০২:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫ | ই-পেপার

বন্যায় বিপর্যস্ত জনপদ

দৈনিক আইন বার্তা
  • আপডেট সময়ঃ ০৯:৪৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৪
  • / ৮৫ বার পড়া হয়েছে

আইন বার্তা ডেস্ক:

চারদিকে শুধু পানি। তলিয়ে গেছে বাড়িঘর। বানের পানিতে ভেসে যাচ্ছে গৃহপালিত পশু, আসবাবপত্র। নারী-শিশুসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের চেষ্টা আর আর্তনাদ বানভাসিদের। ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢল ও একটানা ভারী বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় এই পরিস্থিতি চলছে মৌলভীবাজার থেকে শুরু করে হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়িসহ দেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ভারত সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর বিস্তীর্ণ এলাকায়। এর মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়া ফেনীর জেলা সদরও গতকাল বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। ফেনী শহরের সবচেয়ে উঁচু এলাকা ট্রাংক রোডে বুক সমান পানি ওঠে। গতকাল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির অনেক এলাকা। সব মিলিয়ে অন্তত ১০ জেলায় গতকাল বিকাল পর্যন্ত বন্যায় ৩৬ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বন্যা নিয়ে গতকাল প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক হয়েছে। এতে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সব উপদেষ্টাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

গত দুদিন বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক অবনতি হওয়ায় উপদ্রুত এলাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে চট্টগ্রাম ও সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের ট্রেন চলাচল। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহসড়কের কিছু অংশেও পানি উঠেছে। বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক মিলছে না বন্যাকবলিত এলাকায়। প্রিয়জনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে না বহু মানুষ। বন্যায় বন্ধ হয়ে গেছে আখাউড়া স্থলবন্দর। প্রয়োজনের তুলনায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছেন দুর্গত এলাকার মানুষ।

উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আলোচনা : গতকাল প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দেশের অন্তত ১০টি জেলাজুড়ে চলমান ভয়াবহ বন্যায় দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সব উপদেষ্টাকে আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল বিকালে সাংবাদিকদের এ কথা জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, ‘কেবিনেট মিটিং হয়েছে বন্যা নিয়ে। আমি সেখানে ছিলাম। সেখানে এক্সটেনসিভ ডিসকাশন হয়েছে। সেখানে স্যার সবাইকে বলেছেন, বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়ান।’

বৈঠক শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বলেন, বন্যা নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনীসহ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়কদের নিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মানুষের সঙ্গে যতটা সম্ভব যোগাযোগ রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা বন্যাকবলিত এলাকায় সব ‘অ্যাফোর্ড’ (সামর্থ) নিয়োজিত করেছি। আমাদের লক্ষ্য মানুষের জীবন রক্ষার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। তিনি বলেন, উজান থেকে হঠাৎ করেই পানির ঢল নামে। তবে ভারত পানি ছেড়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা হচ্ছে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা ও বন্যার কারণ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বন্যা মোকাবিলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ কাজে উপদেষ্টাদের দপ্তরগুলোও সমন্বয় করবে।

৩৬ লাখ মানুষ বন্যায় আক্রান্ত : এদিকে উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও ভারী বৃষ্টির পানির প্রভাবে দেশের ১০ জেলার প্রায় ৩৬ লাখ মানুষ বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে বন্যার পানিতে ডুবে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় একজন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বিকালের এক তথ্য বিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়। মন্ত্রণালয় জানায়, এখন পর্যন্ত বন্যা আক্রান্ত জেলার সংখ্যা ১০। সেগুলো হলোÑ কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেট। এসব জেলার ৬৫ উপজেলা বন্যায় প্লাবিত। এই ১০ জেলায় মোট ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৪০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

গতকাল দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অতিরিক্ত সচিব কেএম আলী রেজা জানান, পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১৫৩৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ৭৫ হাজার ৬৬৮ জন লোক এবং ৭ হাজার ৪৫৯টি গবাদিপশুকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য মোট ৪৪৪টি মেডিক্যাল টিম চালু রয়েছে। দুর্গতদের জন্য নগদ ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা এবং ১৩ হাজার ৬৫০ টন চাল ও ১১ হাজার বস্তা শুকনা খাবার বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া দেশের সব জেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুদ রয়েছে।

উন্নতির পূর্বাভাস : বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির কারণে গতকাল মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ফেনী, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম জেলার নিম্নাঞ্চলে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি ঘটেছে। বিভিন্ন আবহাওয়া সংস্থার বরাত দিয়ে আরও বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় (আজ শুক্রবার থেকে) দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে এবং দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল, পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে ভারী বৃষ্টিপাত কমে আসতে পারে। এ সময় মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই, ধলাই এবং ফেনী, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের মুহুরী, ফেনী, গোমতী, হালদা নদীর নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি প্রাথমিকভাবে স্থিতিশীল থেকে পরবর্তী সময়ে উন্নতি হতে পারে। এ ছাড়া ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা নদ-নদীর পানি সমতল হ্রাস পাচ্ছে জানিয়ে বলা হয়, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় এসব নদীর পানি সমতলে কমে যেতে পারে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বন্যায় বিপর্যস্ত জনপদ

আপডেট সময়ঃ ০৯:৪৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৪

আইন বার্তা ডেস্ক:

চারদিকে শুধু পানি। তলিয়ে গেছে বাড়িঘর। বানের পানিতে ভেসে যাচ্ছে গৃহপালিত পশু, আসবাবপত্র। নারী-শিশুসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের চেষ্টা আর আর্তনাদ বানভাসিদের। ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢল ও একটানা ভারী বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় এই পরিস্থিতি চলছে মৌলভীবাজার থেকে শুরু করে হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়িসহ দেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ভারত সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর বিস্তীর্ণ এলাকায়। এর মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়া ফেনীর জেলা সদরও গতকাল বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। ফেনী শহরের সবচেয়ে উঁচু এলাকা ট্রাংক রোডে বুক সমান পানি ওঠে। গতকাল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির অনেক এলাকা। সব মিলিয়ে অন্তত ১০ জেলায় গতকাল বিকাল পর্যন্ত বন্যায় ৩৬ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বন্যা নিয়ে গতকাল প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক হয়েছে। এতে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সব উপদেষ্টাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

গত দুদিন বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক অবনতি হওয়ায় উপদ্রুত এলাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে চট্টগ্রাম ও সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের ট্রেন চলাচল। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহসড়কের কিছু অংশেও পানি উঠেছে। বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক মিলছে না বন্যাকবলিত এলাকায়। প্রিয়জনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে না বহু মানুষ। বন্যায় বন্ধ হয়ে গেছে আখাউড়া স্থলবন্দর। প্রয়োজনের তুলনায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছেন দুর্গত এলাকার মানুষ।

উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আলোচনা : গতকাল প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দেশের অন্তত ১০টি জেলাজুড়ে চলমান ভয়াবহ বন্যায় দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সব উপদেষ্টাকে আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল বিকালে সাংবাদিকদের এ কথা জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, ‘কেবিনেট মিটিং হয়েছে বন্যা নিয়ে। আমি সেখানে ছিলাম। সেখানে এক্সটেনসিভ ডিসকাশন হয়েছে। সেখানে স্যার সবাইকে বলেছেন, বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়ান।’

বৈঠক শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বলেন, বন্যা নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনীসহ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়কদের নিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মানুষের সঙ্গে যতটা সম্ভব যোগাযোগ রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা বন্যাকবলিত এলাকায় সব ‘অ্যাফোর্ড’ (সামর্থ) নিয়োজিত করেছি। আমাদের লক্ষ্য মানুষের জীবন রক্ষার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। তিনি বলেন, উজান থেকে হঠাৎ করেই পানির ঢল নামে। তবে ভারত পানি ছেড়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা হচ্ছে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা ও বন্যার কারণ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বন্যা মোকাবিলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ কাজে উপদেষ্টাদের দপ্তরগুলোও সমন্বয় করবে।

৩৬ লাখ মানুষ বন্যায় আক্রান্ত : এদিকে উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও ভারী বৃষ্টির পানির প্রভাবে দেশের ১০ জেলার প্রায় ৩৬ লাখ মানুষ বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে বন্যার পানিতে ডুবে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় একজন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বিকালের এক তথ্য বিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়। মন্ত্রণালয় জানায়, এখন পর্যন্ত বন্যা আক্রান্ত জেলার সংখ্যা ১০। সেগুলো হলোÑ কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেট। এসব জেলার ৬৫ উপজেলা বন্যায় প্লাবিত। এই ১০ জেলায় মোট ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৪০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

গতকাল দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অতিরিক্ত সচিব কেএম আলী রেজা জানান, পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১৫৩৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ৭৫ হাজার ৬৬৮ জন লোক এবং ৭ হাজার ৪৫৯টি গবাদিপশুকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য মোট ৪৪৪টি মেডিক্যাল টিম চালু রয়েছে। দুর্গতদের জন্য নগদ ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা এবং ১৩ হাজার ৬৫০ টন চাল ও ১১ হাজার বস্তা শুকনা খাবার বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া দেশের সব জেলায় পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুদ রয়েছে।

উন্নতির পূর্বাভাস : বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির কারণে গতকাল মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ফেনী, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম জেলার নিম্নাঞ্চলে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি ঘটেছে। বিভিন্ন আবহাওয়া সংস্থার বরাত দিয়ে আরও বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় (আজ শুক্রবার থেকে) দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে এবং দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল, পূর্বাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন উজানে ভারী বৃষ্টিপাত কমে আসতে পারে। এ সময় মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, খোয়াই, ধলাই এবং ফেনী, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের মুহুরী, ফেনী, গোমতী, হালদা নদীর নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি প্রাথমিকভাবে স্থিতিশীল থেকে পরবর্তী সময়ে উন্নতি হতে পারে। এ ছাড়া ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা নদ-নদীর পানি সমতল হ্রাস পাচ্ছে জানিয়ে বলা হয়, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় এসব নদীর পানি সমতলে কমে যেতে পারে।