নিজস্ব প্রতিবেদক :
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) খন্দকার লাবনী আক্তার (৪০) ও কনস্টেবল মাহমুদুল হাসানের (২৩) লাশ জানাজা শেষে নিজ নিজ এলাকায় দাফন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে মাগুরার শ্রীপুর সদর ইউনিয়নের সারঙ্গদিয়া গ্রামে নানাবাড়িতে প্রথম জানাজা এবং পরে নিজ বাড়ি কাদিরপাড়া ইউনিয়নের বরালিদহ গ্রামে দ্বিতীয় জানাজা শেষে রাত পৌনে ১১টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে লাবনী আক্তারকে দাফন করা হয়। এরআগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মাগুরার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের মর্গ থেকে ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ সারঙ্গদিয়া গ্রামে আনা হয়। অন্যদিকে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পিপুলবাড়িয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় কনস্টেবল মাহমুদুল হাসানকে। গত বৃহস্পতিবার সকালে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার সারঙ্গদিয়া গ্রাম থেকে এডিসি খন্দকার লাবনী আক্তারের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সকালে ওড়না পেঁচানো লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন পরিবারের সদস্যরা। পরে সকাল ৭টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। খন্দকার লাবনী খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার এডিসি পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার সারঙ্গদিয়া গ্রামের খন্দকার শফিকুল আজমের মেয়ে। পারিবারিক অশান্তির কারণে ছুটিতে এসে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তার স্বামী তারেক আবদুল্লাহ বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক (এডি) হিসেবে কর্মরত। তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে ভারতে চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে একইদিন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মাগুরা পুলিশ লাইনস ব্যারাকের ছাদ থেকে কনস্টেবল মাহমুদুল হাসানের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল হাসান জানান, রাতের ডিউটি থেকে ফিরে গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নিজ নামে ইস্যু করা অস্ত্র দিয়ে মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন কনস্টেবল মাহামুদুল হাসান। তার বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায়। তিনি দেড়মাস আগে মাগুরায় বদলি হয়ে আসেন। এরআগে তিনি খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি খন্দকার লাবণীর দেহরক্ষী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এদিকে অ্যাডিশনাল এসপি পদমর্যাদা এবং কনস্টেবল পদমর্যাদার দুই পুলিশ সদস্যের ‘আত্মহত্যার’ ঘটনা গত বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। প্রশ্ন তৈরি হয়, কেন কাছাকাছি সময়ে দুই পুলিশ সদস্য আত্মহত্যা করেছে। আসলেই কী তাদের মধ্যে কোনও সম্পর্ক ছিল? নাকি ঘটনা দুটি কাকতালীয়। অ্যাডিশনাল এসপি লাবণী আক্তারের একসময়ের বডি গার্ড ছিল কনস্টেবল মাহমুদুল হাসান। জানা গেছে, অ্যাডিশনাল এসপি লাবণী আক্তারের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন পুলিশ কনস্টেবল মাহমুদুল হাসান। এক বছরের বেশি সময় ধরে লাবণীর বডি গার্ড হিসেবে কাজ করতে গিয়ে তারা একজন আরেকজনকে ভালোবেসে ফেলেন। সময়ের সাথে সাথে বেড়ে যায় তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা। তাদের এই সম্পর্ক এবং ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি লাবণীর স্বামী তারেক আব্দুল্লাহ আঁচ করতে পারেন। এ নিয়ে অসুস্থ স্বামীর সাথে মনোমালিন্যও হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, বিসিএস ৩০ ব্যাচের কর্মকর্তা অ্যাডিশনাল এসপি লাবণী আক্তারের বডি গার্ড হিসেবে বছর খানেক কাজ করে ২০১৯ সালে কনস্টেবল পদে যোগ দেওয়া মাহমুদুল হাসান। দেড় মাস আগে মাগুরায় বদলি করা হয় কনস্টেবল মাহমুদুল হাসানকে। তাদের দুই জনের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক থাকার পরও বদলি ঠেকাতে পারেনি লাবণী আক্তার। এ নিয়ে দুজনের মধ্যেই হতাশা কাজ করছিল। ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য চেষ্টাও চালিয়েছিলেন তিনি। সূত্র বলছে, মাগুরা পুলিশ লাইন্সে দায়িত্বরত ছিলেন কনস্টেবল মাহমুদুল হাসান। কিন্তু সেখানে তার ডিউটি পছন্দ হয়নি। সে অন্য জায়গায় ডিউটি করতে চেয়েছিল। এ কারণে ব্যবস্থা নিতে লাবণীকে তাগিদ দেয় মাহমুদুল। একদিকে ভালবাসার মানুষের জন্য কিছু করতে না পারার কষ্ট, অন্য দিকে অসুস্থ স্বামী, এ ছাড়া ২ মেয়ের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিতে না পারা নিয়ে তীব্র মনোকষ্টে পরে যান লাবণী। ধারণা করা হচ্ছেÑ এই ক্ষোভ ও হতাশা থেকেই ‘আত্মহত্যার’ পথ বেছে নেন লাবণী। সে খবর পাওয়ার পর প্রেমিক কনস্টেবল মাহমুদুল হাসানও নিজের অস্ত্র দিয়ে মাথায় গুলি করে ‘আত্মহত্যার’ পথ বেছে নেয়। মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসানবলেন, তাদের আত্মহত্যার ঘটনায় কোনও যোগসূত্র রয়েছে কিনা তার তদন্ত চলছে। এর আগে কিছু বলা সম্ভব নয়। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ফরেনসিক করানো হবে। তদন্ত ছাড়া তাদের দুজনের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কিছু নিশ্চিত হয়ে বলা যাবে না। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন লাবণী আক্তার। তিন দিন আগে ছুটি নিয়ে তিনি মাগুরায় তার নানা বাড়িতে আসেন। সেখানেই বুধবার রাতে সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন পুলিশের এই কর্মকর্তা। এদিকে, নাইট ডিউটি শেষে গত বৃহস্পতিবার সকালে মাগুরা পুলিশ লাইন্স ব্যারাকে নিজের অস্ত্র দিয়ে মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করে কনস্টেবল মাহমুদুল হাসান। মাগুরা জেলা পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করে। দুই কন্যা সন্তানের জননী পুলিশ কর্মকর্তা লাবণী আক্তারের স্বামী বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক তারেক আব্দুল্লাহ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে ভারতের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। লাবণী আক্তারের বাবার দাবি স্বামীর সাথে কলহের জেরে লাবণী আত্মহত্যা করেছেন। এদিকে, কনস্টেবল মাহমুদুল হাসানের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলছেন তার বাবা।
সর্বশেষঃ
মাগুরায় এডিসি লাবণী, কুষ্টিয়ায় কনস্টেবল মাহমুদুলের দাফন সম্পন্ন
-
দৈনিক আইন বার্তা
- আপডেট সময়ঃ ০৮:০২:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ জুলাই ২০২২
- ২৮৯ বার পড়া হয়েছে
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ