়েকটি টিভিসিতে অভিনয় করেছেন। পিরোজপুরের মেয়ে পরীমনিকে চলচ্চিত্র জগতে নিয়ে আসেন প্রযোজক রাজ।
জব্দ গাড়ি-ল্যাপটপ-মোবাইল ফেরত চেয়ে আবেদন: এদিকে পরীমনি তার জব্দ করা গাড়ি, ল্যাপটপ ও মোবাইল ফেরত চেয়ে আদালতে আবেদন করেছেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর আলামত হিসেবে এগুলো জব্দ করা হয়েছিল। গতকাল বুধবার আদালতে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদারের আদালতে দুপুর ১২টার দিকে পরীমনির জব্দ করা গাড়ি, ল্যাপটপ ও মোবাইল ফেরত চেয়ে আবেদন করেন তার আইনজীবী মো. মজিবুর রহমান। এই আইনজীবী নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।