০২:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ | ই-পেপার

বিল-ভাউচার ছাড়াই রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ১০ লাখ টাকা ভ্রমণ বিল উত্তোলন

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বিল-ভাউচার ছাড়াই সাড়ে ১০ লাখ টাকা ভ্রমণ বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগ অনুসন্ধানে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত রোববার দুপুরে নগরীর পাহাড়তলীতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় রেলওয়ের কার্যালয়ে অভিযান চালায় দুদকের একটি দল। এ সময় অভিযোগ সংক্রান্ত রেলের বেশকিছু নথিপত্র জব্দ করা হয়। দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল চট্টগ্রাম-এ বিল ভাউচার ছাড়াই সাড়ে ১০ লাখ টাকার ভ্রমণ বিল তুলে নেওয়া সংক্রান্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন চট্টগ্রাম-১ জেলা কার্যালয় থেকে একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান পরিচালনাকালে এনফোর্সমেন্ট টিম রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল চট্টগ্রাম-এর বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তার দফতর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান হিসাব অধিকর্তার দফতর এবং বিভাগীয় সংস্থাপন কর্মকর্তার দফতরে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্রাদি যাচাই-বাছাই করা হয়। এসময় আংশিক রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সকল রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে এনফোর্সমেন্ট টিম কমিশন বরাবরে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুদকের সমন্বিত চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়–১ এর সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম। তিনি বলেন, ‘রেলের কর্মকর্তাদের বিল-ভাউচার ছাড়া ভ্রমণ ব্যয় তোলার অভিযোগ পেয়েছিলাম। বিভিন্ন নথিপত্র আমরা দেখেছি। ভাউচার না পেলেও রেজিস্ট্রার খাতায় ভ্রমণ বিল তোলা হয়েছে- এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে। রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল চট্টগ্রামে বিল-ভাউচার ছাড়াই প্রায় সাড়ে ১০ লাখ টাকার ভ্রমণ ব্যয় তুলে নেওয়া হয়েছে। রেলের পরিবহন অডিট অধিদফতরের অডিটে ধরা পড়ে এমন অসঙ্গতি। গত বছরের ১ ডিসেম্বর ডিসিও বরাবরে ‘অডিট মেমো’র মাধ্যমে বিল-ভাউচার ছাড়া ভ্রমণ ব্যয় তোলার বিষয়টি জানানো হয়। রেলওয়ের অডিট মেমোতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে বিল-ভাউচার ছাড়াই ভ্রমণ বিল বাবদ ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৮৬৮ টাকা তুলে নেওয়া হয়। এতে সরকারের ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৮৬৮ টাকা ক্ষতি হয়েছে। আইবাস থেকে প্রাপ্ত পরিশোধিত বিল ও ভাউচার পর্যালোচনায় দেখা যায়, অর্থনৈতিক কোড-৩২৪৪১০১ (ভ্রমণ ব্যয়) থেকে বিভিন্ন সময়ে ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৮৬৮ পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দফতরে এ সংক্রান্ত কোনও রেকর্ড সংরক্ষণ করা হয়নি, এমনকি সংশ্লিষ্ট দফতরের বিল পাসিং রেডিয়ারেও উক্ত বিলের কোনও এন্ট্রি বা তথ্য পাওয়া যায়নি। রেলওয়ের জেনারেল কোড ৮০৭(১) অনুযায়ী প্রত্যেক সরকারি কর্মচারী সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সেরূপ সতর্কতা অবলম্বন করবেন, যেরূপ একজন মিতব্যয়ী ব্যক্তি তার নিজের অর্থ ব্যয় করেন।

ট্যাগস :

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আপিল বিভাগের নতুন দুই বিচারপতির সাক্ষাৎ

বিল-ভাউচার ছাড়াই রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ১০ লাখ টাকা ভ্রমণ বিল উত্তোলন

আপডেট সময়ঃ ০৭:১৯:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ মার্চ ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বিল-ভাউচার ছাড়াই সাড়ে ১০ লাখ টাকা ভ্রমণ বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগ অনুসন্ধানে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত রোববার দুপুরে নগরীর পাহাড়তলীতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় রেলওয়ের কার্যালয়ে অভিযান চালায় দুদকের একটি দল। এ সময় অভিযোগ সংক্রান্ত রেলের বেশকিছু নথিপত্র জব্দ করা হয়। দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল চট্টগ্রাম-এ বিল ভাউচার ছাড়াই সাড়ে ১০ লাখ টাকার ভ্রমণ বিল তুলে নেওয়া সংক্রান্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন চট্টগ্রাম-১ জেলা কার্যালয় থেকে একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান পরিচালনাকালে এনফোর্সমেন্ট টিম রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল চট্টগ্রাম-এর বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তার দফতর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান হিসাব অধিকর্তার দফতর এবং বিভাগীয় সংস্থাপন কর্মকর্তার দফতরে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্রাদি যাচাই-বাছাই করা হয়। এসময় আংশিক রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সকল রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে এনফোর্সমেন্ট টিম কমিশন বরাবরে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুদকের সমন্বিত চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়–১ এর সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম। তিনি বলেন, ‘রেলের কর্মকর্তাদের বিল-ভাউচার ছাড়া ভ্রমণ ব্যয় তোলার অভিযোগ পেয়েছিলাম। বিভিন্ন নথিপত্র আমরা দেখেছি। ভাউচার না পেলেও রেজিস্ট্রার খাতায় ভ্রমণ বিল তোলা হয়েছে- এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে। রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল চট্টগ্রামে বিল-ভাউচার ছাড়াই প্রায় সাড়ে ১০ লাখ টাকার ভ্রমণ ব্যয় তুলে নেওয়া হয়েছে। রেলের পরিবহন অডিট অধিদফতরের অডিটে ধরা পড়ে এমন অসঙ্গতি। গত বছরের ১ ডিসেম্বর ডিসিও বরাবরে ‘অডিট মেমো’র মাধ্যমে বিল-ভাউচার ছাড়া ভ্রমণ ব্যয় তোলার বিষয়টি জানানো হয়। রেলওয়ের অডিট মেমোতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে বিল-ভাউচার ছাড়াই ভ্রমণ বিল বাবদ ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৮৬৮ টাকা তুলে নেওয়া হয়। এতে সরকারের ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৮৬৮ টাকা ক্ষতি হয়েছে। আইবাস থেকে প্রাপ্ত পরিশোধিত বিল ও ভাউচার পর্যালোচনায় দেখা যায়, অর্থনৈতিক কোড-৩২৪৪১০১ (ভ্রমণ ব্যয়) থেকে বিভিন্ন সময়ে ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৮৬৮ পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দফতরে এ সংক্রান্ত কোনও রেকর্ড সংরক্ষণ করা হয়নি, এমনকি সংশ্লিষ্ট দফতরের বিল পাসিং রেডিয়ারেও উক্ত বিলের কোনও এন্ট্রি বা তথ্য পাওয়া যায়নি। রেলওয়ের জেনারেল কোড ৮০৭(১) অনুযায়ী প্রত্যেক সরকারি কর্মচারী সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সেরূপ সতর্কতা অবলম্বন করবেন, যেরূপ একজন মিতব্যয়ী ব্যক্তি তার নিজের অর্থ ব্যয় করেন।