নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রাথমিক স্তরের বিপুলসংখ্যক শিক্ষক দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও বেতন-ভাতা নিচ্ছে। দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪১০ শিক্ষক ছুটিতে গিয়ে আর কাজে যোগদান করেনি। তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৭ বছর থেকে সর্বনিম্ন ৭ মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিত আছে। ওসব শিক্ষকের মধ্যে অনেকে চিকিৎসা ছুটি নিয়েছে। তাছাড়া ধর্মীয় ও তীর্থস্থান পরিদর্শন, বিদেশে ভ্রমণ এবং উচ্চশিক্ষার কারণ দেখিয়ে ছুটি নেয়ার প্রবণতাও রয়েছে। অনুপস্থিত ওসব শিক্ষকের কেউ কেউ বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে। অনেকে দেশের ভেতরে অবস্থান করে ইচ্ছাকৃতভাবেই ক্লাস নিচ্ছে না। লাপাত্তা ওসব শিক্ষকের অনেকে আবার মাসের পর মাস বেতন-ভাতাও তুলেছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের মাধ্যমে একজন করে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার (ইউএইও) নিবিড় তত্ত্বাবধানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো পরিচালিত হয়। প্রধান শিক্ষকরা মাস গেলে কর্মস্থলে উপস্থিতির ব্যাপারে যে প্রত্যয়নপত্র দেয়া হয় তার ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট ইউএইও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার (টিইও) কাছে স্যালারি রিপোর্ট দেয়। তারপরই টিইও বেতন পাশ করে। এমন অবস্থায়ও অনেক শিক্ষক ছুটি বা কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার পরও বেতন-ভাতা নিয়েছে। যা মাঠ কর্মকর্তাদের সহায়তা ছাড়া সম্ভব নয়।
সূত্র জানায়, শিক্ষকদের কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নজরের বাইরেই রাখা হয়েছিল। সম্প্রতি বিষয়টি নজরে এলে মন্ত্রণালয় থেকে মাঠপ্রশাসনে প্রতিবেদন চাওয়া হয়। এখন পর্যন্ত ৪১০ জনের তালিকা পাওয়া গেছে। তারমধ্যে ৩৫ জনই প্রধান শিক্ষক। ৬ জন চলতি দায়িত্বের প্রধান শিক্ষক। বাকিরা সহকারী শিক্ষক। ধারণা করা হচ্ছে প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হবে। অনুপস্থিত শিক্ষকদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেয়া শুরু হয়েছে। কাউকে শোকজ দেয়া হয়েছে, কারোর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু কৈফিয়ত তলব বা শোকজ দেয়া হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তার জবাব পাওয়া যায় না। বিশেষ করে বিদেশে একেবারে পাড়ি জমানো শিক্ষকের ক্ষেত্রে এমন দৃষ্টান্ত বেশি।
সূত্র আরো জানায়, অনুপস্থিত অধিকাংশ শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া শুরু হয়েছে। সর্বোচ্চ শাস্তি হিসাবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সাময়িক বরখাস্ত বা চাকরিচ্যুত করার বিধান আছে। তাছাড়া বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর বিধানও আছে। তবে বিভাগীয় মামলায় সাড়া দিলে অপরাধের ধরন অনুযায়ী লঘু দ- হিসাবে বেতন স্কেল কমানো, পদাবনমন করা হয়ে থাকে।
এদিকে এ প্রসঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আমিনুল ইসলাম খান জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসাবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিইও) সরকারের পক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত। তারাই লঘু বা গুরুদ- দেবে। আর প্রধান শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এ ধরনের দায়িত্ব উপ-পরিচালকের ওপরে বর্তায়। ছুটি শেষে কাজে যোগ না দেয়া কিছু শিক্ষকের তথ্য মন্ত্রণালয়ে এসেছে। ওই আলোকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। কিন্তু বছরের পর বছর অনুপস্থিত থাকার পরও যথাসময়ে কেন রিপোর্টিং হয়নি, তার সঙ্গে কোন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কতটুকু দায় আছে তা নিরূপণের কাজ চলছে। শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-উভয়ই সরকারি চাকরি বিধিমালার আলোকে শাস্তির মুখোমুখি হবে।
সর্বশেষঃ
প্রাথমিক স্তরের বিপুলসংখ্যক শিক্ষক অনুপস্থিত থেকে বেতন-ভাতা নিচ্ছে
-
দৈনিক আইন বার্তা
- আপডেট সময়ঃ ০৯:১৪:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২২
- ১৮২ বার পড়া হয়েছে
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ