প্রথম দিনে তিন ঘণ্টাতেই শেষ ট্রেনের টিকিট, যাত্রীদের ক্ষোভ

- আপডেট সময়ঃ ১০:৩৫:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ জুলাই ২০২২
- / ১৫৮ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক :
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে শুরু হয়েছে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি। আজ শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে এই টিকিট বিক্রি শুরু হয়। এদিন দেওয়া হয়েছে ৫ জুলাইয়ের টিকিট। তবে টিকিট বিক্রির প্রথম দিনেই তিন ঘণ্টার মধ্যে প্রায় সব টিকিট শেষ হয়ে যায়। এমনই অভিযোগ করেছেন টিকিট প্রত্যাশীরা। তারা বলছেন, প্রতি লাইনের প্রথম কিছু লোক টিকিট পেয়েছে। বাকিরা আর পায়নি। রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে গেলে দেখা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকেই কাউন্টারে দাঁড়িয়েছেন টিকিট প্রত্যাশীরা। রাজধানীর গেন্ডারিয়া থেকে আসা মো. মহিউদ্দিন বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় এসে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টায় যখন কাউন্টারের ঠিক কাছে আসলাম তখনই শুনি টিকিট শেষ। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও টিকিট পেলাম না। আরেক টিকিট প্রত্যাশী মো. মোস্তফা কামাল বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। দিনাজপুরের টিকিট আগেই শেষ হয়ে গেছে। আগামীকালের (শনিবার) জন্য এখন অপেক্ষা করতে হবে। মিরপুর থেকে টিকিট কাটতে আসা রিয়াদ বলেন, লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম, আবার অনলাইনেও টিকিট কাটার চেষ্টা করেছি, কিন্তু কোনো টিকিট পাইনি। এদিকে গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে ৫ জুলাইয়ের টিকিট অনলাইনে ও কাউন্টারে বিক্রি শুরু হয়। ই-টিকিটিং ওয়েবসাইটে প্রথম মিনিটে ৫ লাখ হিট করেছে টিকিট প্রত্যাশীরা। এ ছাড়া প্রথম তিন ঘণ্টায় সারাদেশে প্রায় ৪৪ হাজার টিকিট বিক্রি হয়েছে। গতকাল শুক্রবার এসব তথ্য জানায় বাংলাদেশ রেলওয়ে টিকিট বিক্রির সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘সহজ-সিনেসিস-ভিনসেন জেভি’। সহজের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফারহাত আহমেদ বলেন, সকাল ৮টায় কমলাপুরসহ অন্যান্য রেলস্টেশনগুলোর কাউন্টার, ওয়েবসাইট ও রেল সেবা অ্যাপে টিকিট বিক্রি শুরু হয়। সকাল ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সারাদেশের কাউন্টার থেকে ২৩ হাজার ১৮টি ও অনলাইনে ২১ হাজার ৮৯১টি টিকিট বিক্রি হয়েছে। টিকিট প্রত্যাশীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়নি। এর আগে, গত ২২ জুন দুপুরে রেল ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই টিকিট বিক্রির তারিখ ঘোষণা দেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। ওইদিন রেলমন্ত্রী বলেন, ১ জুলাই দেওয়া হবে ৫ জুলাইয়ের ট্রেনের টিকিট, ২ জুলাই দেওয়া হবে ৬ জুলাইয়ের টিকিট, ৩ জুলাই দেওয়া হবে ৭ জুলাইয়ের টিকিট, ৪ জুলাই দেওয়া হবে ৮ জুলাইয়ের টিকিট এবং ৫ জুলাই দেওয়া হবে ৯ জুলাইয়ের ট্রেনের টিকিট। এ ছাড়া ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু হবে ৭ জুলাই থেকে। ওই দিন ১১ জুলাইয়ের টিকিট বিক্রি হবে। ৮ জুলাই ১২ জুলাইয়ের টিকিট, ৯ জুলাই দেওয়া হবে ১৩ জুলাইয়ের টিকিট, ১১ জুলাই ১৪ এবং ১৫ জুলাইয়ের টিকিট বিক্রি হবে। এর মধ্যে ১০ জুলাই ঈদ হলে ১১ জুলাই সীমিত কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করবে। তবে ১২ জুলাই থেকে সব ট্রেন চলাচল করবে। বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্র জানান, ঢাকায় ছয়টি স্টেশন এবং গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশনে থেকে ঈদের ট্রেনের টিকিট পাওয়া যাবে। ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে সমগ্র উত্তরাঞ্চলগামী আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট মিলবে। কমলাপুর শহরতলী প্ল্যাটফর্ম থেকে রাজশাহী ও খুলনাগামী ট্রেনের টিকিট পাওয়া যাবে। ঢাকা বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীগামী সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট পাওয়া যাবে। তেজগাঁও রেলওয়ে স্টেশনে পাওয়া যাবে ময়মনসিংহ, জামালপুর ও দেওয়ানগঞ্জগামী ট্রেনের টিকিট। এছাড়া ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশনে পাওয়া যাবে মোহনগঞ্জগামী মোহনগঞ্জ ও হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট। ফুলবাড়িয়া রেলস্টেশন থেকে পাওয়া যাবে সিলেট ও কিশোরগঞ্জগামী ট্রেনের টিকিট। গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে পঞ্চগড়ের ঈদ স্পেশাল ট্রেন ছাড়বে।