প্রোপাগান্ডা মোকাবিলায় ঐক্য ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার ওপর জোর আনসার–ভিডিপির
- আপডেট সময়ঃ ০৮:১৫:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ২৮ বার পড়া হয়েছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ সামনে রেখে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশব্যাপী যে সুসংগঠিত, প্রযুক্তিনির্ভর ও পেশাদার প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে, তারই অংশ হিসেবে ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, শুক্রবার বগুড়া জেলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রস্তুতিমূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এই সমাবেশের মাধ্যমে বাহিনীর নির্বাচনকালীন প্রস্তুতির সার্বিক চিত্র, নীতিগত অবস্থান এবং সদস্যদের প্রতি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়। বগুড়ায় সরাসরি উপস্থিতির পাশাপাশি জায়ান্ট স্ক্রিনের মাধ্যমে রংপুর, দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলার নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরাও সমাবেশে যুক্ত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে বাহিনীর প্রস্তুতি, পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিতকরণ বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
মহাপরিচালক তাঁর বক্তব্যে রাষ্ট্রের অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনে সকল সদস্যকে দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “জাতীয় পতাকা ও বাহিনীর পতাকার মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকতে হবে; পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিজ নিজ এলাকায় দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই দেশের আমানত, জাতীয় পতাকা এবং বাহিনীর সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, কিছু মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ ও বাহিনীর অপব্যবহার সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। এসব অপতৎপরতা প্রতিহত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা, ঐক্য ও দেশপ্রেম অপরিহার্য বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। সততা, দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ও পেশাদারিত্বই এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর জবাব—এ কথা তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
গত কয়েকটি নির্বাচনে প্রশিক্ষিত সদস্যদের বাদ দিয়ে অনিয়মে সহায়তাকারী সাধারন গরীব পেশাজীবিদের টাকার মাধ্যমে যে অশুভ চক্র আনসার বাহিনীকে কলঙ্কিত করেছে, আজ সেই বহিষ্কৃত কুশীলবরা পর্দার অন্তরালে রাজনৈতিক মোড়কের কালিমায় তারুন্যনির্ভর সুষ্ঠ সুন্দর নির্বাচনের সব ডিজিটাল আয়োজনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
মহাপরিচালক AVMIS ও STDMS সফটওয়্যারের মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনায় বাহিনীর সদস্যদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও নিষ্ঠার কথা তুলে ধরে বলেন, এ কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মাধ্যমে তাদের পুর্বাপর সকল অনিয়মের পুরানো বন্দোবস্ত পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার সকল উদ্যোগ সমাবেশে আগত আনসার ভিডিপির ২.৫ লক্ষ নবপ্রশিক্ষিত তরুণ সদস্যদের প্রতিনিধিরা ঘৃনার সাথে বর্জন করেছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের ভাতা নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী STDMS সফটওয়্যারের মাধ্যমে সঠিক সময়ে অটোমেশনের মাধ্যমে পরিশোধ নিশ্চিত করতে বাহিনী সর্বোচ্চ ব্যবস্থা ইতিমধ্যে প্রান্তিক পর্যায়ে সমন্বয় শেষ করেছে।
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সদস্যদের কল্যাণ ও মৌলিক অধিকার সংরক্ষণেও বাহিনী সমান গুরুত্ব দিচ্ছে।” এ লক্ষ্যে আনসার–ভিডিপি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে এবং জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সদস্যদের বৈদেশিক কর্মসংস্থানে যুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বহুমুখী কল্যাণমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাহিনী ও তৃণমূল জনগোষ্ঠীর মধ্যে আস্থা ও সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সমাবেশের সমাপনী বক্তব্যে মহাপরিচালক প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, আগামীর পথচলায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও সততার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ও দেশপ্রেমের চেতনায় একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে। এই প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুধু নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণেই নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনআস্থা জোরদার এবং জাতীয় স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা সংরক্ষণে সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে—এমন দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।




















